সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

।।পাবনা-৫।। আ’লীগের একক প্রার্থী প্রিন্স- বিএনপির একক প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা

 

বার্তাকক্ষ : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততটাই পাবনার ৫টি আসনে বইছে নিবার্চনী হাওয়া। বতর্মান সাংসদের অনুসারীরা শহরে পোস্টার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ব্যানার লাগিয়েছেন।

চলছে প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সাক্ষাৎ।

পাবনা-৫ (সদর) আসন নিয়েই জেলাবাসীর কৌতুহল বেশি। ইতিমধ্যে এ আসনে বতর্মান সাংসদ গোলাম ফারুক প্রিন্সই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ্যে চলে এসেছেন।

বিএনপির একক প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী, বিআইডব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বতর্মানে তিনি কারাগারে থাকায় বিএনপির তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। শিমুল বিশ্বাস একক প্রার্থী হলেও মূলত কেন্দ্রের নিদের্শনার দিকে তাকিয়ে আছে পাবনা জেলা বিএনপির নেতৃস্থানীয় নেতারা।

এ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫০টি ভোট কক্ষ এবং ৩৩৫টি ভোটার এলাকা রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮২৩ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৭৯ জন।

আসন্ন নিবার্চনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি প্রচার প্রচারণায় আছেন অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

এরা হলেন শিক্ষানুরাগী, সাংবাদিক ও লেখক জেলা জাসদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম রাঙা।

একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, লালন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি, সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি, পাবনা জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড জাকির হোসেন।

পাবনা জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কদর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে তাদের দাবি, এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য একক প্রার্থী বতর্মান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স।

তার নেতৃত্বে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সংগঠিত।

তার আমলে এ আসনের ১০ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা চোখে পড়ার মতো। সৎ, নিরপেক্ষ ও কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে পাবনার জনগণ তাকেই আবারও এমপি হিসেবে দেখতে চান।

নিবার্চনের বিষয়ে কথা বলতেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল রহিম লাল বলেন, একাদশ সংসদ নিবার্চনে প্রার্থিতার বিষয়ে তাদের কোন কথা নেই।
জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তারা তার পক্ষেই নিবার্চন করবেন।

তবে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তারা বতর্মান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সকেই একক প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।

প্রিন্সের নেতৃত্বে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ সুশৃংখল ও সুসংগঠিত। পাবনার হাজার হাজার ছেলেমেয়ের বিনা পয়সায় চাকরি হয়েছে প্রিন্সের হাত দিয়ে।

সকল দিক বিবেচনা করে তারা প্রিন্সকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করতে চান।

জেলা কৃষক লীগের সভাপতি শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির জন্য পাবনাবাসীর কাছে প্রিন্সের গ্রহণযোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই।

পাবনার উন্নয়নের স্বার্থেই তারা তাকেই সংসদ সদস্য হিসেবে চান।

অন্যদিকে পাবনা সদর আসনে বিএনপির কাউকে জনসংযোগ বা প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা যাচ্ছে না।

তবে সম্প্রতি কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতা-কর্মী ও শিমুল বিশ্বাসের সমর্থকরা জানান, এই আসনটি মূলত বিএনপির।

গত নিবার্চনে এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুস সুবহানকে সমথর্ন দিয়ে শিমুল বিশ্বাস তার পক্ষে কাজ করেন।

শিমুল বিশ্বাস জোট সরকারের সময় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে এবং কয়েকশ যুবককে চাকরি প্রদান করে সাধারণ ভোটারের মাঝে রয়েছে আলাদা ইমেজ।

এছাড়াও গত ১০ বছরে পাবনার বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়েতি দাতাসংস্থার সহায়তায় প্রায় ২০টির মতো মসজিদ নিমার্ণ করে দিয়ে ধমর্প্রাণ ভোটারদের মনও কেড়েছেন।

তাই বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে এ বিষয়গুলো তার জন্য ভালো ফল দাঁড়াতে পারে এমনটাই মনে করেন তার সমথর্করা।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, জোট সরকারের বিগত ৫ বছরে নিজেদের ভালো অবস্থান থাকা সত্তেও জামায়াতের কাছে তারা ছিলেন বঞ্চিত এবং নিগৃহীত।

তবে শিমুল বিশ্বাস জেল থেকে ছাড়া না পেলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন এর পরিষ্কার কোনো জবাব নেই বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে।

অন্যদিকে আসন্ন নিবার্চনকে সামনে রেখে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইকবাল হুসাইন গোপনে গোপনে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তার ডিজিটাল ব্যানার চোখে পড়ছে। তাদের দাবি বিএনপি জামায়াত জোট থাকলে এ আসনটি জামায়াতকেই দিতে হবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, বিএনপি নিবার্চনে আসার ওপর নির্ভর করছে এ আসনে প্রার্থীর মনোনয়ন।

দল যদি নিবার্চনে যায় তাহলে এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, এ আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। অতীতের যে কোনো নিবার্চনে খেয়াল করলে দেখা যাবে বিএনপি সব সময় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে।

এবারও সুষ্ঠু নিবার্চন হলে তাদের প্রার্থী শিমুল বিশ্বাস জয়ী হবেন।

এদিকে নিবার্চন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তি ইমেজ, সততা, নিষ্ঠাই এ আসনে প্রার্থী নির্বাচিত করার ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।

আর সেই আমলনামাতেই বিএনপি-জামায়াতের যে প্রাথীর্ই নিবার্চনী মাঠে আসুক না কেন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্সের বিকল্প নেই।

জেলা জাসদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম রাঙা বলেন, দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তারপরও জোটগত সিদ্ধান্ত এবং স্বার্থের বাইরে নন।

জোটগতভাবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাকেই সামনে রেখে কাজ করবেন। রাঙা বলেন, ১৯০ বছরের প্রাচীন এই জেলা এখনও অনুন্নত রয়েছে। মনোনয়ন পেয়ে নিবার্চিত হতে পারলে আধুনিকায়নের সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সৎ, স্বচ্ছ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নেতৃত্বই আমাদের মূল লক্ষ্য।

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড জাকির হোসেন বলেন, এ জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী ‘ইছামতি’ নদী অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে পূর্বের প্রাণ ফিরিয়ে এনে পরিকল্পিতভাবে নদীর স্রোতধারা রক্ষা করা।

দু’পাড়ে বিনোদন পার্ক নিমার্ণ করা। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিশ্রাম, আরামে বিনোদনের জন্য ইকোপার্ক নিমার্ণ করা।

জাকির বলেন, পাবনা থেকে টেন্ডারবাজি বন্ধ, মাদক নিমূর্ল ও সন্ত্রাসী কমর্কাণ্ড বন্ধের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

জেলা জাতীয় পাটির্র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের কদর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

তিনি দল থেকে মনোনয়ন পেলে নিবার্চন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে প্রথমেই তিনি এলাকার বেকার সমস্যা দূরীকরণে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাস্তাঘাট নির্মাণ, চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাঘাট মেরামত, শিক্ষা ক্ষেত্রে মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

তিনি ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পাবনা গঠনে বদ্ধ পরিকর। তিনি পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীর পূর্বের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন।

জামায়াতে ইসলাম : পাবনা জেলা অতীত থেকেই জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বাড়ি পাবনায়।

পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে পাবনা-১ ও পাবনা-৫ আসন দীঘির্দন জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় পাবনায় জামায়াতের প্রভাব এমন হয়েছিল যে, ৪ দলীয় জোটের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদেরও তারা হিসাব করত না।

কিন্তু তাদের প্রভাবশালী নেতা জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সুবহানসহ বেশ কিছু নেতা ৭১’র মানবতা বিরোধী অপরাধে কারাগারে আটক থাকায় জামায়াত নেতাকর্মীরা এক রকম কান্ডারিহীন অবস্থায় চলছেন।

বিভিন্ন হরতালের সময় সড়ক-মহাসড়কে নাশকতা, সড়কের পাশে গাছ কর্তন, যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বোমাবাজির ২২৬টি মামলায় জেলার ৩২ হাজার নেতাকর্মী আসামী হয়েছেন।

এদের মধ্যে ৫২ জন কারাগারে এবং বাকিরা একাধিক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে পুলিশের ভয়ে দীঘির্দন পলাতক থেকে ফেরারি জীবনযাপন করছেন।

মোটকথা জামায়াত নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে আত্মরক্ষার্তে গা ঢাকা দিয়েছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চনে জামায়াতের প্রার্থীতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মুখ না খুললেও জামায়াতের হাফেজ মাওলানা ইকবাল হুসাইন এ আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মিলিয়ে পাবনা সদর আসনটিতে আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক প্রিন্সের অবস্থানই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।

তবে বিএনপির শিমুল বিশ্বাস ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হলে লড়াই কিছুটা জমবে বলে মনে করেন তারা।

তবে সচেতন মহলের অভিমত, পরপর দু’বার ক্ষমতায় আসীন গোলাম ফারুক প্রিন্স রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে অবস্থান, সংসদে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া অধিকাংশ সময় তিনি নিবার্চনী এলাকাতেই অবস্থান করেন।

তিনি নিবার্চনী এলাকা পুরো চষে বেড়ান। তৃণমূলের নেতাকর্মী, সমথর্ক এমনকি সাধারণ মানুষের সাথেও মিশে যান আপন মেধায়।

অন্যদিকে নানা মামলার হুলিয়া নিয়ে কারাগারে আছেন এডভোকেট শামসুর রহমান শিমূল বিশ্বাস।

নিবার্চনের আগে তিনি মুক্ত হয়ে আদৌ পাবনায় নিবার্চন করবেন কিনা সেটা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

অভিজ্ঞজনদের অভিমত, শিমুল বিশ্বাস প্রার্থী না হলে বিএনপিকে প্রার্থী সংকটের মধ্যেই পড়তে হবে। তবে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দাবি, শিমুল বিশ্বাসই তাদের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী।

পূবর্কথা : পাবনায় ৪ দলীয় জোটে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে অনেকটা শীতল সম্পর্ক থাকলেও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কারও কিছু করার থাকে না।

১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নিবার্চনে এই আসনটি জামায়াত-বিএনপির দখলেই ছিল।

১৯৯১ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আব্দুস সুবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুলকে পরাজিত করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজিউদ্দিন খানের সঙ্গে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দ্বন্দের কারণে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম বকুল ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগদান করলে এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।

১৯৯৬ সালের নিবার্চনে রফিকুল ইসলাম বকুল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় সর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মাশার্ল (অব.) একে খন্দকারকে পরাজিত করেন।

এই নিবার্চনে খন্দকার একদিকে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দের শিকার হন এবং অন্যদিকে বকুলের জনপ্রিয়তায় পরিস্থিতি আঁচ করে জামায়াত বকুলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভোট প্রদান করে।

অবশ্য ২০০০ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুঘর্টনায় রফিকুল ইসলাম বকুলের আকস্মিক মৃত্যুতে এই আসনে উপ-নিবার্চনে আওয়ামী লীগের মাজাহার আলী কাদেরী (এম এ কাদেরী) নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের নিবার্চনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবদুস সুবহান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজি উদ্দিন খানকে পরাজিত করেন।

২০০৮ সালের নিবার্চনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্স বিপুল ভোটে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পরাজিত করেন।

সেই থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে। কিন্তু আসনটি ফিরে পাওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত এখনও মরিয়া।

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!