মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

অগ্নিঝরা ১৩ই মার্চ: ইতিহাসের এই দিনে

মার্চ মাস আমাদের গৌরবের মাস, অহংকারের মাস, স্বাধীনতা ঘোষণার মাস, আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাস। এই মাসেই রচিত হয় গৌরবগাঁথা এক মহাকাব্য বাংলাদেশ। একাত্তরের মার্চ মাসে যত দিন গড়াচ্ছিল, স্বাধীনতাকামী বাঙালির ঐক্য ততই সুদৃঢ় হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে তখনকার চলমান অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ি ও দৃঢ় একাত্মতা ঘোষণা করছিল বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন। অসহযোগ আন্দোলনের এক সপ্তাহ পর দেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আজ ঐতিহাসিক ১৩ মার্চ। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে সারা পূর্ব বাংলা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে ছিল উত্তাল। ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ সামরিক শাসন কর্তৃপক্ষ ১১৫ নং সামরিক আদেশ জারি করে। আদেশে ১৫ মার্চ সকাল ১০টার মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে যোগদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরীচ্যুত ও পলাতক ঘোষণা করে সামরিক আদালতে বিচার করা হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
এই নির্দেশ জারির পরই বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যখন আমরা সামরিক শাসন প্রত্যাহারের জন্য বাংলার জনগণের প্রচণ্ড দাবির কথা ঘোষণা করেছি ঠিক তখন নতুন করে এ ধরণের সামরিক নির্দেশ জারি পক্ষান্তরে জনসাধারণকে উস্কানি দেয়ার শামিল।’ তিনি বলেন, ‘জনগণকে যত ভয়ই দেখানো হোকনা কেন তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
এই দিনে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক জনসভায় মওলানা ভাসানী বলেন, ‘পূর্ব বাংলা এখন মূলত স্বাধীন, বাঙালী এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের অপেক্ষায়।’
ন্যাপ সভাপতি খান আবদুল ওয়ালী ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো সকালে করাচী থেকে ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধুর চার দফা সমর্থন করে বিমানবন্দরে ন্যাপ প্রধান বলেন, ‘বর্তমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমি খোলা মনে ঢাকায় এসেছি। সামরিক শাসন প্রত্যাহার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একমত।’ আজম খান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ক্ষমতা হস্তান্তরই বর্তমান সমস্যার একমাত্র সমাধান।’
অন্যদিকে ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বাঙালি জাতির উপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রামের শেরশাহ, ফিরোজ শাহ কলোনী, পতেঙ্গা, রেলওয়ে কলোনী, হালিশহর, পাহাড়তলীর বিহারী কলোনীগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
এদিন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ত্যাগকারীদের বাড়ি, গাড়ি, সম্পদ কিনে বাংলার অর্থ বিদেশে পাচারে সহযোগিতা না করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে প্রতিটি গ্রাম, শহর, বন্দর, নগরে চলতে থাকে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন। স্বাধীনতার লক্ষ্য সামনে রেখে জাতি চূড়ান্ত পর্বের জন্য তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিলে তিলে গড়ে উঠা এমন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জন্ম হয়েছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১৪
    যোহরদুপুর ১১:৫৫
    আছরবিকাল ১৬:৩৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩৬
    এশা রাত ২০:০৬

পাবনা এলাকার সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি

© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!