রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

অবশেষে ভাষা মতিনের জন্মভূমি পেল শহীদ মিনার

সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিনের (ভাষা মতিন) নিজ জন্মভূমি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দুর্গম শৈলজানা চরে অবশেষে নির্মাণ হলো শহীদ মিনার।

একুশে ফেব্রুয়ারিতে এখন আর বাঁশ ও কলাগাছের মিনারে দিতে হবে না শ্রদ্ধাঞ্জলি। কয়েক মাস আগেই শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ভাষা মতিনের স্মৃতি রক্ষার্থে উপজেলা সদরে একটি পাঠাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

জানা যায়, ‘৫২-র বাংলা ভাষা আন্দোলনের আহ্বায়ক প্রয়াত ভাষা মতিনের (ছাত্র মতিন) জন্মস্থান চৌহালী-এনায়েতপুরের জনপদ।

তার জন্মভূমি চৌহালীর শৈলজানা চরের চাঁন্দইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ২০১০ সালের দিকে বেসরকারি এনজিওর অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

সেই সময় শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেছিলেন ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন নিজেই। সেখানেই প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা জানাতেন যমুনা চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

হঠাৎ ২০১৪ সালে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় শহীদ মিনার ও বিদ্যালয় ভবন। সে বছরই বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে অকাঠামো তৈরি করা হলেও শহীদ মিনারটি আর নির্মাণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর পর প্রতি বছর স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশ ও কলাগাছ দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতেন সবাই।

পরে এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় কয়েক মাস আগে জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একই চরের শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ইট, সিমেন্টের একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

এ বিষয়ে শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল আলিম জানান, প্রতি বছর কলাগাছ ও বাঁশের তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও প্রকৃত সুখ পাওয়া যেত না। এবার ইট-সিমেন্টে গড়া স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারব।

এ নিয়ে আমাদের মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে। ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশেদুল, আম্বিয়া ও জহুরুল খুব খুশি। তারা বলে, আমরা এখন ২১ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় আছি। ওই দিন স্যার ও ম্যাডামদের সঙ্গে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দেব।

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম গণি মোল্লা ও স্থানীয় শিক্ষক আবদুর রশিদ বাবুল বলেন, শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক দিনের আশা পূরণ হয়েছে। এখন অপেক্ষা ২১ ফেব্রুয়ারির।

এ ছাড়া ভাষাসৈনিক মতিনের সম্মানে প্রতি বছর চৌহালীতে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজনের দাবি জানিয়ে তারা আরও বলেন, চৌহালী সদরে সরকারি উদ্যোগে একটি গণপাঠাগার স্থাপন করলে উপকৃত হবে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহির জানান, দেড় সপ্তাহ হলো চৌহালীতে যোগদান করেছি, ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের সম্মানে চৌহালীতে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে পালন ও স্মৃতি রক্ষার্থে একটি পাঠাগার স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে অতিগুরুত্বের সঙ্গে অবগত করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪৫
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৫
    আছরবিকাল ১৬:৩৫
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩৮
    এশা রাত ২০:০৮

পাবনা এলাকার সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি

© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!