মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

অভিমানে নীরব তারেক?

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। এর মাঝে বিএনপির নিজ ঘরেও আগুন লেগেছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেকের স্বেচ্ছাচারিতায় দ্বিধাবিভক্ত এখন বিএনপি। এতদিন ব্যাপারটা গোপন থাকলেও আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বারবার অনুরোধ করা স্বত্বেও তারেকের অনুরোধ রাখেনি জামায়াত। এদিকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ঘরেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। তাকে আবেদন প্রত্যাহারের জন্য তারেক রহমান অনুরোধ করলেও, তিনি অনুরোধ শোনেননি। তবে কি দলে এবং জোটে তারেক রহমানের আধিপত্যে ভাটা পড়েছে? সে প্রশ্নই এখন ঘুরে ফিরে আসছে সবার মনে। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে নিজ দল ও ২০-দলীয় জোট কি এক হতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা রয়েছে তৃণমূলে। যার প্রতিফলন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পড়বে বলে তারা মনে করে। রয়েছে গাজীপুরের মত ভরাডুবির আশঙ্কা।

দল ও জোটে এমন বৈরী পরিস্থিতিতে হতাশ তারেক রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, হতাশা ও অভিমানে তারেক রহমান তেমন কারো সাথে যোগাযোগ করেছেন না। অনেক সিনিয়র নেতা দলীয় প্রয়োজনে তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে দলের নীতিনির্ধারকরা পড়েছেন বিপাকে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

সময়ে অসময়ে দলের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের সাথে খারাপ ব্যবহারের দুর্নাম আগে থেকেই রয়েছে তারেক রহমানের। এহেন ব্যবহারে নেতারা ত্যক্ত বিরক্ত। যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান দলে ও জোটে তার নিজের অবস্থান নিয়েও শঙ্কিত। তার কমান্ড মানতে নেতাদের এমন গড়িমসিতে হতাশ তারেক রহমান।

সিনিয়র নেতাদের মাঝে এমন দূরত্ব এবং দল ও জোটের হ য ব র ল অবস্থায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির চরম পরাজয় ঘটবে বলেই মনে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!