মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:১২ অপরাহ্ন

অ্যান্টিবায়োটিক থেকে দূরে থাকুন

ড. আবু সাইদ, শিশু বিশেষজ্ঞ

শরীরে জীবাণু সংক্রমণ হলে বা জীবাণু সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। প্রত্যেক রোগীর উচিত চিকিৎসকের নির্দেশক্রমে অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ পূর্ণ করা এবং সময়মতো ওষুধ সেবন করা। সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সাধারণ রোগের জন্য আমরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করি, যা একদম ঠিক নয়। দোকানের কম্পাউন্ডার বা নিজের মনগড়া হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা আর নিজেকে রোগের কাছে বলি দেওয়া একই কথা। অ্যান্টিবায়োটিক। এটি অ্যান্টি আর বায়োস শব্দ থেকে এসেছে। অ্যান্টি অর্থ হলো বিরুদ্ধে আর বায়োস অর্থ জীবন। মূলত এন্টিবায়োটিক জীবিত ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবের বিপরীতে কাজ করে। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে যেসব রোগ হয়, সেগুলো নির্মূলের জন্য তা ব্যবহার করা হয়। এজন্য ভাইরাসজনিত রোগের বিপরীতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকরী নয়। আপনি যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন তখন সেটি কয়েকটি ধাপে কাজ সম্পন্ন করবে। প্রথমত ওষুধটির হাফ লাইফের ওপর বা শরীরে ঢুকে তা মেটাবলিজম বা আত্মকরণের মাধ্যমে যতক্ষণে রক্তে প্রবেশ করবে তার ওপর নির্ভর করবে আপনি তা কতক্ষণ পর পর খাবেন। আর কতদিন খেতে হবে তা নির্ভর করবে আপনার কী রোগ হয়েছে অর্থাৎ আপনি কী ধরনের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তার ওপর। চিকিৎসক রক্ত, কফ, শরীরের বিভিন্ন ফ্লুইড প্রয়োজনে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই আপনার ডোজটি নির্ধারণ করে দেবেন।এখন প্রশ্ন হলো আপনি কী কারণে কোর্স বা ডোজ সম্পন্ন করবেন। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধটি খাওয়ার পর কয়েকটি ধাপে কাজ সম্পন্ন করে থাকে। প্রথমত আপনি ওষুধ খেলেন, ওষুধটি সেবনের পর আপনার দেহের অভ্যন্তরে তা মেটাবলিজম হবে। কিছু নতুন জীবাণু সে তৈরি করবে এবং সবশেষ ধাপে আপনার দেহের অভ্যন্তরস্থ জীবাণু, তার নিজের তৈরিকৃত জীবাণু এবং সে নিজেও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। আর এই ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার আগেই আপনি আরোগ্য লাভ করতে বা বোধ করতে পারেন। কেননা রোগের উৎস জীবাণুগুলোর পরিমাণ কমে গেলেও আপনি অনেকটা আরাম বোধ করতে পারেন। এ অবস্থায় ওষুধ সেবন করা বন্ধ করে দিলে, আপনি কিন্তু জীবাণুর হাত থেকে মুক্তি পেলেন না। আপনি ওষুধের ডোজ মিসিং কিংবা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেবন না করে অথবা ডোজ সম্পন্ন যদি না করেন তাহলে আপনার শরীরে অভ্যন্তরস্থ জীবাণুগুলো দ্রুত আপনার অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ওই অ্যান্টিবায়োটিকটির বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধ বলয় সৃষ্টি করবে। এজন্য ওই অ্যান্টিবায়োটিক আর আপনার দেহের ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারবে না। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিক রাখার পাশাপাশি, দিনে কয়বার খাবেন এবং তা খালি পেটে নাকি ভরা পেটে খাবেন তা অবশ্যই ঘণ্টা হিসাব করে সেবন করতে হবে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৬
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২৮
    এশা রাত ১৯:৫৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!