শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০১:১৫ অপরাহ্ন

আজ পাবনা জেলার ১৯০তম জন্মদিন

 

রনি ইমরান : আজ ১৬ অক্টোবর। আজ পাবনা জেলার ১৯০তম জন্মদিন।

১৭৯৩ সালে যখন চিরস্থায়ী বন্দবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন হয় তখন দেশের আয়তন ও সীমারেখার পরিবর্তন ঘটে এবং রাজশাহীর অন্তর্ভুক্ত হয় পাবনা।

১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৬ অক্টোবর সরকারের ৩১২৪ স্মারকে জেলা হিসেবে পাবনা গঠিত হয়। ১৮৫৫ এর ১২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা সিরাজগঞ্জ থানা পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮৭৫ এর ১৪ জানুয়ারি রায়গঞ্জ থানা পাবনার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৭১ পর্যন্ত বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা কুমারখালী এবং খোকসা থানা পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে পাংশাকে পাবনা থেকে আলাদা করে ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সময় কুমারখালী ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ শহর, কুমারখালী ছিল পাবনা জেলার একটি মহাকুমা।

ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিতে পাবনা জেলার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ভাষা সংগ্রাম আর সুমহান স্বাধীনতা সংগ্রামে এই জেলার মানুষদের বীরত্বপূর্ণ অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। বিশ্ব বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক, রাজনীতিক সাংবাদিক, শিল্প উদ্যোক্তা, বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানী, অভিনেতা-অভিনেত্রী পাবনা তথা গোটাদেশকে বিশ্ব দরবারে স্বগৌরবে তুলে ধরেছে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত নায়িকা মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্মভুমি পাবনা। এ পাবনায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব দর্শনীয় স্থান ও কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থাপনা।

পাবনার হেমায়েতপুরে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতাল, সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান শ্রী শ্রী অনুকুল ঠাকুরের জন্মভুমি । মসজিদ মন্দির জমিদারী আমলের বাড়ী ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পর্যটকদের নজরকাড়ে।

বৃটিশ স্থাপত্যের টেকসই নিদর্শন দেশের একমাত্র বৃহত্তর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত রেল সেতুর সাথে বর্তমানে লালন শাহ সেতু যুক্ত হয়ে এক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবার হাতছানি দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় পাবনাবাসী পেয়েছে ১০০ বছরের দাবীকৃত স্বপ্নের রেল।

বিশ্ব দরবারে স্বগৌরবে তুলে ধরার দেশের একমাত্র পারমাণবিক প্লান্ট পাবনায় অবস্থিত। স্কুল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল শিল্প কলকারখানার যে বিকাশ রয়েছে তা পাবনাবাসীর জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ।
কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত পাবনা বাসীর প্রাণের দাবী একটি বিনোদন পার্ক ও শহরের পেটের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ইছামতি নদী খনন।

এক সময় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ যে ইছামতি দিয়ে রাজার মতন গেছেন সে ইছামতি এখন ময়লা আবর্জনায় ভরা।

আজ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগেও নদীতে নৌকা চলত। এখন পাবনার মানুষের সবচেয়ে বড় দাবী ইছামতি খনন। ইছামতি নদী খননের জন্য পাবনা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন।
পাবনায় শিশুদের বিনোদনের জন্য নেই কোন বিনোদন পার্ক। অবসর বা ছুটির দিনে শিশুদের নিয়ে একটু আনন্দে মেতে উঠবে সেই পরিবেশ নেই বৃহত্তর পাবনা জেলায়।

পাবনার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছুটি দিনে দেখা যায় উপচে পড়া ভীর। একটু বিনোদন খুঁজে ফিরে পাবনাবাসী। যদি একটি অত্যাধুনিক বিনোদন পার্ক পাবনায় স্থাপন করা হয় তবে পাবনাবাসী অবসরে সময় কাটাতে পারে।
পাবনার একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক লেখক কলামিস্ট রণেশ মৈত্র জানান, ইছামতি নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। শহরকে সুন্দর করতে ইছামতি নদী খননের বিকল্প নেই।

সুশীল সমাজের জাকির হোসেন জানান, পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ইছামতি খনন ও বিনোদন পার্ক। পরিপূর্ণ পাবনা শহরের অন্তরায় রয়েছে বর্তমান ইছামতি নদী। তা খনন করে পরিকল্পিতভাবে সুন্দর শহর গড়ে তোলা সম্ভব।

শিক্ষক মো. আকমল হোসেন জানান, পাবনার গণ মানুষের প্রাণের দাবী ইছামতি খনন ও বিনোদন পার্ক। বর্তমান জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘আমারে পাবনা’ একটি গ্রুপের ইছামতি নদী খনন ও বিনোদন পার্কের দাবীতে তারা সোচ্চার রয়েছেন।

শিকড়ের মায়া জড়ানো আবাস ভূমিকে অপরূপ সুন্দর করে গড়ে তুলতে কে না চায়। পাবনাবাসীর প্রাণের দাবী ইছামতি নদী খনন ও একটি বিনোদন পার্কের।

এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলেই একটি অপরূপ সুন্দর শহর হবে পাবনা।

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!