বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

আজ পাবনা জেলার ১৯১তম জন্মদিন

রনি ইমরান,পাবনা : আজ ১৬ অক্টোবর। পাবনাবাসীর প্রাণের ঠিকানা পাবনা জেলার ১৯১তম জন্মদিন আজ।

১৭৯৩ সালে যখন চিরস্থায়ী বন্দবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন হয় তখন দেশের আয়তন ও সীমারেখার পরিবর্তন ঘটে এবং রাজশাহীর অন্তর্ভুক্ত হয় পাবনা।

১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৬ অক্টোবর সরকারের ৩১২৪ স্মারকে জেলা হিসেবে পাবনা গঠিত হয়। ১৮৫৫ এর ১২ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার সিরাজগঞ্জ থানা পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮৭৫ এর ১৪ জানুয়ারি রায়গঞ্জ থানা পাবনার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৭১ পর্যন্ত বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা কুমারখালী এবং খোকসা থানা পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে পাংশাকে পাবনা থেকে আলাদা করে ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সময় কুমারখালী ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ শহর, কুমারখালী ছিল পাবনা জেলার একটি মহাকুমা।

১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জেলায় প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। প্রথম মোটর সার্ভিসের প্রবর্তন করা হয় ১৯২৬ সালে। ১৯৪০ সালের পর পাবনা শহরে রিকশার প্রচলন ঘটে।

হোসিয়ারী শিল্প, তাঁত শিল্প, কাঁচি শিল্প, বেনারসি-কাতানসহ অন্যান্য শিল্প সমৃদ্ধ এই জেলা একসময়ে ছিল দেশের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। ৩৫১ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পাবনা জেলা বর্তমানে ৯টি উপজেলা ও ৭৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

গত ২০১০ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৯৭ হাজার জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৫০ হাজার এবং নারী ১২ লাখ ৪৭ হাজার জন।

পাবনার উপজেলাগুলো হলো- পাবনা সদর, আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী, বেড়া, সুজানগর, সাথিয়া, চাটমহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর।

ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিতে পাবনা জেলার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ভাষা সংগ্রাম আর সুমহান স্বাধীনতা সংগ্রামে এই জেলার মানুষদের বীরত্বপূর্ণ অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

বিশ্ব বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক, রাজনীতিক সাংবাদিক, শিল্প উদ্যোক্তা, বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞানী, অভিনেতা-অভিনেত্রী পাবনা তথা গোটাদেশকে বিশ্ব দরবারে স্বগৌরবে তুলে ধরেছে।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্মভুমি পাবনা। এ পাবনায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব দর্শনীয় স্থান ও কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকা ঐতিহাসিক স্থাপনা।

পাবনার হেমায়েতপুরে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতাল, সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান শ্রী শ্রী অনুকুল ঠাকুরের জন্মভুমি।

মসজিদ মন্দির জমিদারী আমলের বাড়ী ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পর্যটকদের নজরকাড়ে।

বৃটিশ স্থাপত্যের টেকসই নিদর্শন দেশের একমাত্র বৃহত্তর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত রেল সেতুর সাথে বর্তমানে লালন শাহ সেতু যুক্ত হয়ে এক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবার হাতছানি দিচ্ছে।

ছুটির দিন বা বিশেষ দিনে দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন এখানে। সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিলে দেশের এই স্থানটি অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ায় পাবনাবাসী পেয়েছে ১০০ বছরের দাবীকৃত স্বপ্নের রেল।

তবে কাঙ্খিত রেল সুবিধা পেলেও এখন ঢাকা টু পাবনা সরাসরি ট্রেন চায় পাবনাবাসী।

বিশ্ব দরবারে স্বগৌরবে তুলে ধরার দেশের একমাত্র পারমাণবিক শক্তি প্রকল্প পাবনায় অবস্থিত। স্কুল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল শিল্প কলকারখানার যে বিকাশ রয়েছে তা পাবনাবাসীর জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ।

কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত পাবনাবাসীর প্রাণের দাবী একটি বিনোদন পার্ক। পাবনায় কোনো বিনোদন পার্ক নেই। অন্তত শিশুদের কথা চিন্তা করে একটি শিশু পার্ক গোড়ে তোলা সময়ের দাবী হয়ে দাড়িয়েছে।

পাবনার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছুটির দিনে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। একটু বিনোদন খুঁজে ফিরে পাবনাবাসী।

এছাড়া পাবনা পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবী পাবনাবাসীর এবং সময়ের সাথে সাথে দেশের যে বিকাশ হচ্ছে তাতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে পাবনা জেলার সংযুক্তিসহ বেশ কয়েকটি দাবী পাবনার জনমানুষের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

রাজধানীর সাথে পবনাসহ কয়েকটি জেলার যাতায়াতের দূরত্ব বর্তমান দূরত্বের চেয়ে ১০০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে পাবনা জেলার সংযুক্তি ঘটালে।

পাবনা শহরের পেটের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ইছামতি নদী আজ মৃত প্রায়। এক সময় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ যে ইছামতি দিয়ে কুষ্টিয়া যেতেন সেই ইছামতি নদী এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে।

অথচ আজ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগেও নদীতে নৌকা চলত। এখন পাবনার মানুষের সবচেয়ে বড় দাবী ইছামতি খনন।

পাবনার একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক লেখক কলামিস্ট রণেশ মৈত্র জানান, ইছামতি নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। শহরকে সুন্দর করতে ইছামতি নদী খননের বিকল্প নেই।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সাথে পাবনা জেলার সংযুক্তি স্থাপন হলে শুধু পাবনা নয় গোটা নর্থ বেঙ্গলে নতুন দিগন্ত আসবে। কৃষক তাদের পণ্য দিনে দিনেই পৌঁছাতে পারবে রাজধানীতে।

সময় বাচবে, যানজট কমবে। নতুন নতুন মিল কলকারখানা গড়ে উঠবে। নগরবাড়ী একটি বৃহত্তর নৌ বন্দরসহ এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বানিজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যুরো চিফ সাংবাদিক উৎপল মীর্জা বলেন, পাবনাবাসীর যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘকাল পর পাবনার জন্য রেল সুবিধা এলেও রাজধানীর সাথে পাবনার সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে না। এতে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।

শিকড়ের মায়া জড়ানো আবাস ভূমিকে অপরূপ সুন্দর করে গড়ে তুলতে কে না চায়।

এসব জনদাবী পূরণ হলে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে নতুন দিনের সূচনার পাশাপাশি একটি অপরূপ সুন্দর শহর হবে পাবনা।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৫৫
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:১৬
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১২
    এশা রাত ১৮:৪২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!