রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

আটঘরিয়ায় সাংবাদিকদের মিলন মেলায় এক দিন

আটঘরিয়ায় সাংবাদিকদের মিলন মেলায় এক দিন

।। এবাদত আলী ।।  বৈশাখ মাসের শেষ প্রান্তে প্রচন্ড রোদের তাপ এবং ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করেই শোভাযাত্রায় শরিক হতে হলো। বয়সের ভার কিছুটা বাধাগ্রস্তকরতে চাইলেও আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিদ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন বাবু ও অন্যান্য সাংবাদিক বন্ধুদের অনুরোধ উপেক্ষা করা সম্ভব হলোনা।

তাই সেদিন ৭ মে -২০১৭, আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের গৌরবের ও ঐতিহ্যের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসুচির অংশ হিসেবে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে হলো। আর এই শোভাযাত্রার শ্রীবৃদ্ধি হলো আটঘরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোরশেদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আটঘরিয়া উপজেলা কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জহুরুল হক, আটঘরিয়া উপেেজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল গফুর মিয়া ও অন্যান্য অতিথি বর্গেরঅংশগ্রহণের কারণে।

সন্মানিত অতিথিবর্গ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হতেই উপস্থিত সকলকে ভাই ভাই মটরস, দেবোত্তর বাজার, পাবনা এর সৌজন্যে পাপ্ত একটি করে গেঞ্জি এবং মোঃ আব্দুস সবুরের সৌজন্যে একটি করে ক্যাপ দেয়া হলো। আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের ৩৯ বছর পুর্তি উৎসব সম্বলিত গেঞ্জিও ক্যাপ পরে তখন প্রেসক্লাবের ২৯ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় সকল সদস্যসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উক্ত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করলেন।

এরপর প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিতের সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা হলে তিনি স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথি বর্গ, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আমিরুল ইসলাম রাঙা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবাদত আলী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ ইয়াছিন, মোঃ হাসান আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নাট্যকার এইচ কে এম আবু বকর সিদ্দিকসহ উপস্থিত সাংবাদিক বৃন্দ, ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রতি আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রানঢালা সুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

তিনি তার বক্তব্যে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এভাবেই তুলে ধরলেন

“চন্দ্রাবতী, চিকনাই ও রত্নাই নদীর পলি বিধৌত জনপদ পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা। এই উপজেলায় একটি প্রেসক্লাব গঠনের কথা সর্বপ্রথম উত্থাপন করেন আটঘরিয়ার কৃতি সন্তান আমিরুল ইসলাম রাঙা। তিনি তাঁর বড় ভাই মেজর জেনারেল (অবঃ) আলহাজ নজরুল ইসলামের বাল্যবন্ধু সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবাদত আলীকে একদিন আটঘরিয়া প্রেস ক্লাব গঠনের প্রস্তাব দেন। এবাদত আলী লেখালেখির সাথে আগে থেকেই যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরে ১৯৭২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার শাহজাদপুর থানা হতে গণবাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন উক্ত পত্রিকার উপদেষ্টা।

অপর দিকে আমিরুল ইসলাম রাঙা ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাবনা থেকে “সাপ্তাহিক ইছামতি” নামে পত্রিকা প্রকাশ করতেন। এ ছাড়া দেবোত্তরের আবদুস সাত্তার মিয়া ও লেখা লেখির সাথে যুক্ত ছিলেন। তাই তাঁর সাথেও আলাপ হলো প্রেস ক্লাব গঠনের বিষয় নিয়ে। এই তিন জন মিলে সিদ্ধান্ত হয় আটঘরিয়া প্রেসক্লাব গঠনের। আরো কথা হয় আটঘরিয়া পশু হাসপাতালের তৎকালিন পশু চিকিৎসক মোঃ আবদুল কাদেরের বড় ছেলে এস দাহার মাতলুর সাথে। তাই তাঁরা সকলে মিলে দেবোত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেন।

পরে দেবোত্তর বাজারের এক মাত্র চায়ের দোকান অর্থাৎ মজিবর রহমান ঠান্ডার চায়ের দোকানে বসে আটঘরিয়া প্রেসক্লাব গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৭৮ সালের ৭ মে তারিখে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এবাদত আলী সভাপতি, আবদুস সাত্তার মিয়া সাধারণ সম্পাদক এবং আমিরুল ইসলাম রাঙা ও এস দাহার মাতলু সদস্য হন। এর পর আরো চারজনকে, যেমন হাসান আলী, মোহাম্মদ ইয়াছিন, এইচ কেএম আবু বকর সিদ্দিক ও মোসলেম উদ্দিনকে সদস্য করা হয়।

পরবর্তীকালে অনেকেই এই প্রেসক্লাবের সদস্য পদ লাভ করেন। যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা মোট ২৯ জন। এ ভাবেই হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে চলে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের কার্যক্রম। পরের বছর মে মাসের ১ তারিখে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র রচনার জন্য প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ স্পাদক আব্দুস সাত্তার মিয়া, কোষাধ্যক্ষ এস দাহার মাতলু ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমিরুল ইসলাম রাঙার উপর দায়িত্ব প্রদান করা হলে তাঁরা একটি খসড়া গঠনতন্ত্রপ্রণয়ন করেন এবং তা ০৩/০৫/১৯৭৯ তারিখে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবাদত আলী, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমিরুল ইসলাম রাঙা, কোষাধ্যক্ষ এস দাহার মাতলু, কার্যনির্বাহী সদস্য এইচ কেএম আবু বকর সিদ্দিক, মোহাম্মদ ইয়াছিন, আব্দুল কুদ্দুস সাগর ও আব্দুস সাত্তার চৌধুরীসহ সাধারণ সভায় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যগণ মিলে তা অনুমোদন করেন।

উক্ত গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতেই প্রেসক্লাব পরিচালিত হতে থাকে। কিন্তু একেবারে বেমানান হলেও সত্য যে, দীর্ঘ ২২ বছর এই প্রেসক্লাবের নিজস্ব কোন জায়গা বা ঘর-দরজা ছিলনা। কখনো বা মৌখিক অনুমতি নিয়ে কখনো বা ভাড়া ঘরে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের কার্যক্রম চালানো হতো। এরই মাঝে আটঘরিয়া প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্নে ও পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য ক্লাবের ২২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবাদত আলী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মিয়া, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমিরুল ইসলাম রাঙা, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ইয়াছিন, মো: হাসান আলী ও এইচকেএম আবু বকর সিদ্দিককে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য পদ প্রদান করা হয়।

সেই সাথে আমিরুল ইসলাম রাঙাকে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। একথা আজ আনন্দের সাথেই বলতে হয় যে, ২০০১ সালে আটঘরিয়া উপজেলার তদানিন্তন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং উদারতার সাথে সাংবাদিকদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলা পরিষদের প্রস্তাবিত স্মৃতিসৌধের পাশে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেন।

শুধু তাই নয় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের ও ব্যবস্থা করেন তিনি।পরবর্তীকালে পাবনার কৃতি সন্তান, বিআইডাব্লিউটিসির সাবেক চেয়ারম্যান শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ২০০৬ সালে আর্থিক সহায়তা দান করলে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবন নির্মিত হয়।

কিন্তু প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন করা সম্ভব হয়না। বিগত ২০০৯ সালে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তাতে প্রধান অতিথি হিসাবে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পাবনা ৪ আসন অর্থাৎ আটঘরিয়া-ঈশ্বরদীর মাননীয় সংসদ সদস্য মহান ভাষা আন্দোলনের বীর যোদ্ধা ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব শামসুর রহমান শরীফ ডিলু (বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী) সাহেব এই প্রেসক্লাবে আগমণ করলে তাঁকে প্রেসক্লাবের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসক্লাবের নামে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেন। যা দিয়ে প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়রে কাজ সঠিকভাবে সমাধা করা হয়েছে যা আজ দৃশ্যমান বটে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার প্রারম্ভ বক্তব্য শেষ করলে উপস্থিত সুধিবৃন্দ, সাংবাদিক বৃন্দ এবং বিশেষ অতিথিবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আটঘরিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আমিরুল ইসলাম রাঙা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিস্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা এবাদত আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার মিয়া,মোহাম্মদ ইয়াছিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নাট্যকার এইচ কে এম আবু বকর সিদ্দিক ও হাসান আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এক সময় মিলন মেলার যবনিকাপাত ঘটে। (লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

 


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৩
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৫
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৭
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩০
    এশা রাত ২০:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!