শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:০০ অপরাহ্ন

আ. লীগের ৬৭ চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় গোলাম ফারুক প্রিন্সের নাম

 

নিজস্ব প্রতিনিধি : গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ‘কালের কন্ঠ’ প্রিন্ট সংস্করণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৬৭ চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে।

অত্যান্ত তথ্য নির্ভর সেই ৬৭ চূড়ান্ত প্রার্থীর নামের তালিকায় রয়েছে পাবনা- ৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের নাম।

এ সংবাদে আজ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শুরু করে সারা জেলা ব্যাপীই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স।

জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের একাধিক সূত্র গোলাম ফারুক প্রিন্স একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

 

গতকাল কালের কন্ঠে প্রকাশিত সংবাদটি নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তাতে কাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে—এসব বিষয়ে অবস্থান চূড়ান্ত করেছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়। নির্বাচনে শতাধিক আসনের জন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ৬৭ জনের নাম জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ওই সব আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ গোছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া বেশির ভাগ নেতাই বর্তমানে সংসদ সদস্য। বেশ কয়েকজন তরুণ জনপ্রিয় মুখও আছেন, যাঁরা প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার কথা কালের কণ্ঠ’র কাছে স্বীকারও করেছেন বেশ কয়েকজন নেতা।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা জানান, আগামী নির্বাচনে শতাধিক আসনে প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে তাঁদের মনোনয়ন বিএনপি নির্বাচনে এলেও পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিএনপি নির্বাচন করবে ধরে নিয়েই এই তালিকা করা হয়েছে।

দলের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে মনোনয়ন দিইনি। তবে যাঁদের অবস্থা ভালো এ রকম অনেককে বলা হয়েছে, আমাদের লিডার (শেখ হাসিনা) আভাস-ইঙ্গিত দিয়েছেন।’ অক্টোবরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আগেরবারের আদলে এবার নির্বাচনকালীন যে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে তাতে বিএনপির কাউকে রাখা হবে না। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়েই ছোট আকারের সরকার হবে। আর নির্বাচনকালে বর্তমান সংসদও বহাল থাকবে। সংসদের চলতি অধিবেশন অক্টোবর পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অক্টোবরের মাঝামাঝি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারে বাইরের কেউআসবে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, টেকনোক্র্যাট কেউ আসবে না। আকারটা ছোট হবে।’

আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রে বিভিন্ন আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম জানা গেছে তাঁরা হলেন—দিনাজপুর-২ আসনে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, জয়পুরহাট-২ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, নওগাঁ-৬ ইস্রাফিল আলম, রাজশাহী-৬ শাহরিয়ার আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, নাটোর-৩ জুনাইদ আহেমদ পলক, সিরাজগঞ্জ-১ মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-২ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পাবনা-৫ গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, কুষ্টিয়া-৩ মাহবুবউল আলম হানিফ, চুয়াডাঙ্গা-১ সোলায়মান হক জোয়ারদার সেলুন, যশোর-৩ কাজী নাবিল আহমেদ, মাগুরা-১ সাইফুজ্জামান শিখর, বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দিন, বাগেরহাট-৩ হাবিবুন নাহার, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৪ আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাতক্ষীরা-৪ এস এম জগলুল হায়দার, পটুয়াখালী-২ আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন, ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-৩ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-৪ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু, টাঙ্গাইল-১ ড. আবদুর রাজ্জাক, জামালপুর-৩ মির্জা আজম, শেরপুর-২ মতিয়া চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৬ নাজমুল হাসান পাপন, ঢাকা-৩ নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা-৭ ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, ঢাকা-৯ সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১০ শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১ এ কে এম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১২ আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, গাজীপুর-২ জাহিদ আহসান রাসেল, নরসিংদী-৪ নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ শামীম ওসমান, রাজবাড়ী-১ কাজী কেরামত আলী, ফরিদপুর-১ আবদুর রহমান, ফরিদপুর-৩ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৪ কাজী জাফর উল্যাহ, গোপালগঞ্জ-১ মুহম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ-২ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ শেখ হাসিনা, মাদারীপুর-১ নূরে আলম চৌধুরী, মাদারীপুর-২ শাজাহান খান, শরীয়তপুর-১ বি এম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-৩ নাহিম রাজ্জাক, সুনামগঞ্জ-৩ এম এ মান্নান, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এ বি তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-৫ আবদুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-১০ আ হ ম মুস্তফা কামাল, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের, চট্টগ্রাম-৭ ড. হাছান মাহমুদ, বান্দরবান বীর বাহাদুর উশৈ সিং।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। দলের নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যার পক্ষে থাকবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমার আসনের নেতাকর্মীরা প্রায় সকলেই আমার সঙ্গে আছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, ‘আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমি কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের প্রচার, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপকদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল ক্যাম্প, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় করছি।’

মাগুরা-১ আসনের সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, ‘আমার বাবা এই আসনের এমপি ছিলেন। তখন থেকেই আমরা নৌকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গ্রামেগঞ্জে সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়েছি। নেত্রীর নির্দেশে এখনো কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ নৌকার জয় হবে। মাগুরার মানুষ স্বপ্নেও যে উন্নয়ন ভাবেনি—রেলওয়ে, মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, স্টেডিয়াম নির্মাণসহ অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তাই মানুষ উন্নয়নের পক্ষে আমাকে সমর্থন দিচ্ছে।’

ঢাকা-৭ আসনের ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। সে অনুযায়ী আমার নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি।’

নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদপূর্তির আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ফলে যখন নির্বাচন হবে তখন বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। যদি কোনো বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন সংসদ বসতে পারবে। আর নির্বাচনকালে সংসদ সদস্যগণ তাঁদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালে যে সরকার থাকবে সেখানে বিএনপির কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন দলগুলোর প্রতিনিধি থাকবে মন্ত্রিসভায়। গত নির্বাচনে বিএনপির সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল। তখন তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। বিগত পাঁচ বছরে তারা গণতন্ত্রকে সংহত করতে কোনো ভূমিকা রাখেনি। উল্টো গণতন্ত্রকে নসাৎ করার নানা চক্রান্তে লিপ্ত থেকেছে। ফলে তাদের নির্বাচনকালের সরকারে রাখতে হবে কেন?’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধানে সংসদ বহাল থাকার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কাজেই নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান জাতীয় সংসদ বহাল থাকবে। তথ্য-সূত্র- কালের কন্ঠ

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!