রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

ঈদের এমন আমেজ যেনো থাকে বারো মাস

এ হামিদ রোড, পাবনা।

।। এবাদত আলী ।।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পাবনা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শিবজিত নাগের আমন্ত্রণে সেদিন ২৫ রমজান (২১ জুন-২০১৭খ্রিঃ) বুধবার পাবনা শহরের পুলিশ লাইন্সের পাশে অবস্থিত পিসিসিএস বাজার রেস্তোরার হল রুমে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মত বিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে যোগদানের জন্য আমার টেবুনিয়ার বাসা থেকে তড়ি-ঘড়ি করে বের হয়েছিলাম।

আমাদের দেশীয় রেওয়াজ অনুসারে যেকোন অনুষ্ঠানই নির্ধারিত সময়ে শুরু না হয়ে বেশ বিলম্ব করে শুরু করা হয়। রাজনৈতিক নেতা-নেত্রিদের অনুষ্ঠান হলে তো কোন কথাই নেই। সময়ের প্রতি উদাসিনতা যেন সবারই গা সওয়া।

কিন্তু ইফতার মাহফিলে তো আর সে সুযোগ নেই। ঠিক সময় মত হাজির হওয়া চাইই। সিএনজি চালিত অটোট্যাম্পো থেকে শহরের প্রবেশদ্বার এককালের স্রোতস্বীনি প্রমত্তা ইছামতি নদীর (বর্তমানে মরা ভাগাড়) ওপর নির্মিত নতুন ব্রিজের মোড়ে নেমে রিকসার খোঁজ করলাম।

কিশোর বয়সের এক রিকসা চালক তার সিটের উপর বসেই আমাকে ডাক দিলো আংকেল কোনে যাবেন চলেন লিয়ে যাই। বল্লাম পুলিশ লাইনের পাশে যাবো, ভাড়া কত নিবে। বিশ টাকা। বিরক্ত হয়ে বল্লাম দশ টাকার ভাড়া বিশ টাকা কেন? ও বল্লো সে কথার আর কি কবো আংকেল পোলেনপুর দিয়ে ঘুরে রায়বাহাদুুরের গেটের কাছ দিয়ে যাতি হবি।

বল্লাম কেন? সে বল্লো ঠিকতো পাচ্ছেননা ঈদের বাজার, শহরের মধ্যি দিয়ে যাওয়া যাবিনানে। গেলেই পাছার উপর টিরাফিকের বাড়ি। আমার হাতে সময় খুব কম, তাই দর কষাকষি না করে তাতেই রাজি হয়ে ওর রিকসায় চেপে বসলাম।

লক্ষ করলাম ট্রফিক পুলিশের তৎপরতা। সুশৃঙ্খল যানবাহন। সৃঙ্খলাবদ্ধ চালকগণ। সবারই গতিই দ্রুত, কারো সাথে কারো ধাক্কা লাগেনা, কেউ কাউকে বকা-ঝকা করেনা।

ট্রাফিক পুলিশেরা রিকসা, অটোবাইক কিংবা সিএনজি চালিত অটোট্যাম্পোর বডিরওপর লাঠির আঘাত করেনা। বেশ ভালইতো। ট্রাফিক পুলিশ এত সুন্দর ব্যবস্থা করছে কিভাবে। এমন ব্যবস্থাতো শহরবাসির দীর্ঘ দিনের বাসনা।

বিশেষ করে পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়ক কোন সময়ই যাজট মুক্ত থাকেনা। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় মাঝে-মধ্যেই সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরেও আনা হয়।

যেমন পাবনা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম যখন পাবনাতে যোগদান করলেন, বলতে গেলে প্রথামাফিক তিনি পাবনায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় মিলিত হন।

সেদিন সাংবাদিকদের তরফ হতে দু’একটি থানায় কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। মাদকের বিষয়, যানজট, অবৈধ দখল, আইন সৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হয়।

তার কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। সুযোগ মত আমিও তাঁকে পাবনা শহরের যানজট নিরসনসহ টেবুনিয়ায় রবিবার ও বুধবারে সাপ্তাহিক হাটের দিন অসহনীয় যানজটের কথা তুলে ধরে তা নিরসনের জন্য অনুরোধ জানাই।

প্রবীণ সংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য তাঁকে কিছু পরামর্শ দেন। জনৈক সাংবাদিক বলেন, এসপি সাহেব, আপনি একটা দিন সিভিল ড্রেসে রিকসায় চেপে আব্দুল হামিদ সড়ক দিয়ে একবার যাবেন আর আরেকবার আসবেন তাহলে বাস্তব চিত্রটা আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন।

সেদিন পুলিশ সুপার পাবনার জনগণের সুযোগ সুবিধার লক্ষে তাঁর পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

ইফতার মাহফিল শেষে কৌতুহলবশতঃ আব্দুল হামিদ সড়ক ধরেই ফিরে এলাম।কিন্তু কি আশ্চর্য কোথাও যানজটের কোন বালাই নেই পথচারিরা নিবিঘ্নে নিরাপদে পথ চলছে। স্বাচ্ছন্দে রাস্তার এপার হতে ওপার যাচ্ছে তাতে কোন হুড়াহুড়ি নেই। ধাক্কা-ধাক্কি নেই।

চির চেনা এই আব্দুল হামিদ সড়ক যেন অন্য এক সড়কে পরিনত হয়েছে। যানজট নিরসনে দেরিতে হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এমনি একটি সংবাদও ছাপা হয়েছে গত ২২ জুন দৈনিক সিনসা পত্রিকায়।‘ ঈদ বাজার সামনে রেখে এ হামিদ রোড যানজটমুক্ত’ শিরোনামে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

সাংবাদিক রনি ইমরান লিখেছেন, আগের দিন শহরের হামিদ রোড থমকে ছিলো যানজটে। পরের দিন যারা রাস্তায় চলাচল করছিল তাদের কাছে শহরের চিত্র দেখে অনেকটা অন্য শহরের মত মনে হয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক হামিদ রোড যানজট মুক্ত করতে সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন জেলা ট্রাফিক পুলিশ।

শুধুমাত্র এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি ও মানবিক কাজে নিয়োজিত যানবাহন হামিদ রোড অতিক্রম করতে পারবে।

গতকাল সারাদিন রোজা রেখে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শহর যনজট মুক্ত রাখেন জেলা ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য। জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই শফিকুর বলেন, আমরা শহরটা জনসাধারণের জন্য যানজট মুক্ত রাখতে এই পদক্ষেপ গ্রহণকরি কিন্তু অনেকে ক্ষমতার বড়াই দেখিয়ে আমাদের সাথে তর্ক-বিতর্কেলিপ্ত হয়। সবার বোঝা উচিত সব মানুষের ভালোর জন্যই এ উদ্যোগ।

রনি ইমরান আরো লিখেছেন, উল্লেখ্য যে, শহরের এআর কর্ণার মোড়, মধ্য ইঁদারা মোড়, শেষে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট পর্যন্ত অনেকটাই যানজটে থমকে থাকতে হয় শহর বাসিকে।

আজকে পাবনা শহরে চলাচলকারিরা পাবনা জেলা পুলিশকে শহর যানজট মুক্ত রাখায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

এ ধরনের ভালো কাজ করলে অবশ্যই তারা ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। তবে শুধু ঈদ মওসুম এলে মাত্র দিন কয়েকের জন্য পাবনা শহর তথা বিভিন্ন সড়ক পথে যানজট নিরসনে যে প্রচেষ্টা চালানো হয় তাতে আর ধন্যবাদ কতক্ষণ স্থায়ী হয়? ঈদের আমেজের পর সবই যেন আবার ফিকে হয়ে যায়।

তাই ঈদের এমন আমেজ যেন বারো মাস বলবৎ থাকে।

(লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:০৬
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:২৮
    যোহরদুপুর ১১:৫০
    আছরবিকাল ১৫:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১২
    এশা রাত ১৮:৪২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!