রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

ঈদে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের কথা চিন্তা করে রেলের ভিআইপি কোটা বাতিল

ফাইল- ছবি

এমনিতেই চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল রেলের টিকিট। এর ওপর নানা কোটা ও ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষণের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভাগ্যে টিকিট জোটে কমই। এ কারণে এবার আসন্ন ঈদে ভিআইপিদের জন্য টিকিট সংরক্ষণ না করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আসন্ন ঈদুল ফিতরে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও টিকিটের প্রতুলতার কথা চিন্তা করেই এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একটি ট্রেনের যে সংখ্যক টিকিট থাকে, তার একটি নির্দিষ্ট অংশ কোটা ও ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কারণে অধিকাংশ সময় বিক্রি কার্যক্রম শুরু হওয়া মাত্রই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে রেলস্টেশনের কাউন্টারে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় যাত্রীদের। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের আস্থা ধরে রাখতে ভিআইপি টিকিট সংরক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর রোজা এলেই রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ ভিআইপিদের টিকিটের চাহিদাপত্র তৈরি করে। ভিআইপিদের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, বাণিজ্যিক সংগঠন ও ক্লাব, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যম কর্মী। তাদের জন্য নিয়মের চেয়েও বেশি টিকিট সার্ভার থেকে ব্লক (সংরক্ষণ) করে রাখা হয়। এরপর ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর স্টেশন ও চট্টগ্রাম স্টেশনের বিশেষ কাউন্টার থেকে ব্লক টিকিটগুলো পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হয়। কিন্তু এ বছর শুধু প্রতিবন্ধী, এমপি, মন্ত্রী, বিচারপতি ও রেলওয়ে কর্মচারীদের পাসের টিকিট ছাড়া আর কোনো টিকিট আগাম সংরক্ষণ করা হবে না। অ্যাপের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়ায় ভিআইপিদের জন্য টিকিট সংরক্ষণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন রেলের বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এসএম মুরাদ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কোটা ছাড়া সব ধরনের কোটা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্মীরাও বরাদ্দপত্র ছাড়া নিজেদের জন্য টিকিট নিতে পারবেন না। সাধারণ যাত্রীদের সর্বোচ্চ টিকিটপ্রাপ্তির স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করতে রেলওয়ে কাজ করছে।

এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার ফলে রেলস্টেশনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, টিকিটের বরাদ্দ না বাড়িয়ে হঠাৎ ভিআইপি টিকিট সাময়িক বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভিআইপি টিকিটের চাহিদা মেটাতে হয় রেলকর্মীদের। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মী ও প্রভাবশালীদের টিকিটের আবদার রক্ষা করতে না পারলে রেলকর্মীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে এবারের ঈদে টিকিট বিক্রির সময় রেলস্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

ঈদে টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত রেলের সর্বশেষ বৈঠকের সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে রেলওয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৪১০টি কোচে যাত্রী পরিবহন করবে। অর্থাৎ প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে টিকিট বিক্রি হবে প্রায় ৭৮ হাজার ৯৬০ ইউনিট (প্রতিটি কোচে গড়ে ৫৬টি টিকিটের হিসাবে)। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন কোচের হিসাবে ঈদ-পূর্ববর্তী পাঁচদিনে সর্বমোট ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ আসনে ভ্রমণ করতে পারবে। যদিও একটি নির্ধারিত ট্রেনের সর্বশেষ গন্তব্য পর্যন্ত একাধিক স্টপেজ থাকায় এর দেড়গুণ যাত্রী টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এর বাইরে কয়েক গুণ স্ট্যান্ডিং টিকিটে কিংবা ট্রেনের ছাদে করে গন্তব্যে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে গত ৯ মে ঈদ-পূর্ব ও পরবর্তী স্বাভাবিক ও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনায় বৈঠক করে। বৈঠকে স্বাভাবিক ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি সারা দেশে আট জোড়া বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের প্রস্তাব করা হয়। ট্রেনগুলো হচ্ছে এক জোড়া দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল (ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা), দুই জোড়া চাঁদপুর স্পেশাল (চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম), মৈত্রী এক্সপ্রেসের রেক দিয়ে এক জোড়া খুলনা স্পেশাল (খুলনা-ঢাকা-খুলনা), টাঙ্গাইল কমিউটারের রেক দিয়ে এক জোড়া ঈশ্বরদী স্পেশাল (ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা), এক জোড়া লালমনি ঈদ স্পেশাল (লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট), এক জোড়া শোলাকিয়া স্পেশাল-১ (ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব) ও এক জোড়া শোলাকিয়া স্পেশাল-২ (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ)।

দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল, চাঁদপুর স্পেশাল যথাক্রমে ২ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত এবং ঈদের পর ৬ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া খুলনা স্পেশাল শুধু ৩ জুন ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ৪ জুন ঢাকায় যাত্রী নিয়ে ফিরবে। এছাড়া ঈশ্বরদী স্পেশাল ও লালমনি স্পেশাল ২ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত উভয় পথে যাত্রী পরিবহন করবে। অন্যদিকে শোলাকিয়া স্পেশাল (১ ও ২) শুধু ঈদের দিন উভয় পথে যাত্রী পরিবহন করবে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৭
    যোহরদুপুর ১১:৫১
    আছরবিকাল ১৬:১৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৫
    এশা রাত ১৯:২৫
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!