মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে সড়ক দূর্ঘটনায় মায়ের পরে বাবার মৃত্যু- কেউ রইল না শিশু আহাদের

খালার কোলে শিশু আহাদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : ছয় মাসের নিস্পাপ কোমলমতি শিশু আহাদ সরদার। ছলছল চোখে শিশুটি কেবল মায়ের কোলখানি খুঁজছে!! যেখানে সে ঘুমোতো, তার মায়ের ঘুমপাড়ানি গান শুনতো। ভেসে ওঠে বাবার কাঁধখানি!! যেখানে যে খেলতো!!! যার মা-বাবাকে ছাড়া এক মুহূর্তও কাটে না।

সেই শিশু আজ এতিম হয়ে গেছে।

গত শুক্রবার (০৭ জুন) ঈশ্বরদীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ১৫ ঘন্টার ব্যবধানে মা-বাবাকে হারায় শিশু আহাদ।

দাদী হামিদা বেগম এর কোলে বসে নিরব নিথর হয়ে চুপচাপ দেখছে বাবার লাশ। এর কিছুক্ষণ আগেই দাফন করা হয়েছে তার মাকে।

ছয় মাসের শিশু আহাদ জানে না, সে এখন এতিম! তার মা-বাবা কেউই আর এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে নেই।

গত শনিবার (০৮ জুন) ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মুন্নারমোড় এলাকার আব্দুর রহিম সরদার এর ছোট ছেলে চট্টগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপের স্টিল মিলের চালক ওয়াহেদ আলী (২৫) এর মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঈশ্বরদীর নিজ গ্রামে এসে পৌঁছালে স্বজন-এলাকাবাসীর মধ্যে কান্নার আহাজারি শুরু হয়। নেমে আসে শোকের ছায়া।

এসময় মা-বাবা হারানো শিশুটি হঠাৎ ছলছল চোখে কেঁদে উঠলে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মাত্র ৬ মাস বয়সী আহাদ সরদার মায়ের স্নেহের কোল আর বাবার আদরের কাঁধ কোনদিনও স্পর্শ করতে পারবেনা এটা সে জানে না।

শিশু আহাদ এর দাদী হামিদা বেগম (৫০) শোকে নিথর হয়ে ছেলের নিথর দেহের পাশে বসে আছেন। চোখে নেই একফোঁটা অশ্রু। অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি।

হামিদা বেগম জানান, ‘আমার ৪ ছেলে ৩ মেয়ে। ওয়াহেদ সবার ছোট ছেলে, অথচ সেই চলে গেলো আগে! সবার পরে আইস্যি সবার আগে চইল্যি গেলো, এই ব্যাথা আমি সহ্য করতে পারতিছি না আল্লাহ!!!’

শিশু আহাদের মা গৃহবধূ মারিয়ার ছোট বোন সোনিয়া খাতুন, বোনের ছেলেটিকে কোলে নিয়ে দাড়িয়েছিলেন, ‘তিনি কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, আমরা ২ বোন ১ ভাই। আমার পরিবারে আপুই ছিলো সবার বড়। আপুর হাতে মেহেদীর রং এখনো শুকাইনি! এই মৃত্যু আমার পরিবার আমরা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মুন্নার মোড় এলাকার অটোরাইচ মিল ব্যাবসায়ী আব্দুল রহিম এর ছোট ছেলে ওয়াহেদ আলী মোটরসাইকেল যোগে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শশুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-নাটোর মহাসড়কের জয়নগর বিশ্বরোড মোড়ে তেল নেওয়ার উদ্দেশ্য রাস্তা পারাপারের সময় বিপরিতগামী দুই মোটরসাইকেল আরোহী সজোড়ে ধাক্কা দিলে স্ত্রী মারিয়া তার শিশু সন্তান আহাদকে নিয়ে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন।

এসময় দাশুড়িয়া থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই গৃহবধূ মারিয়া প্রাণ হারালেও ভাগ্যক্রমে ছয় মাসের শিশু আহাদ বেঁচে যান।

স্বামী ওয়াহেদ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

স্ত্রী মারিয়ার মৃত্যুর ১৫ ঘন্টার মাথায় শনিবার (০৮ জুন) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহেদ মারা যান।

এখন মা-বাবা হারা এতিম শিশু আহাদকে কে দেখবে? কে যত্ন নিবে? কে আদর-স্নেহ দেবে? কে দেবে মায়ের মত মমতা আর ভালোবাসা। কে দায়ভার নেবে অনাথ-এতিম হওয়া শিশু আহাদের! মায়ের স্নেহ- বাবার আদর কি সে আর কোন দিন পাবে?


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৬
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২৮
    এশা রাত ১৯:৫৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!