মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীর তিন সুড়ঙ্গ শত বছরেও অক্ষত

বার্তাকক্ষ : কর্ণফুলীর তলদেশে স্বপ্নের টানেল এই সময়ের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫০ শতাংশ। পুরো কাজ সম্পন্ন হলে এটিই হবে নদীর তলদেশ ছোঁয়া দেশের প্রথম টানেল। তবে দেশের মানুষ টানেল শব্দটির সঙ্গে অনেকটা অপরিচিত, বেশিরভাগই সুড়ঙ্গ নামে চেনে।

বিভিন্ন সমতল এলাকায় এর আগেও ছোট-বড় অনেক সুড়ঙ্গ নির্মিত হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঈশ্বরদীর শতবর্ষী তিন সুড়ঙ্গ, যেগুলো এখনো অক্ষত।

আদতে এগুলো টানেল হলেও ঈশ্বরদীতে সাঁকো নামেই পরিচিত। স্থানীয়রা এসব টানেলকে ‘রূপপুর সাঁকো’, ‘বাঘইল দোতলা সাঁকো’ ও ‘ইস্তা সাঁকো’ নামে ডাকেন। টানেলগুলোর সঙ্গে মিশে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস।

মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ জানান, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ঠেকাতে টানেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা এসব টানেলে অবস্থান করেছেন, এখান থেকে সহজেই আকক্রমন করা সম্ভব হয়েছিল।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের সময়কালে এসব টানেল নির্মিত হয়। টানেলে ঢুকতেই খোদাই করে এর নির্মাণ সময় লিপিবদ্ধ করা আছে, তাই কারও বুঝতে অসুবিধা হয় না এগুলো কত বছর আগের তৈরি। জানা যায়, প্রথমে ইস্তা এলাকায় ১৯১৩ সালে ৩ তলাবিশিষ্ট একটি টানেল নির্মাণ করা হয়।

পাকশী, রূপপুর, বাঘইলসহ আশপাশের বাসিন্দাদের চলাচল, রেললাইনের দুই প্রান্তের জনপদের গাড়ি-ঘোড়া চলাচলের সুবিধার্থে এসব টানেল নির্মাণ করেন ব্রিটিশরা। বর্তমানে বিলের পানি নিস্কাশনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে টানেলগুলো।

সমতল থেকে ২০ ফুট উঁচু এবং ২৫ ফুট দীর্ঘ ইস্তা সাঁকো’র ওপর দিয়ে এখনও গমগম করে ছুটে চলে রেলওয়ের ট্রেন আর নিচ দিয়ে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন। তারও নিচ দিয়ে চলে খালবিলের পানির ধারা।

এছাড়া রূপপুর ও বাঘইল দোতলা সাঁকো দিয়ে বিলের পানি ছাড়াও নিচু এলাকার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, টানেলের মাঝখান দিয়ে মানুষ, রিকশা-ভ্যান, বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে নির্ভয়ে। টানেলের ওপর দিয়ে চলাচল করে রেলগাড়ি।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশলী অফিস সূত্র জানায়, একশ’ বছরেরও বেশি সময় আগে টানেল তিনটি নির্মিত হয়েছিল। এখনও এর ওপর দিয়ে ট্রেন চলছে আগের মতোই স্বাভাবিক গতিতে, নিচ দিয়ে গাড়ি ও মানুষ চলাচল তো করছেই। ধারনা করা হচ্ছে আরো ২৫ বছর এই টানেল স্বাভাবিক ও সচল থাকবে। তবে এগুলোকে আরো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সেতু প্রকৌশলী আহসান জাবির বলেন, রূপপুর সাঁকো, বাঘইল দোতলা সাঁকো ও ইস্তা সাঁকো একশ’ বছর পার হলেও এখনো কোনো ক্রুটি চোখে পড়েনি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা প্রস্তুত। রেলের প্রজেক্টের মাধ্যমে অতি পুরনো যন্ত্রাংশ সরিয়ে সেখানে নতুন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

এই রেলপথে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে, ফলে যন্ত্রাংশ চুরির আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তাই আশা করছি, আরো দুই যুগ কোনো সমস্যা হবে না।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:২১
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৪২
    যোহরদুপুর ১২:০৯
    আছরবিকাল ১৬:০১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩৭
    এশা রাত ১৯:০৭
মুজিববর্ষ
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!