সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদী-ঢালারচর নতুন রেলপথে পরিক্ষামূলক ট্রেন চলাচল

বিশেষ প্রতিনিধি : ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের নবনির্মিত পাবনা-ঢালারচর সেকশনে পরীক্ষামূলক ট্রেন নিয়ে এই রেল সেকশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি পরিদর্শক, পশ্চিমাঞ্চল প্রকৌশলীরা।

ট্রেন চলাচলের উপযোগী হলে এই রেলপথ দিয়ে অচিরেই ঢালারচরবাসী ট্রেনে চড়ার সুবিধা পাবেন।

আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন থেকে একটি ট্রেন রওনা দিয়ে প্রথমে পাবনায় পৌঁছায় এরপরে সকাল সোয়া ১০ টায় পাবনা স্টেশন অতিক্রম করে দুপুরে ট্রেনটি ঢালারচর গিয়ে পৌছায়।

পরে বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করে ট্রেনটি আবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদীতে ফিরে যায়।

‘ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-ঢালারচর সেকশনে ১০ টি কোচ নিয়ে এই রেল সেকশনে ২৫ জন কর্মকর্তাসহ অর্ধ- শতাধিক রেলওয়ে কর্মচারী দল নিয়ে যাত্রা করে।

ওই ট্রেনের পরিচালক ছিলেন আফজাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ছিলেন আবু হানিফ। ট্রেনে লোকোমাষ্টার (এলএম) চালক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন রবিউল ইসলাম ও সহকারী লোকোমাষ্টার (এএলএম) দায়িত্বে ছিলের শাকিল আহমেদ।

এ পথে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালিয়ে লাইন পরিক্ষা করা হয়।

পাবনার পরে নবনির্মিত রাঘবপুর, দুবলিয়া, তাঁতীবন্দ, চিনাখড়া, কাশিনাথপুর হয়ে বাঁধেরহাট এবং ঢালারচর পৌছায় ট্রেনটি।

এই সময় প্রতিটি নতুন স্টেশনে প্লাটফর্মের উচ্চতা, শেডের উচ্চতাসহ লাইটিং ও রেললাইন স্থাপনের গভীরতা পরিক্ষা করেন রেলওয়ে প্রকৌশলীরা।

এদিকে স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই অঞ্চলে ট্রেন দেখে উৎসুক শিশু থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ছুটে আসেন একঝলক ট্রেন চলাচল দেখতে। জীবনের প্রথম অনেক শিশুরা ট্রেন দেখে তাদের উচ্ছ্বাস অনুভূতি প্রকাশ করে।

এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

সে সময় জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পাবনা শহরের টাউন হল মুক্তমঞ্চ মাঠে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

২০১৩ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

ঈশ্বরদী থেকে পাবনা শহর হয়ে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ওই বছরের ৫ অক্টোবর একনেক বৈঠকে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা।

ঢালারচর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হলে, কম খরচে ও কম সময়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে সংযোগ ঘটবে। চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ যাতায়াত সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই রেলরুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সরকারি পরিদর্শক, ডি এন মজুমদার, পরামর্শক আনোয়ারুল কবীর, মোঃ শাহজাহান আলী, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহীর এর প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রাজশাহী দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আল ফাত্তাহ মোঃ মাসউদুর রহমান মাসুদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক,

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মিজানুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) মমতাজুল ইসলাম (লোকো) অশীষ কুমার মন্ডল, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী রুবাইয়াত শরীফ প্রান্ত, বিভাগীয় কমান্ডেন্ট রেজাউন-উর-রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সাজেদুল ইসলাম বাবুসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে দপ্তর রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী, আল-ফাত্তাহ মোঃ মাসউদুর রহমান জানান, বর্তমান রেলবান্ধব সরকারে আমলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে এই প্রকল্প বহুল প্রতীক্ষিত একটি বড় প্রকল্প।

ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের পাবনা পর্যন্ত, প্রথম ধাপে ২৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হওয়ার পর গতবছর থেকে পাবনা-রাজশাহী রেলরুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেলরুটের বাকি ৫৩ কিলোমিটারের নির্মাণ ও দ্বিতীয় ট্রেন চলাচলের জন্য যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি এই নতুন রেলপথের ঢালারচর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয় এর সরকারি পরিদর্শক ডি এন, মজুমদার জানান, আজকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিদর্শন ট্রেন চলাচলের প্রতিবেদন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এরপর উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক হবে। তবে এই রুটে এখন ট্রেন চলাচল করানো সম্ভব। তথাপি নতুন রেলস্টেশনে, নতুন কোচ, লোকবলও প্রয়োজন, এই প্রকল্প সরকারের বৃহৎ একটি প্রকল্প। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলরুটে পূর্ণাঙ্গ ট্রেন চলাচল শুরু হলে উত্তর জনপদের আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটবে। রেলপথে পণ্য পরিবহনে স্বল্প খরচের কারণে এই এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এমনই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৪
    আছরবিকাল ১৫:৩৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৪
    এশা রাত ১৮:৪৪
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!