বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সহকারী স্টেশন মাষ্টারের উগ্র মেজাজ!

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট : রেলওয়ে আইন অনুযায়ী কোন টিকিটধারী ট্রেনযাত্রী ট্রেনের সময় জানতে চাইলে কর্তব্যরত স্টেশন মাষ্টার বিরক্তি না হয়ে ট্রেনের সময় বলার নিয়ম থাকলেও এই নিয়ম মানছেন না ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন এর সহকারী স্টেশন মাষ্টার রেজানূর রহমান।

নিজের খেয়াল খুশি আর উগ্র মেজাজী তরুন যুবকের এই ধরনের খামখেয়ালিপনাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছেন ট্রেনের টিকিট সংগ্রহকারী টিসি (টিকিট কালেক্টর) সহ স্টেশনের রেলওয়ে কর্মচারী ও ভুক্তভোগী ভ্রমণপ্রিয় ট্রেন যাত্রীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন এর নিকট ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাষ্টার রেজানূর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঈশ্বরদী-রাজশাহী রেলরুটের ৭৮৩ নং টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের এক ট্রেনযাত্রী।

তার আগে গত ১৫ জুন নির্ধারিত সময় ১২:১০ এর ট্রেন দেড় ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করাতে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোথায় আছে, জানতে চাইলে সহকারী স্টেশন মাষ্টার রেজানূর রহমান বলেন “লিখে রেখেছি” মুখে বলা যাবে না। কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন তিনি।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন রাজশাহীগামী ৭৮৪ নং টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ISD 01349152 টিকিটধারী রাজশাহী যাচ্ছিলেন।

ট্রেন বিলম্ব হলে কর্তব্যরত স্টেশন মাষ্টার এর রুমে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাষ্টার এর কাছে জানতে চান, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন কোথায়? এসময় ওই সহকারী স্টেশন মাষ্টার দাড়িয়ে শারীরিক বাচনভঙ্গি পাল্টিয়ে হাতে থাকা কলমের ইশারায়, উগ্র মেজাজে বলে উঠেন “লেখা আছে”।

পরে ওই যাত্রী আবারও উনার কাছে জানতে চান, সময়টি কি মুখে বলা যায় না? আপনার দায়িত্ব মুখে বলা এবং ভদ্রভাবে।

একথা বলাতে তিনি দম্ভ করে এক ট্রেনযাত্রীকে বলে উঠেন, ‘আমি তোমাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়, এই যাও এখান থেকে বের হও।’

অথচ ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন উত্তর-দক্ষিণঞ্চলের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণপ্রিয় ট্রেনযাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক মনে করে বলেই ট্রেনে যাতায়াত করে থাকেন।

এখন আর কোন ট্রেনযাত্রী ট্রেনের খবর স্টেশন মাষ্টার এর রুমে গিয়ে জানতে চায় না, এসএমএস এর মাধ্যমে খবর জানা যায়।

কখনো এসএমএস না পাওয়া গেলে গন্তব্যস্থানের ট্রেন অধিক বিলম্ব হলে ট্রেনের যাত্রীরা স্টেশন মাষ্টার এর স্মরনাপন্ন হয়ে থাকেন।

এছাড়াও কিছু যাত্রী আছেন, যারা এসএমএস পাঠাতে পারেন না, গ্রামের কোন সাধারণ মানুষ, কিংবা কম লেখাপড়া জানা মানুষ ট্রেনের খবর আনতে গেলে দাড়িয়ে হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া, আর কোন উপাই নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের রেলওয়ে কর্মচারীরা জানান, কোন ট্রেন কোথায় আছে, এ তথ্য জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না রেজানূর রহমান।

সহকারী স্টেশন মাষ্টার এর নির্দিষ্ট পোশাক রয়েছে, তিনি তা ব্যাবহার না করে স্টেশনের চতূর্দিকে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। বয়সে তরুন হলেও আচরণ উগ্র।

রেলওয়েতে যে সকল বয়স্ক রেলওয়ে কর্মচারীরা রয়েছেন, তাদের সম্মান তো দুরের কথা, তিনি ডিউটিতে থাকাকালীন সময়ে ভালো ব্যাবহার পর্যন্ত করেন না।

যদিও নিজেদের প্রয়োজনে ট্রেনের মাইকিং করার জন্য ফোন করা হয়, কোন ট্রেন কোথায়? বিলম্ব কতটুকু সময়? এ খবর দিতেও গড়িমসি করেন ওই রেজানূর রহমান।

তার স্থলে আরও যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে আসছেন কিন্তু একমাত্র রেজানূর রহমানের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন এর ভারপ্রাপ্ত স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট শেখ আসলাম উদ্দিন এর কাছে অভিযোগ দিলে তিনি জানান, লিখিতভাবে অভিযোগ কেউ দেয়নি। অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সত্য প্রমাণিত হলে ওই রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রেলবান্ধব সরকার ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা যখন নিরলসভাবে কাজ করছেন, একজন টিকিটধারী ট্রেনযাত্রীকে নিরাপদে তার গন্তব্যস্থলে পৌছে দেওয়ার জন্য তখন বৃটিশ আমলের শতবর্ষী পুরনো জংশন স্টেশন ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন এর মত জায়গায় এই ধরনের সহকারী স্টেশন মাষ্টার দিয়ে রেলওয়ের কাঙ্খিত সেবা জনগনের কাছে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় এই রেলকর্মীকে অন্যত্র সরিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করানোর জন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দরকার বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৩৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৬
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৫৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩১
    এশা রাত ১৯:০১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!