রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

একনজরে পাবনা জেলা ও দর্শনীয় স্থান সমূহ

পাবনা জেলার ইতিহাস– ‘পদুম্বা’ থেকে  ‘পাবনা’ নামের উৎপত্তি। কালক্রমে পদুম্বাই স্বরসঙ্গতি রক্ষা করতে গিয়ে বা শব্দগত ব্যুৎপত্তি থেকে পাবনা হয়েছে। ‘পদুম্বা’ জনপদের প্রথম সাক্ষাৎ মিলে খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে পাল নৃপতি রামপালের শাসনকালে। প্রাচীন রাজ্য ‘পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের’ নাম থেকে পাবনা নামের উদ্ভব হতে  পারে বলে ধারনা করেন- প্রত্নতাত্মিক কানিংহাম। তবে অপর একটি জনশ্রুতি আছে, ‘পাবনী’ নামক পূর্বগামিনী একটি নদীর মিলিত স্রোত ধারার নামানুসারে এলাকার নাম হয় পাবনা তবে এ ধারনাটি বর্তমানে ভিত্তিহীন কারন পাবনাতে কোন কালে পাবনী নামে কোন নদীর অস্তিত্ব ছিল না । অপর একটি সূত্রে জানা যায় ‘পাবন’ বা ‘পাবনা’ নামের একজন দস্যুর আড্ডাস্থলই এক সময় পাবনা নামে পরিচিতি লাভ করে।

পাবনা জেলার অবস্থান- রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে পাবনা জেলা। এর উত্তর-পূর্ব দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা।পূর্বে রয়েছে যমুনা নদী যা পাবনা-মানিকগঞ্জ জেলাকে পৃথক করেছে। পাবনার কাজীরহাট নামক স্থানে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে। দক্ষিণে পদ্মা নদী একে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে। পশ্চিম অংশ জুড়ে রয়েছে নাটোর জেলা।

স্থানাঙ্ক ২৪°২৪′৩৬.০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০″ পূর্ব

বিভাগ রাজশাহী

পাবনা জেলার আয়তন মোট- ২৩৭১.৫০ কিমি (৯১৫.৬৪ বর্গমাইল)

পাবনা জেলার জনসংখ্যা-  মোট ২৮,৬০,৫৪০ (২০১১ আদমশুমারী অনুযায়ী)

                    ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩১০০/বর্গমাইল)

স্বাক্ষরতার হার– মোট ৯৮.৪৭%

সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)

প্রশাসনিক বিভাগের কোড ৫০৭৬

পাবনা জেলায় উপজেলা রয়েছে মোট- ৯টি

উপজেলা সমূহ

চাটমোহর উপজেলা

ভাঙ্গুড়া উপজেলা

আটঘরিয়া উপজেলা

ঈশ্বরদী উপজেলা

পাবনা সদর উপজেলা

ফরিদপুর উপজেলা

বেড়া উপজেলা

সাঁথিয়া উপজেলা

সুজানগর উপজেলা

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তী

অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সমাজী সাহেব

অবিভক্ত ভারতের কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম বাঙালি বিচারপতি ব্যারিস্টার আশুতোষ চৌধুরী (১৮৬১-১৯৩৪)

পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে পর পর সাতবার নির্বাচিত লোকসভার সদস্য, ‘ঢাকুদা’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি ত্রিদিব চৌধুরী (১৯১১-১৯৯৭)

বাংলা গদ্যরীতির সার্থক রূপকার প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)

কবি প্রসন্নময়ী দেবী (১৮৫৭-১৯৩৯)

কবি প্রিয়ম্বদা দেবী

মেজর জেনারেল জ়ে.এন.চৌধুরী সাবেক ভারতীয় সেনাপ্রধান(১৯০৮-১৯৮৩)

সাইফুল আজম পৃথিবীর ২২ জন লিভিং ঈগলের একজন, যিনি এখন পর্যন্ত ইজরাইলের সর্বোচ্চ বিমান ধ্বংসের রেকর্ড অর্জন করেন। তিনি একই সাথে চারটি দেশের বিমান বাহীনিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ফকরুল আজম

স্বাধীন দেশের প্রথম এয়ার চীফ- এ. কে খন্দকার

মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান

বাংলার সিংহ পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল

নারীমুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল (১৯৫০-২০১৬)

রাজেন্দ্র লাহিড়ী (২৩ জুন ১৯০১ – ১৭ ডিসেম্বর ১৯২৭), ব্রিটিশদের ভারত থেকে উৎখাত করার জন্য হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশনের নানা বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মোহিতমোহন মৈত্র (অজানা- ২৮ মে ১৯৩৩) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা কমরেড জসীম উদ্দিন

কবি বন্দে আলী মিয়া একজন বাংলাদেশী কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর।

গীতিকার, সাহিত্যিক ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ফজল-এ-খোদা

গীতিকার ও সঙ্গীতশিল্পী গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার

সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী

সঙ্গীতশিল্পী ডলি সায়ন্ত্বনী

সঙ্গীতশিল্পী বাদশা বুলবুল

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার

খ্যাতিমান উপস্থাপক ফজলে লোহানী

উপমহাদেশের অন্যতম প্রথম নারী অভিনেত্রী নায়িকা ডা.রওশন আরা (১৯৪০–২০১০)

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

অভিনেতা আজিজুল হাকিম

অভিনেতা শাহনাজ খুশি

চলচিত্র পরিচালক আজাদি হাসানত ফিরোজ

অভিনেতা মাসুম আজিজ

চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক বৃন্দাবন দাস

চলচ্চিত্র পরিচালক রেদওয়ান রনি

মাহমুদা সুলতানা সর্ব কনিষ্ঠা “ইনোভেটর আব দ্য ইয়ার-২০১৭” বিজয়ী। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বোচ্চ পুরষ্কার ইনোভেটর অব দ্য ইয়ার অর্জন করেন।

সেলিম শাহরিয়ার আইনস্টাইনের তত্ত্বের সত্যতা গবেষণায় গঠিত গবেষক সদস্য।

স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী স্যামসন এইচ চৌধুরী

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি

মোঃ মকবুল হোসেন এমপি, পাবনা౼৩ এলাকা, সভাপতি, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পকীত স্থায়ী কমিটি, ১০ম জাতীয় সংসদ, ౼কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য “বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক ১৪২৩ এ স্বণঁ পদক অজন করেন৷”

বিখ্যাত খাবার ঘি, রসমালাই

বিখ্যাত স্থান সমূহ

 ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ- ১৭৫৭ বাদশাহ শাহ আলমের রাজস্ত কালে দৌলত খা পুত্র আসালত খা ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ নির্মান করেন। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি শুধু মাত্র গম্বুজ দ্বারা বেষ্টিত। অনেক পুরাতন মসজিদ হলে এর আকৃতি এবং অবস্থান অনেক আকর্ষনীয়। মসজিদের পূর্বপাশে ফকির শাহ’র মাজার রয়েছে, মাযারটি খুবই লম্বা আকৃতির। জনশ্রুতি আছে ভাঁড়ারা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ এক রাতে নির্মান হয়েছে। ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ শাহী শাসন আমলে একটির উজ্জল দৃষ্টান্ত এবং ঐতিহ্য বহন করে।প্রতি শুক্রবারে শত শত মানুষ জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য উপস্থিত হয়।

অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে ভাঁড়রা ইউনিয়নে অবস্থিত।

 জোড় বাংলা মন্দির- স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, জোড় বাংলা মন্দিরটি ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়াও এটাও প্রচলিত যে, মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন, ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামক একজন যিনি মুর্শিদাবাদ নবাবের তহশীলদার ছিলেন। তবে মন্দিরটি আবিষ্কারের সময় কোন শিলালিপি পাওয়া না যাওয়ায় এর সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় না। দেয়ালের নকশা ও কারুকার্যের ভিত্তিতে ধরা হয় এটি কান্তনগর মন্দির-এর অনুরূপ স্থাপনা।

অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলার থেকে ১.২কি.মি পূর্বে রাঘবপুর মহল্লায় অবস্থিত।

৩। তাড়াশ বিল্ডিং- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বনমালী রায় বাহাদুরের তাড়াশ বিল্ডিং এখন পর্যন্ত প্রায় অক্ষত অবস্থায় আছে। পাবনার জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে নামকরা এবং পুরাতন বলে পরিচিত এই তাড়াশের জমিদার। সে সময়ের ভূস্বামী পরিবারগণই জমিদারবংশীয় বলে অভিহিত। বগুড়া জেলার চান্দাইকোণার কাছে ‘কোদলা’গ্রামে একঘর কায়স্থজমিদার ছিলেন; এই জমিদারই তাড়াশের রায়বংশের পূর্বপুরুষ বাসুদেব। তাড়াশের এইপরিবার ছিল পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় জমিদার। বাসুদেব নবাব মুর্শিদকুলি খানেররাজস্ব বিভাগে চাকরি করে প্রতিষ্ঠা করেন রাজবাড়ী।

অবস্থান- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬০০মিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

৪। পাবনা ক্যাডেট কলেজ- পাবনা ক্যাডেট কলেজ পাবনার একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের প্রাচীন দশটি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে অন্যতম; যা ১৯৮১ সালের ৭ আগষ্ট ‘পাবনা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ’ থেকে ‘ক্যাডেট কলেজ’-এ রূপান্তরিত হয়। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এর অবস্থান।

অবস্থান- পাবনা ক্যাডেট কলেজ পাবনা জেলার জালালপুরে, ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। পাবনা শহর থেকে এটি ৬ কিমি দূরে অবস্থিত যা বাগচিপাড়া বাজারের কাছে।

৫। প্রশান্তি ভুবন বিনোদন পার্ক/ রত্নদ্বীপ রিসোর্ট

অবস্থান- পাবনা শহর থেকে ২.৭কি.মি পূর্বে অবস্থিত।

 শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র টেম্পল- শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের পিতা-মাতার স্মৃতিরক্ষার্থে এই মন্দির নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখ প্রাসাদে ‘স্মৃতি মন্দির’ কথাটি পাথরের উপরে উৎকীর্ণ করা আছে। অনুকূলচন্দ্র ‘সৎসঙ্গ’ নামে একটি জনহিতকর সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। প্রকৃত অর্থে অনুকূল ঠাকুর মানবকল্যাণে তাঁর জায়গা-জমি যথাসর্বস্ব উৎসর্গ করে গেছেন। স্মৃতিমন্দিরটি অন্যান্য ইমারতের তুলনায় এখনো সুসংরক্ষিত অবস্থায় আছে। সম্প্রতি নব নির্মিত সৎসঙ্গ-আশ্রম-মন্দির সমন্বয়ে গঠিত স্থাপত্য নিদর্শনটি সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে। তবে বর্গাকৃতির ভবনটির শীর্ষদেশ চারটি ত্রিভূজ আকৃতির ক্রমহ্রাসমান ছাদে আচ্ছাদিত ছিল। এ মন্দিরের শিখর ক্ষুদ্রাকৃতির কলস ফিনিয়ালে আকর্ষনীয় বৈশিষ্টমন্ডিত ছিল।

অবস্থান- পাবনা শহরের সন্নিকটে হেমায়েতপুর গ্রামে(মানসিক হাসপাতালের পেছনে) শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের সৎসঙ্গ(আশ্রম-মন্দির) টি অবস্থিত।

৭। পাবনা মানসিক হাসপাতাল- পাবনাকে যে কারনে সবাই চিনে থাকে সেটা হল পাবনা মানসিক হাসপাতাল বা পাগলাগারদ। এটি ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ এর একমাত্র মানসিক হাসপাতাল। মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী, অসুস্থ অথবা আহতকে ঔষধ ও শল্যচিকিৎসা এবং যথাযথ সেবাশুশ্রূষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হেমায়েতপুরে ১৩৩ একরের একটি চত্বরে হাসপাতালটি স্থানান্তরিত হয়। ব্যাতীক্রমধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটি দেখতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভীর জমায়।

অবস্থান- পাবনা শহরের সন্নিকটে ৪কি.মি, পশ্চিমে হেমায়েতপুর গ্রামে মানসিক হাসপাতালটি অবস্থিত।

 সমন্বিত লাগসই কৃষি প্রযুক্তি জাদুঘর- পাবনা সদর উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম ও নারী শিল্প উদ্যোক্তা সোহানী হোসেন জেলার কিছু মানুষের সহযোগিতায় ২০০৮ সালে মাত্র ৩৭ শতাংশ জমির ওপর ব্যতিক্রমী এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে রয়েছে মৌমাছি, হাঁস, খরগোশ, কোয়েল পাখি পালন, খাঁচায় ও পলিথিনে মাছচাষ, ড্রাম সিডার, মাশরুম চাষ, ভাসমান সবজি বাগান, বায়োগ্যাস প্লান্ট, সৌর বিদ্যুত্, বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি ধারণ পদ্ধতিসহ আধুনিক কায়দায় স্বল্প খরচে বিভিন্ন কৃষিজ যন্ত্রের প্রদর্শনী।

অবস্থান- পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত লাগসই প্রযুক্তি জাদুঘর ।

৯। চাটমোহর শাহী মসজিদ- ৫০০ বছরের পুরনো এই মসজিদটি মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৫৮১ খৃীষ্টাব্দে সম্রাট আকবরের সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবলি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার নামানুসারে মসজিদটির নামকরন করা হয় মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ। কালক্রমে এলাকার নামানুসারে মসজিদটির নামকরন করা হয় চাটমোহর শাহী মসজিদ। বার্তমান নামে মসজিদটি পরিচিতি থাকলেও বইপত্রে এখনো মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ নামেই উল্লেখ রয়েছে। মসজিদটির ভেতরে দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ ১৫ হাত, উচ্চতা প্রায় ৩০ হাত। ক্ষুদ্র পাতলা নকশা খচিত লাল জাফরী ইটে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের দেয়ালটি সাড়ে চার হাত প্রশস্থ। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির সামনে ইদারার গায়ে কালেমা তাইয়েবা লিখিত একখন্ড কালো পাথর এখনো প্রোথিত।

অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা হতে ২০০ গজ দূরে অবস্থিত। এক কথায় উপজেলা গেটের মুখোমুখি অবস্থানে মসজিদটি।

১০। সমাজ শাহী মসজিদ- ১৫৪৯ সালে তৎকালীন দিল্লীর শাসক শেরশাহের পুত্র সুলতান সেলিম সমাজ শাহী মসজিদটির নির্মাতা বলে জানা যায়। প্রাচীন স্থাপত্য কলার উজ্জল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় এর নির্মাণ কৌশলে। মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট হলেও মসজিদটির ৪ কোণে আরো ৪ টি ছোট স্তম্ভ গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালে রয়েছে দু’টি কৃষ্ণবর্ণ পাথর। পাথর রয়েছে পবিত্র কোরআনের খোদাই করা আয়াত। জনশ্রুতি রয়েছে এ মসজিদ থেকে কোরআনের আয়াত লিখিত দু’টি শিলালিপি ১৯৪২ সালে ভারতের যাদুঘরে নেয়া হয়েছে। মসজিদটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ) এর মাজার। তার পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দীঘি।

অবস্থান- পাবনার চাটমোহর থানার শেষ প্রান্তে ১৫ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে সমাজ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন শাহী মসজিদ।

১১। হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির- প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ধারণা করেন, জগন্নাথ মন্দিরটি ১৫ শতকের শুরুর দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে মন্দিরের গায়ে পাওয়া শিলালিপি অনুসারে জানা যায়, ১৫৯০ সালে ভবানীপ্রসাদ নামে জনৈক এক ব্যক্তি মন্দিরটি সংস্কারের কাজ করেছিলেন। হান্ডিয়াল মন্দিরটি এক দরজা বিশিষ্ট একটি ছোট মন্দির যা ইট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। মঠটির উপরের দিকেই সিঁড়ি ক্রমশই ছোট হয়ে গিয়েছে। মন্দিরের মাসনের দেয়ালে ট্যারাকোটার নকশা করা রয়েছে ও পুরো মঠটি একটি শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত।

অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ১৩.২ কি.মি. উওরে হান্ডিয়াল ইউনিয়নে অবস্থিত।

১২। হরিপুর জমিদারবাড়ি পুকুর- প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক ভিটাই হল হরিপুর জমিদার বাড়ি। এখানেই প্রমথ চৌধুরীর জন্মও। এই জমিদার বাড়ি তারই কো পূর্বপুরুষ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা থেকে ৬কি.মি. পশ্চিমে হরিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।

১৩। মথুরাপুর মিশন- মথুরাপুর মিশন নামে এর পরিচিতি থাকলেও এর নাম সেন্ট রীটাস্ ক্যাথলিক গীর্জা। বহু বছর পূর্বে মথুরাপুর তথা চাটমোহরের খ্রীষ্টান ক্যাথলিক ধর্মালম্বীদের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৬০-৭০ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনটি এক কক্ষ বিশিষ্ট। সুউচ্চ শৈল্পিক ডিজাইনের ভবনটি ব্রিটিশ স্থাপত্য রীতি অনুযায়ী করা হয়েছে।

অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা থেকে ২.৭ কি.মি. দক্ষিণে পাবনা-চাটমোহর মহাসড়কের পাশে মথুরাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।

১৪। চলনবিলের সূর্যাস্ত- বাংলাদেশের সবচেযে বড় বিল হিসেবে চলনবিলের খ্যাতি দেশ ব্যাপী। পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ এই তিন জেলায় অবস্থিত চলনবিলের পাবনা জেলাধীনে রয়েছে চাটমোহরের এই বিলটি। অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি চলবিলের অপার সৌন্দর্য পর্যবেক্ষন করা যায় এখান থেকে। বিশেষত বিভিন্ন উৎসব ও বর্ষার সময় প্রচুর পরিমানে দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখান।

অবস্থান- চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ৫.৪কি.মি. উত্তরে বোয়ালমারী গ্রামে অবস্থিত।

১৫। বড়াল ব্রীজ রেলসেতু- রেল চলাচলের জন্য ব্রিটিশ শাসনামলে এটি নির্মাণ করা হয়। লোহার তৈরী সেতুটি বড়ার নদীর উপরে অবস্থিত।

অবস্থান- ভাঙ্গুরা উপেজলা সদরে বড়াল ব্রীজ স্টেশনের সম্মখে অবস্থিত।

১৬। বৃদ্ধমরিচ শাহী মসজিদ- ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে অবস্থিত এই মসজিদটি বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

অবস্থান- ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে বৃদ্ধমরিচ মহল্লায় অবস্থিত।

১৭। হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ) মাজার- ১৫৪৯ সালে তৎকালীন দিল্লীর শাসক শের শাহের পুত্র সুলতান সেলিম সমাজ শাহী মসজিদ নির্মানের কিছুকাল পরেই এতদাঞ্চলে আগমন ঘটে হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ)। মসজিদটির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে একটি বিশাল দীঘি তার পাশেই হযরত আশরাফ জিন্দানী (রহঃ) এর মাজার।

অবস্থান- পাবনার চাটমোহর থানার শেষ প্রান্তে ১৫ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে সমাজ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন শাহী মসজিদ।

১৮। শেখ শাহ্ ফরিদ (রহ.) মসজিদ- জনশ্রুতি মতে,  রাজশাহীর  পারী আউলিয়া হযরত শাহ মখদুম (র:)  এরভাবশিষ্য হযরহর শাহ ফরিদ (র:) ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে পদ্মানদী  থেকে কুমিরের পীঠে  চড়ে  চারঘাট হয়ে বড়াল  নদী বেয়ে সারকেল  সারি ঘাটে (বর্তমান পারফরিদপুর) এসে থামেন। জায়গাটি তখন  গভীর  জঙ্গলে পরিপূর্ণছিল। হযরত শাহ ফরিদ  (র:)  সেখানে আস্তানা  গাঁড়েন সেখানে তিনি একটি মসজিদও নির্মাণ করেন। তাঁর আল্লাহ  ভক্তি এবং বিভিন্ন  কেরামতি দেখে এলাকায় তাঁর অনেক শিষ্য এবং ভক্তবৃন্দ জুটেযায় এই শাহ ফরিদ (র:) এর নামানুসারের এ  এলাকার নামকরণ হয়েছে  ফরিদপুর।

অবস্থান- ফরিদপুর উপজেলা থেকে ১.৪ কি.মি. উওর-পশ্চিমে বড়াল নদীর উত্তর পাড়ে পারফরিদপুর গ্রামে হযরত শাহ ফরিদ (র:) এর মাজার ও প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত।

১৯। লর্ড হার্ডিঞ্জ রেল সেতু- বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু হিসেবে পরিচিত এই সেতুটি সম্পূর্ন লোহার তৈরী। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত ভারত সরকার অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে পদ্মা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করে। পরবর্তীতে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে সেতু নির্মাণের মঞ্জুরী লাভের পর বৃটিশ প্রকৌশলী স্যার রবার্ট গেইলস সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সেতুর নির্মাণকাল ১৯০৯-১৯১৫ সাল। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।

অবস্থান- পাবনা জেলার পাকশি রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর উপর এই সেতুটি অবস্থিত।

২০। লালন শাহ সেতু- ১.৮ কি.মি. সেতুটি ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে। ২০০৪ সালের ১৮ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটির উদ্বোধন করেন এবং সেতুটি যানচলাচলের জন্য সম্পূর্নভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেতুটি দুই লাইন বিশিষ্ট সেতুর পশ্চিম পাশে ৬.০০ কিঃ মিঃ (ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া)এবং পূর্ব পাশে অবস্থিত (পাকশী- ঈশ্বরদী)। সেতুটি তৈরীর ফলে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ জেলার লোকেদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। এই সেতু বঙ্গবন্ধু সেতু অনুরুপ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় সড়ক সেতু।

অবস্থান- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঈশ্বরদী উপজেলা সদর হতে প্রায় ১১ কি.মি. দক্ষিণে পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর উপর সেতুটি অবস্থিত।

২১। ঈশ্বরদী রেলজংশন- ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং অন্যতম বৃহৎ রেল স্টেশন এবং জংশন। এটি প্রায় ১শ’ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেলওয়ে জংশন ও ইয়ার্ড।

অবস্থান- ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন ঈশ্বরদী পৌরসভা সদরে অবস্থিত।

২২। ঈশ্বরদী ইপিজেড- Ishwardi Export Processing Zone; সংক্ষেপে যেটি ‘ঈশ্বরদী ইপিজেড’, বা ‘পাবনা ইপিজেড’ নামেও পরিচিত। এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলটি ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে ৩০৯ একর এলাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ইপিজেডটি বাংলাদেশের ৩য় বৃহত্তম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। এটি বাংলাদেশের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

অবস্থান- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঈশ্বরদী উপজেলা সদর হতে প্রায় ৪ কি.মি. দক্ষিণে পদ্মা নদীর তীরে পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত।

২৩। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বিমান বন্দরটি হিজলি বেজ এলাকা নামে পরিচিত ছিল। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি ৮-২৪ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বাহিনীর বিশতম বোমারু বাহিনী এই বিমান বন্দরটি ব্যবহার করেছিল। এখান থেকে মারিয়ানা দ্বীপ উদ্দেশ্যে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে রওনা করে তারা। পরবর্তী সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত এই বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতো।  প্রায় ১৭ বছর পরে  ১৮ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এই বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিচালনা শুরু কররেও ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

অবস্থান- ঈশ্বরদী সদর উপজেলা হতে ৫কি.মি. উত্তরে অবস্থিত।

২৪। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট- আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (আরএআরএস) ১৯৪৬ সালে উন্নত বীজ ও চারা উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘‘ নিউক্লিয়াস সীড মাল্টিপ্লিকেশন ফার্ম’’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে এটি হর্টিকালচারাল শষ্যের গবেষণার উদ্দেশ্যে ‘হর্টিকালচারাল রিসার্চ সাব-স্টেশন’ নামে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ‘এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সাব-স্টেশন’  নামে উন্নীত হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ প্রতিষ্ঠানটি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭৬ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা স্বায়ত্বশাসন লাভ করে এবং তখন এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নীত হয়ে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এ কেন্দ্রটির আওতায় ৪টি ‘ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ সাইট’ (এফএসআর)সহ ৭টি  উপ-কেন্দ্র এবং অন-ফার্ম রিসার্চ ডিভিশন (ওএফআরডি) এর ২৩টি ‘মাল্টি লোকেশন টেস্টিং সাইট’(এমএলটি) রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলা এ কেন্দ্রটির আওতায় রয়েছে।

অবস্থান- ঈশ্বরদী সদর উপজেলা হতে ২ কি.মি. পূর্বে অবস্থিত।

২৫। শহীদনগর স্মৃতিস্তম্ভ- ১৯৭১ সালে ১৯ শে এপ্রিল পাকহানাদারদের আক্রমনে নিরীহ জনতা সহ ৩৫ জন বীর মুক্তি যোদ্ধা শহীদ হন। তাদের স্মরণে জায়গাটির নাম শহীদনগর করণ সহ এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়।

অবস্থান- বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে কাশিনাথপুর থেকে ৪ কি. মি. উত্তর দিকে শহীদ নগরস্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত।

২৬। বেঙ্গল মিট- এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বৃহত্তর একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন উন্নত জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, মুরগির মাংস মেশিন এর মাধ্যমে প্রসেসিং করে বাজারজাত করা হয়। প্রসেসিং করা এই মাংস দেশে-বিদেশে রপ্তানী করা হয়। শুধু তাই নয় বেঙ্গল মিট এর চারিপাশের পরিবেশ অনেক মনোরম এবং সুন্দর ফুলের বাগন রয়েছে এখানে।

অবস্থান- পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার কাশীনাথপুর ইউনিয়নের কড়িয়াল গ্রামে বেঙ্গল মিট অবস্থিত।

২৭। আজিম চৌধুরীর জমিদারবাড়ি- প্রায় ২৫০ বৎসর আগে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার রহিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জমিদার বাড়িটির প্রতিষ্ঠাতা হলেও বাড়িটি পরিচিতি পায় তার সন্তান আজিম চৌধুরীর নামে। বর্তমানে এই জমিদার বাড়িটি আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। জমিদার বাড়িটি আজিম চৌধুরীর নামে হওয়ার কারণ হল- তিনি যখন এই জমিদার বাড়ির জমিদারি পান তখনই এই জমিদার বাড়িটি ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করে এবং সকলের মাঝে পরিচিতি পায়। জমিদার আজিম চৌধুরী চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কর্মযজ্ঞের স্মৃতি ও নাম। জমিদার আজিম চৌধুরীর ছিলেন সৌখিন এবং সৌন্দর্যের পূজারী। আজ থেকে ২৫০ বছর আগে দুলাই’র মতো নিভৃত পল্লীতে প্রতিষ্ঠা করেন রাজপ্রাসাদতুল্য দ্বিতলবিশিষ্ট একাধিক দৃষ্টিনন্দন এবং বিলাসবহুল ভবন। যে সময়ে কি না একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা ছিল স্বপ্নের মতো। শুধু কি দ্বিতল ভবন! সেটিও ছিল অত্যাধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে কারুকার্য মন্ডিত। ভবনগুলো ছিল বহু কক্ষের। প্রতিটি কক্ষই ছিল বছু দরজা বিশিষ্ট। কক্ষ গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যাবস্থা ছিল।

অবস্থান- সুজানগর উপজেলার দুলাই গ্রামে।

২৮। গাজনার বিল- ছোট-বড় ১৬টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত এই বিল সুজানগরের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান। ০৭ একর আয়তনের বিলটি বাদাইস্লুইজ গেটের মাধ্যমে পদ্মা নদীর সাথে সঙযুক্ত রয়েছে। বিলটি বর্ষাকালে অপরুপ সৌন্দর্য ধারন করে। বর্ষাকালে বহু দর্শক বিলটির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এ স্থানে আগমন করে থাকে। সুজানগরের ১০টি ইউনিয়নই এ বিলের সাথে সংযুক্ত।

অবস্থান- সুজানগর সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৫কি.মি. পূর্বে অবস্থিত।

২৯। তাঁতীবন্দ বিজয় গোবিন্দ চৌধুরী জমিদার বাড়ি- আনুমানিক ২০০ বছর আগে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতিবন্দ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্ম হয় জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর। তিনি তার জমিদারিত্বের কার্যকালে শতাধিক বিঘা জমির উপর জমিদার বাড়ী নির্মান করেছিলেন। বিশাল মনোমুগ্ধকর এ বাড়ীর এক তৃতীয়াংশ জুড়ে নির্মান করা হয়েছিল অত্যাধুনিক ডিজাইনের একাধিক অট্টালিকা, পূজা মন্দির, দিঘী এবঙ দুটি সুউচ্চ দর্শনীয় মঠ। যুগের বিবর্তনে এবং সময়ের পালাক্রমে স্বর্গীয় জমিদার বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর সকল স্থাপনা ধ্বংস হতে চললেও আজো পাবনা এবং সুজানগর বাসীর মনে প্রানে চির স্মরনীয় হয়ে আছে বিজয় গোবিন্দ চৌধুরীর কর্মযগ্যের ইতিহাস।

অবস্থান- সুজানগর উপজেলা থেকে উত্তর দিকেপ্রায় ৫ কি.মি. তাঁতিবন্দ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিদার বাড়ীটি অবস্থিত।

৩০। বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র- উপমহাদেশের বরেণ্য নানা গুনীজনের, দেশী বিদেশী অভিথিবৃন্দের এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আগমনের স্মৃতিঘেরা ঐশ্বর্যের কিংখাবে আকীর্ণ নাম বনমালী ইনস্টিটিউট। যুগের দাবীকে মেটাতে ১৯২৪ খ্রিস্টাবে্দর ৫ মার্চ এর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

অবস্থান- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৪৫০ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

৩১। পাবনা টাউন হল- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাবনার সূর্যসন্তানদের কীর্তি অম্লান। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রয়েছে এই জেলার ছাত্র-যুবক ও শ্রমিকদের অনন্য অবদান। তারই সূতিকাগার পাবনার ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দান, যার প্রতিষ্ঠা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে। ইতিহাসের বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে এই টাউন হল, যা অনেক বরেণ্য রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতিতে ধন্য। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অশ্বিনী কুমার, এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ নেতা ভাষণ দিয়েছেন এই টাউন হলের জনসভায়। ১৯০৮ সালে এই টাউন হল প্রাঙ্গণে হয়েছিল কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলন, যেখানে সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আব্বাস উদ্দীনসহ নন্দিত অনেক শিল্পী গান গেয়েছেন এখানে।

অবস্থান- পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৪০০ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

৩২। শীতলাই জমিদার বাড়ি– আনুমানিক ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জমিদার জগেন্দ্রনাথ মৈত্রী এই রাজবাড়িটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। রাজবাড়িটি তিনটি একতালা ভবন এবং ১ টি দুতালা ভবন ও ১ টি মন্দির নিয়ে গঠিত। এই রাজবাড়িটির পাশেই ঐতিহাসিক শীতলাই দিঘি বয়ে গেছে। যা “হেমন্ত সাগর” নামেই বেশি পরিচিত।

অবস্থান- পাবনার চাটমোহর থানার শেষ প্রান্তে ১৫ কিঃমিঃ উত্তর পূর্বে সমাজ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন শাহী মসজিদ।

৩৩। রাজা বনওমালীর বাড়ি- তাড়াশের জমিদার বনওয়ারী লাল রায় নদীবেষ্টিত বনবেষ্টিত ছায়া সুনিবিড় আম্রকাননের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার নাম অনুসারে ফরিদপুরে একটি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তত্কালে জমিদার তাড়াশ থেকে করতোয়া, গুমানী, বড়াল ও চিকনাই নদীপথে এসে ইছামতি নদী দিয়ে পাবনা সদরে খাজনা দিতে যেতেন। যাত্রাপথে একবার তিনি বড়াল নদীর পাড়ে এ সুন্দর ছায়াঘেরা স্থানে যাত্রা বিরতি করে বিশ্রাম করেন। সে সময় তিনি একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখে মুগ্ধ বা বিস্মিত হন। ব্যাঙ সাপকে ভক্ষণ করছে। এতে তিনি বুঝতে পারেন জায়গাটি ব্যতিক্রমধর্মী। কারণ হিন্দু শাস্ত্রমতে সাপ মনসাদেবীর প্রতিমূর্তি। তিনি জায়গাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে বাড়ি তৈরি করেন এবং আস্তে আস্তে তাড়াশ থেকে বনওয়ারী নগরে তার জমিদারীর সকল কার্যক্রম স্থানান্তর করেন। প্রাচীন এই রাজবাড়িটিতে রয়েছে নজরকাড়া বেশকিছু ভাবন।

অবস্থান- ফরিদপুর উপজেলা ভাবনটিই ফরিদপুর রাজবাড়ী তথা রাজা বনওমালীর বাড়ি।

৩৪। হাটগ্রাম সোনালী সৈকত- মনোমুগ্ধকর এই স্থানটি শীত কালে অবারিত ধান ক্ষেতের নয়োনাভিরাম সবুজের সমারহ, এখানে আগত দর্শনার্থীদের মন হরন করে। বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে পানি আর আকাশ যেন ওপাড়ে ছুয়েছে এমন সোনালী সৈকত খ্যাত এ স্থানে উত্তর বঙ্গের রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শতশত সৌন্দর্য্য পিপাসু লোকের আগমন ঘটে। বর্ষার সময় সোনালী সৈকত থেকে প্রায় ২ কিমি পূর্বে বিশাল জলাভূমির মধ্যখানে দিঘা পার্শ্ব বাড়ী ‍‍”বৃহস্পতি পিকনিক সেন্টার” অবস্থিত।

অবস্থান- ভাঙ্গুরা উপজেলা থেকে মাত্র ৬.৬ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত।

৩৫। রূপপুর পারমানবিক বিদুৎ কেন্দ্র- Rooppur Nuclear Power Plant) ২ হাজার ৪ শত মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরিকল্পিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের প্রথম প্রস্তাব করা হয় ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে। এ সময় তৎকালিন সরকার ২৫৩ দশমিক ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। ঐ সরকার বেশকিছু পর্যালোচনার ভিত্তিতে ১৯৬৩ সালে পাবনার রূপপুরে ৭০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অনুমোদন দেয়। ১৯৬৪ এবং ১৯৬৬ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে আলোচনা হয় কানাডিয়ান সরকারের সাথে যা পরবর্তি কয়েক বছর সুইডিশ সরকার এবং নরওয়েজিয়ান সরকারের সাথেও আলোচনা চলতে থাকে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৬৪ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সকল যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের উদ্দেশে জাহাজে করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই জাহাজ পাকিস্তান (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তা চট্টগ্রাম বন্দরে না এনে করাচিতে নিয়ে যায়।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে আলোচনা হলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০০৯ সালের বাংলাদেশ সরকার পুনরায় রাশিয়ার সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের আলোচনা শুরু করে এবং একই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা MOU (Memorendum of Understanding) স্বাক্ষরিত হয়। তবে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ২০১০ সালের ২১ মে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ক একটি Framework আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মস্কোতে। যার ফলশ্রুতিতে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে পাবনার রূপপুরে দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার জন্য রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে সাত বছর। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদকাল হবে ষাট বছর ধরে।

অবস্থান- ঈশ্বরদী উপজেলায় লালন শাহ্ সেতুর নিকটে।

৩৬। ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট- ১৯৫১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে মাত্র ১৭ জন জনবল নিয়ে ‘ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করেন। দেশের একমাত্র ইক্ষু গবেষণা এটি। ২০১৫ সালের ০৯ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশ বলে বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Sugarcane Research Institute) এর নাম পরিবর্তন করে সরকার বাংলায় ‘বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট’(বিএসআরআই) এবং ইংরেজীতে Bangladesh Sugarcrop Research Institute (BSRI) প্রজ্ঞাপন জারী করিয়াছে। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠান ইক্ষুসহ তাল, খেজুর, গোলপাতা, সুগারবিট, স্টেভিয়া ইত্যাদি মিষ্টি জাতীয় ফসলের গবেষণা , প্রযুক্তি ও কলাকৌশল উদ্ভাবন অব্যাহত রেখেছে।

অবস্থান- ঈশ্বরদী সদর উপজেলা থেকে ২কি.মি. পূর্বে ঈশ্বরদী-দাশুরিয়া সড়কের পাশে অবস্থিত।

৩৭। নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস- ৩ মার্চ ১৯৬৭ সালে মিলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালের জুন মাসে। মূলত দেশের বিভিন্ন চিনিকল থেকে প্রাপ্ত আখের ছোবড়া (ব্যাগাস)-এর ওপরে ভিত্তি করেই মিলটি স্থাপিত হয়। নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল কাগজ সভ্যতার ইতিহাসে অত্যাধুনিক মিল হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিল। এই মিলের কাগজ উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নত ব্যাগাস ডাইজেস্টার পাল্প মিলওয়াশিং, স্কিনিং, রিচিং, রিফাইনিং, ওয়েবারজেশন, ডায়িং, ক্যালেন্ডারিং, রিউইনজিং, ফিনিশিং।  ১৯৭০-৭১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ২ হাজার ৬শ’ ৫৭ মেট্রিকটন কাগজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু মার্চ ১৯৭১ থেকে জুন ১৯৭৩ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী মেরামতের জন্য মিলটি বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৭৫ সালের মার্চ মাস থেকে ১৩১ জন কর্মকর্তা এবং ১১৩৮ শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে নর্থবেঙ্গল পেপার মিল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।

অবস্থান- ঈশ্বরদী সদর উপজেলা থেকে ৬ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত।

৩৮। সুচিত্রা সেনের বাড়ি- মহানায়িকার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিধন্য এই বাড়ির আঙ্গিনা। ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে এই মহানায়িকার নানা ছবি, যেখানে কোথাও তিনি সাবলীল বাঙালি নারী আবার কোথাও ইংরেজি ঢংয়ে নায়িকার বেশে, কোথাও তাকে দেখা যাচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে একাকার। কিছু ফেস্টুনে তার জীবন আর কর্মের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও রয়েছে এখানে। সরকার এখানে একটি চলচ্চিত্র আর্কাইভ এবং একটি লাইব্রেরি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদিন ঘরে শ-দেড়েক মানুষ আসে এই জাদুঘর দেখতে।

অবস্থান- বাড়িটি শহরের গোপালপুরের হেমসাগর লেনে অবস্থিত।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৩
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৫
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৭
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩০
    এশা রাত ২০:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!