সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ওমর আলীর আজ ৭৯তম জন্মদিন

 

।। এবিএম ফজলুর রহমান।।

‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ খ্যাত একুশে পদক প্রাপ্ত এবং বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ওমর আলীর আজ ২০ অক্টোবর ৭৯তম জন্মদিন।

মৃত্যুর পর তৃতীয় জন্মদিন পালনের জন্য পাবনার ফোল্ডার কবিতা সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তি প্রত্যন্ত কোমরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন তিনি।

নির্লোভ র্নিমহ সাধাসিধে কবি ওমর আলী পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

বাংলা ও ইংরেজিতে ডবল এম এ কৃতি এই শিক্ষাবিদ ও কবি ১৯৩৯ সালের ২০ অক্টোবর জন্মগ্রহন করেন পাবনা শহরের দক্ষিনের দুর্গম চরশিবরামপুর গ্রামে।

কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। ২০১৬ সালে মৃত্যুর পর তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন।
১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ এবং ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ পাশ করেন।

তার ৪৩টি কাব্যগ্রন্থ ও ২টি উপন্যাস রয়েছে। এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি, কুতুবপুরের হাসনাহেনা, খান ম্যানসনের মেয়ে প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

পঞ্চাশ দশকের অন্যতম প্রধান কবি ও বাংলা একাডেমীর পুরস্কার প্রাপ্ত প্রফেসর ওমর আলী পাবনা সদর উপজেলার পদ্মানদী তীরবর্তি নিভৃত পল্লী চরআশুতোষপুর গ্রামের নিজ বাড়ীতে দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন।

কবি ওমর আলীর বাসায় লেখক এবিএম ফজলুর রহমান।

২০১২ সালের ২৩ মার্চ তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হন আর তখন থেকেই তিনি বাড়ীতে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন।

২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর সমকাল পত্রিকায় ‘অর্থাভাবে কবি ওমর আলীর চিকিৎসা হচ্ছে না’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে কবি ওমর আলীর চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নেন ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শামিম আহমেদ।

এ ছাড়া পত্রিকার খবর পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এককালীন দুই লক্ষ টাকা সহায়তা দেন। স্থানীয় কবি ও সাংবাদিক ও সমকালের সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তখন পাবনা থেকে কবিকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শামিম আহমেদের সহায়তায় আমৃত্যু তাকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি ও বাংলা একাডেমীর পুরস্কার প্রাপ্ত প্রফেসর ওমর আলী বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত কবিতা লিখেছেন।

তিনি ছিলেন দুই বাংলার সু-পরিচিত কবি। প্রেমের কবি হিসেবেও তার ছিল সূখ্যাতি। এ যাবত কবিতা ও উপন্যাস মিলে তাঁর ৪৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচিত কবিদের নিয়ে বেশ কিছু যৌথগ্রন্থেও তাঁর লেখা রয়েছে।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে- “ওমর আলীর শ্রেষ্ঠ কবিতা”।

প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন- একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পদক, বন্দে আলী মিয়া পদক, আলাওল পদক, আবুল মনসুর আহমেদ পদক, রাজশাহী বিভাগীয় গুণীজন সম্মাননা পদক প্রভৃতি।

কাব্য সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে ”এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি” কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমীর পুরস্কার। এ ছাড়া তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর ফেলো সদস্য ছিলেন।

পঞ্চাশ দশকের অন্যতম এ কবি চিরায়িত বাংলার অপূব সৌন্দয্য আর মানুষের সুখ দু:খ নিয়ে অবিরত লিখে গেছেন।

তার সহিত্য জীবনের কবি আল মাহমুদ, কবি শামসুর রাহমান, কবি হাসান হাফিজসহ সমসাময়িক অনেক লেখক ও কবি তার একান্ত বন্ধু ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সাহিত্য সাধনা করেছেন।

কবির ছোট ছেলে মফিজ সরোয়ার আলী জানান, “সমকালে খবর প্রকাশের পর থেকে তার বাবার মৃত্যু পর্যন্ত ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাদের সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পাবনার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের যে ভাবে সহায়তা করেছেন এ জন্য কবি পরিবার কৃতজ্ঞ”।

কবির মৃত্যুর পর তৃতীয় জন্মদিন পালনের জন্য পাবনার ফোল্ডার কবিতা সম্পাদক কবি ইদ্রিস আলী পাবনা প্রেসক্লাবে কবি ওমর আলী স্বর্ণপদক প্রদান গুণিজন সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন জাহেদী, ড. রকিবুল হাসান, ড. বাকিবিল্লাহ বিকুল, কবি ইসরাফিল হোসেন, সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান, আখতরুজ্জামান আখতার, উৎপল মির্জাসহ বরেণ্যে ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, প্রধান সম্পাদক বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা।

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!