বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

এডওয়ার্ড কলেজে ভাষা-আন্দোলন

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙালি : পর্ব-১

।। ড. এম আবদুল আলীম।।

[গবেষক-প্রাবন্ধিক ড. এম আবদুল আলীমের ভাষা-আন্দোলনবিষয়ক গবেষণামূলক লেখা ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলি রে বাঙালি’ শিরোনামে এখন থেকে নিউজ পাবনা ডটকম অনলাইন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।

ভাষা-আন্দোলন গবেষণার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ভাষা আন্দোলন গবেষণাকেন্দ্র।’

ভাষা-আন্দোলন বিষয়ে এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পাঁচটি গবেষণাগ্রন্থ; গ্রন্থগুলো হলো : ‘ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ : কতিপয় দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিব : কতিপয় দলিল’, ‘পাবনায় ভাষা-আন্দোলন’, ‘সিরাজগঞ্জে ভাষা-আন্দোলন’ এবং ‘ভাষাসংগ্রামী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’।

পাবনায় ভাষা আন্দোলন গ্রন্থের জন্য তিনি ২০১৪ সালে লাভ করেন ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’। ১০০ পর্বের ধারাবাহিকের আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব, শিরোনাম : ‘এডওয়ার্ড কলেজে ভাষা আন্দোলন’।]

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ (১৮৯৮) ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে বহু আন্দোলন-সংগ্রামের পীঠস্থান। ১৮৯৪ সালে শিক্ষানুরাগী শ্রী গোপালচন্দ্র লাহিড়ী নিজ বাড়িতে পাবনা ইনস্টিটিউট নামে যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯১১ সালে সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ড-এর স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামকরণ করা হয় এডওয়ার্ড কলেজ। (সূত্র : বাংলাপিডিয়া) উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কলেজ ছাত্রআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

বামধারার প্রগতিশীল রাজনীতি যেমন এখানে বিকশিত হয়, তেমনি প্রতিক্রিয়াশীলদেরও শক্ত অবস্থান ছিল এই কলেজে। স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম এবং সর্বোপরি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে এখানকার ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন এবং অনেকে দেশের জন্য জীবনোৎসর্গ করেন।

ভাষা-আন্দোলনের দুই পর্বেই এখানকার ছাত্র-শিক্ষকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা-আন্দোলন শুরু হলে এই কলেজের শিক্ষক মওলানা আবদুল হামিদসহ অনেকেই তার সঙ্গে যুক্ত হন। এ সময় গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রনেতা এ এল এম মাহবুবুর রহমান খান।

(সূত্র : পাবনায় ভাষা আন্দোলন) ১লা মার্চ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২রা মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় এডওয়ার্ড কলেজের টাউন হোস্টেলে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে আমিনুল ইসলাম বাদশা, লুৎফর রহমান এবং অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতির ফলে সভা ভ-ল হয়ে যায়।

৩রা মার্চ এডওয়ার্ড কলেজের হোস্টেলে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। (সূত্র : পাবনায় ভাষা আন্দোলন) এ পর্বে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রদের সংগঠিত করে ভাষা-আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পাবনায় এসেছিলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের তখনকার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মতিন, পরবর্তীকালে যিনি ‘ভাষা মতিন’ নামে পরিচিত হন।

এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন : ‘১১ মার্চ ১৯৪৮ সংগ্রাম পরিষদ সারা পূর্ববঙ্গে ধর্মঘট আহ্বান করে। ছাত্রলীগের নেতারা হরতালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাকে পাবনা যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমি পাবনা যাই। ১১ মার্চ ১৯৪৮ পাবনায় সফল হরতাল পালিত হয় এডওয়ার্ড কলেজে এক বিরাট ছাত্রসভায় বক্তৃতা দিই।’ (সূত্র : একুশের পটভূমি একুশের স্মৃতি) আবদুল মতিন ছাড়াও এ সময় এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রদের সংগঠিত করতে এসেছিলেন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সুলতান।

মূলত, পাবনা অঞ্চলে বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই কলেজ। ১৯৫১-৫২ সালে এখানকার ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের নেতা আবদুল মমিন তালুকদার।

১৯৫২ সালের ২৭শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে সারা দেশের মতো পাবনা তথা এডওয়ার্ড কলেজেও আন্দোলনের ঢেউ লাগে। ছাত্রনেতা আবদুল মোমিন তালুকদারকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।

এডওয়ার্ড কলেজের ভাষা-অন্দোলনের ইতিহাসে জড়িত আছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাম। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভাষা-আন্দোলন সমসাময়িককালে অর্থাৎ ১৯৫১ সালের শেষের দিকে এডওয়ার্ড কলেজের বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। (সূত্র : অন্তরঙ্গ আলোকে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) তিনি ঐ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রসঙ্গে কথা বলেন।

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। (সূত্র : পাবনায় ভাষা আন্দোলন) ভাষা-আন্দোলনের সময় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী একাধিকবার এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রসমাবেশে বক্তৃতা করেন।

১৯৫২ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি এডওয়ার্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ছাত্রসভায় তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য ছাত্রসমাজকে আহ্বান জানান। আবদুল মমিন তালুকদার লিখেছেন : ‘মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জামাতা পাবনার বিশিষ্ট এডভোকেট আব্দুস সবুর খান সাহেবের বাড়িতে যান এবং আমাকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য লোক দিয়ে ডেকে পাঠান।

আমি দেখা করতে গেলে আমরা বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে কি করছি জিজ্ঞাসা করেন। আমরা তার সঙ্গে আলোচনা করে ১৭ ফেব্রুয়ারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে একটি ছাত্র-জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিই এবং ওই সভায় বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করি। তিনি রাজি হন। আমরা কলেজ-স্কুলসমূহ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিই এবং প্রচার শুরু করি।
… ১৭ ফেব্রুয়ারি সমগ্র পাবনা শহরে উত্তেজনা। বিকাল ৩টায় কলেজ মাঠে বিশাল ছাত্র-জনতার সমাগম ঘটে। … অবশেষে মওলানা সাহেব এলেন কিন্তু সামান্য বক্তব্য রাখলেন ২১শে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের ডাক সম্পর্কে। (সূত্র : ভালোবাসি মাতৃভাষা)

২১শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি পালনে আগের দিন থেকেই এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা তৎপর হয়ে ওঠেন। পাবনায় ভাষা-আন্দোলন গ্রন্থে বলা হয়েছে : ‘২০ ফেব্রুয়ারি রাতে এডওয়ার্ড কলেজের টাউন হোস্টেলে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’র এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন জেলা প্রশাসন পাবনা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে।

ছাত্ররা টাউন হোস্টেলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়, চারজনের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তারা এডওয়ার্ড কলেজের আমতলা থেকে মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করবে। একইসাথে বিকেলে এডওয়ার্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

২০শে ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই এডওয়ার্ড কলেজের আমতলায় শত শত শিক্ষার্থী জমায়েত হওয়া শুরু করে। এরপর আবদুল মমিন তালুকদারের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে সুশৃঙ্খলভাবে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।

‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিতে দিতে তারা পাবনা শহরে মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিকেলে এডওয়ার্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিরাট ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়কার দৈনিক আজাদ ও সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায় এ সংবাদ লিপিবদ্ধ আছে।

দৈনিক আজাদ পত্রিকায় বলা হয় : ‘পাবনা ২২শে ফেব্রুয়ারী। গতকল্য পূর্ব্বাহ্ন ১১ ঘটিকায় পাবনায় প্রায় তিন হাজার ছাত্র ধর্মঘট করিয়া ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘ছাত্র বন্দীদের মুক্তি চাই’ প্রভৃতি ধ্বনিসহ সমস্ত শহর প্রদক্ষিণ করেন। অপরাহ্নে কলেজ প্রাঙ্গণে এক বিরাট জনসভা হয়। সভায় মির্জ্জা শওকত হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব্ব পাকিস্তানের সরকারী ভাষা হিসেবে গ্রহণের এবং আরবী হরফে বাংলা ভাষা প্রচলনের অদ্ভুত প্রস্তাব প্রত্যাহারের এবং অবিলম্বে ছাত্রদের মুক্তি দাবী করিয়া প্রস্তাব গৃহীত হয়।’ (২৬ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র-জনতার উপ গুলিবর্ষণের সংবাদ পাবনায় পৌঁছালে ছাত্ররা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

রাতেই এডওয়ার্ড কলেজের টাউন হোস্টেলে আবদুল মমিন তালুকদারের সভাপতিত্বে ছাত্রদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২২শে ফেব্রুয়ারি এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা পাবনা শহরে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে এবং মিছিল-সমাবেশে অংশ নেয়।

৫২-পরবর্তী সময়েও এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা একুশের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার থাকে। ১৯৫৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি পাবনা জিন্নাহ পার্কে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সম্মেলন আহ্বান করা হয়। এ উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীন, আবদুল কাইয়ুম এবং সরদার আবদুর রব নিস্তার পাবনায় আসেন।

খুনি নূরুল আমীনের পাবনায় আগমনের প্রতিবাদে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা সংগঠিত হয় এবং গঠন করে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।’ ১৫ই ফেব্রুয়ারি ভোরে এডওয়ার্ড কলেজের টাউন হোস্টেলের ছাত্ররা কিছু কুকুর ধরে সেগুলোর গলায় শক্ত কাগজে মোট অক্ষরে নূরুল আমীন লিখে ছেড়ে দেয়। মানুওেষর ভয়ে কুকুরগুলো দিগিবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।

এই প্রতীকী প্রতিবাদে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা শরবাসীকে জানান দেয় খুনি নূরুল আমীন কুকুররূপে পাবনায় এসেছে। ঐ সময় সত্যিই নূরুল আমীন পাবনা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।

পরে এডওয়ার্ড কলেজসহ পাবনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে নূরুল আমীন ও তার সফরসঙ্গীরা পাবনা ছাড়তে বাধ্য হন।

ভাষা-আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কালো কাপড় দিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করে। পরে ১৯৫৪ সালে এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্র-সংসদ নেতৃবৃন্দ কলেজের পুরনো ভবনের সামনে শহিদ মিনার নির্মাণ করেন। (সূত্র : ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস) ভাষা-আন্দোলনে এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রদের অবদান ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

ভাষা-আন্দোলন তাঁদের চেতনায় যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল, তার সূত্র ধরেই তাঁরা ৫৪-র নির্বাচন, ৬২-র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-র ৬-দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক অবদান রেখেছেন।

এক কথায় বলা যায়, ভাষা-আন্দোলন তথা পূর্ব বাংলার আন্দালন-সংগ্রামের ইতিহাসে এডওয়ার্ড কলেজ গৌরবময় স্থান দখল করে আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১২
    যোহরদুপুর ১২:০০
    আছরবিকাল ১৬:৪০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৮
    এশা রাত ২০:১৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!