সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

এবার রাজশাহীর বিএনপি নেতাদের দল ছাড়ার গুঞ্জন

রাজশাহীর কিছু জনপ্রিয় নেতা বিএনপি ছাড়ছেন এমন গুঞ্জন অনেক দিনের। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও নগর পর্যায়ের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিসহ বিএনপির নেতাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগে যোগদান কারবেন এ গুঞ্জনের তালিকায় রাজশাহী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নামও শোনা গেছে। মাস তিনেক আগে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখিও হয়েছে। সেখানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতারও নাম এসেছে।

এরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলের প্রভাবশালী মন্ত্রী, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

ইতোমধ্যেই তাদের ঘনিষ্ঠজন নেতা হিসেবে পরিচিত অনেকেই বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। আর তাদের আস্থাভাজন নেতাদের অনেকেই দলের নিস্ক্রিয় রয়েছেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ তারা বিএনপির কোন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন না। এমনকি সম্প্রতি হয়ে যাওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তারা নিস্ক্রিয় ছিলেন।

সর্বশেষ গত বুধবার বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইসহাক আলী। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির হাত ধরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হকের আস্থাভাজন বিএনপি নেতা।

এছাড়াও এর আগেই ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েক বিএনপি নেতা দলে ছেলে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর মধ্যে রয়েছেন, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কাকনহাট পৌরসভার চারবারের মেয়র আব্দুল মজিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক সারোয়ার জাহান ডাবলু, সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এবিএম কামারুজ্জামান বকুল, যুবদল সভাপতি রবিউল আলম, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ও চরআষাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ। তাদের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকশ নেতাকর্মীও বিএনপি ছেড়ে আওয়াম লীগে যোগদান করেন।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি প্রবীন নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক। দুই দফায় মন্ত্রীও ছিলেন। তবে তত্বাবধায়ক সরকার আমনে তার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় তার ভাই সাবেক পুলিশ প্রধান এনামুল হককে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী বিএনপির এক নেতা জানান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও দলে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছেন। দলীয় কোন কর্মসূচীতে তাকে তেমন দেখা যায় না। এছাড়াও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের অনেক নেতা অংশ নিলেও ব্যারিস্টার আমিনুল হক একদিনও আসেন নি। তার তার ঘনিষ্ঠ নেতাদেরকেও দেখা যায়নি।

অপরদিকে, একের পর এক ব্যারিস্টার আমিনুর হকের কাছের নেতারা বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের যোগদান করলেও তার ভূমিকা রহস্যজনক। এ সব কারণেই ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপি ছাড়ছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেন রাজশাহী বিএনপির ওই নেতা।

এদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিস্ক্রিয় ছিলেন মিজানুর রহমান মিনুর কাছের নেতা হিসেবে পরিচিত বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু ও রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলীসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

ভোট আগেই বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগের যোগ দিয়ে নৌকার পক্ষে প্রচার চালান ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মনির হোসেন, বিএনপি নেতা ও ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান লিটন, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম পল্টুসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা। তারা সবাই মিজানুর রহমান মিনুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও মিনুর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত বিএনপির বেশকিছু ব্যবসায়ী নেতাও নিস্ক্রিয় ছিলেন সিটি নির্বাচনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী নগর বিএনপির এক নেতা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনুর ভূমিকা প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যেই নির্বাচনের তার ভূমিকা নিয়ে দলের হাই কমান্ডে অভিযোগও করা হয়েছে। কারণ তিনি শুধুমাত্র ফটো শেসনেই ছিলেন নির্বাচনী প্রচারে। এছাড়াও তিনি বিএনপি ছাড়তে পারেন এমন গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মিনুকে বাদ দিয়ে রাজশাহী নগর বিএনপির সভাপতি করা হয় সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে। এছাড়াও যুগ্ম মহাসচিবের পদও হারান তিনি। তাকে করা হয় বিএনপির চেয়ারপারসনের ৯৩ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৮৪ নং উপদেষ্টা। এ নিয়ে মিজানুর রহমান মিনু দলের হাই কমান্ডের প্রতি নাখশ ছিলেন।

মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। এছাড়াও মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে রাজশাহী-২ সদর আসনের এমপিও হন। তিনি তিনবার নগর বিএনপির সভাপতি ও একবার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!