সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০১:৩২ অপরাহ্ন

ঐক্যফ্রন্টে ভিকটিম সিনড্রোম: কারণ কী

 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

ভিকটিম সিনড্রোম (Victim syndrome) কথাটি আমি প্রথম শিখেছি জার্মানির ইতিহাস থেকে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ক্ষমতায় গিয়েই হিটলারের নাৎসি দল ইহুদিদের ওপর অত্যাচার শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে কমিউনিস্ট ও সোশ্যালিস্ট দলের নেতাকর্মীদের ওপরও নির্মম অত্যাচার চালায়। এই অত্যাচারের বৈশিষ্ট্য ছিল, কমিউনিস্ট বা সোশ্যালিস্ট দলের নেতা বা কর্মীকে হত্যা করার পরই হিটলারের ফ্যাসিবাদী দলটি প্রচার করত, এই নিহত নেতা বা কর্মী তাদের লোক। কমিউনিস্টরা তাকে হত্যা করেছে।

এই নেতার জন্য তারা শোক র‌্যালি বের করত। মিছিলের লোকজন তাদের ওপর কমিউনিস্ট ও সোশ্যালিস্টদের অকথ্য নির্যাতনের কথা প্রচার করে প্রকাশ্যে শোকাশ্রু ফেলত। কিন্তু মিছিল চলাকালে কমিউনিস্ট ও ইহুদিদের দোকানপাটের ওপর হামলা চালিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাত। বহির্বিশ্ব জানত, নাৎসি পার্টির নেতাকর্মীরাই নির্যাতিত ও নিপীড়িত। রূপকথার রাক্ষসী যেমন রূপসী নারী সেজে রাজপরিবারে ঢুকে রাতে নিজ মূর্তি ধারণ করে রাজপরিবারের সদস্যদের একের পর এক হত্যা করত, জার্মানির বর্বর ফ্যাসিবাদী নাৎসি দলের ব্লু শার্টের গুণ্ডারাও তেমনি রাতে নির্মম হত্যা, ধর্ষণ চালানোর পর দিনের বেলা নিজেরাই নির্যাতিত সাজত।

নাৎসিদের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বিশ্নেষণ করতে গিয়ে পরবর্তীকালে জার্মানির এক ইতিহাসবিদ বলেছেন, নাৎসিদের মধ্যে ভিকটিম সিনড্রোম দেখা দিয়েছিল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে। নাৎসি দল ক্ষমতায় গিয়েই জার্মান পার্লামেন্ট ভবন (রাইকস্ট্যাগ) আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে। এই কাজটা তারা করেছিল এক সাবেক কমিউনিস্ট কর্মী দ্বারা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে। সে কাজটি করার পরদিনই তাকে গ্রেফতার করে প্রচার করা হয়, এই ধ্বংসাত্মক কাজটি করেছে জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি। এই অভিযোগ তুলে হাজার হাজার কমিউনিস্ট নেতা ও কর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। শয়ে শয়ে কর্মীকে হত্যা করা হয়। পার্লামেন্ট ভবন ধ্বংস করে দেশের শত্রু কমিউনিস্টরা দেশ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চায় বলে প্রচার করা হয়।

এটা তো গত দশকের কথা। সেই শতকেই স্পেনের ডিক্টেটর ফ্রাঙ্কো, পর্তুগালের সালাজার এবং ইতালির মুসোলিনির রাজনৈতিক দলে এই ভিকটিম সিনড্রোম দেখা দিয়েছিল। গত শতকের ভারত উপমহাদেশেও এই ভিকটিম সিনড্রোম দেখা দিয়েছিল দেশভাগের পর বিশেষভাবে পাকিস্তানে। পাকিস্তানের শাসক দল মুসলিম লীগ ক্ষমতা হাতে পেয়েই ফ্যাসিবাদী চেহারা ধারণ করে। তাদের টার্গেট ছিল সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল, বিশেষ করে কমিউনিস্ট পার্টি।

সদ্য প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসুল হক টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে জয়ী হলে তাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে জেলে বন্দি করে রাখা হয়। জেলের ভেতরেই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান। শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসার পথে মুন্সীগঞ্জে গ্রেফতার করে দেশ থেকে বহিস্কার করা হয়। কংগ্রেস নেতা যতীন সেন ঢাকা জেলে রহস্যময়ভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

কমিউনিস্ট পার্টি এই সময় একটা রাজনৈতিক ভুল করেছিল। তারা ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হায়’ স্লোগান দিয়ে একটা গোপন আন্দোলন শুরু করেছিল। তাকে অজুহাত করে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়। নিরাপত্তা আইনে হাজার হাজার কমিউনিস্ট নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখা হয়। রাজশাহী জেলে পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে পুলিশ ঢুকিয়ে গুলি চালিয়ে কমিউনিস্টসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়। কথাশিল্পী শহীদ সাবের জেল থেকে বেরিয়ে এসে পাগল হয়ে যান। হিটলারের জার্মানিতে যেমন রোঁমারঁলাসহ বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীদের জেলে পুরে অত্যাচার চালানো হয়েছিল; তেমনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে মুনীর চৌধুরী, অজিত গুহসহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে বছরের পর বছর জেলে আটকে রাখা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনে তো নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে ডজনের বেশি ছাত্র-যুবককে হত্যা করা হয়েছে। প্রচার করা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা ভারতের হিন্দু ও কমিউনিস্ট। ১৯৫০ সালে ভৈরব ব্রিজে রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। শাসকরা বলেছেন, এটা কমিউনিস্টদের ধ্বংসাত্মক কাজ (Subversive activity)। আবার তাদের ওপর চলেছে নির্মম নির্যাতন। পরে জানা গেছে, এটা কমিউনিস্টদের কাজ নয়। কিছু চোর রেললাইনের ফিশপ্লেট চুরি করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

হিটলারের জার্মানির মতোই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশে) সর্বপ্রকার নাগরিক অধিকার হরণ করে, সংখ্যালঘুবিরোধী দাঙ্গা বাধিয়ে দুই কোটির মতো সংখ্যালঘুকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। দাঙ্গায় নিহত হয় অসংখ্য সংখ্যালঘু। ১৯৫৪ সালে যখন পূর্ব পাকিস্তানে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে, তখন দেখা যায় ৩৮ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি বিনা বিচারে জেলে রয়েছে। আট বছরে কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান দূরে থাকুক, ৩৮টি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হয়নি। মুসলিম লীগের শাসকরা বড় বড় জনসভায় চোখে রুমাল দিয়ে কাঁদতেন; বলতেন, ‘শিশুরাষ্ট্র’ পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন, বিরোধী দলগুলো পাকিস্তান ও ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য তাদেরও ধ্বংস করার চক্রান্ত চালাচ্ছে (নূরুল আমীনের একটি বিবৃতি থেকে উদ্ধৃত)। এটাও কি নিজেদের ফ্যাসিবাদী চেহারা ঢাকা দেওয়ার জন্য ভিকটিম সিনড্রমের শিকার সাজা নয়?

মুসলিম লীগের শাসন এখন গতায়ু; কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে তার উত্তরাধিকার বহন করে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি। এই পার্টির আদর্শ মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িকতা এবং মুখোশ অসাম্প্রদায়িক নাম, জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। দল ও সরকার গঠন স্বাধীনতার শত্রু ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোর সহায়তায়। পূর্ববর্তী সরকারের উচ্ছেদ রক্তাক্ত পথে। তার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সংশ্নিষ্টতা ছিল। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর শামরিক শাসন প্রবর্তন করেন। কর্নেল তাহেরসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করা হয়। সামরিক বাহিনীর হাতেই জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাকে ‘শহীদ’ আখ্যাদান এবং আবার ভিকটিম সিনড্রোমের আশ্রয় গ্রহণ।

তার স্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন। কিন্তু আখ্যাত হন ম্যাডাম জেনারেল। গণতন্ত্রের পথ অনুসরণের বদলে তিনি স্বামীর ফ্যাসিবাদী শাসনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। পুত্রকে দ্বিতীয় জিয়া হিসেবে তৈরি করেন। দুর্নীতি ও হিংস্রতায় যার জুড়ি নেই। খালেদা জিয়ার আমলে যত রাজনীতিক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী হত্যা হয়েছে, তা সম্ভবত আরেক স্বৈরাচারী নারী শাসক আর্জেন্টিনার ইসাবেলা পেরনের আমলেও হয়নি।

তার পতনের পর আদালত তাকে ১৪ বছর কারাদণ্ড দিলেও বাংলাদেশে খালেদা জিয়া দুর্নীতির জন্য পেয়েছেন ১০ বছর কারাদণ্ড। ইসাবেলাকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় তার দলও মাতম শুরু করেনি। বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার দল তার জন্য মাতম শুরু করেছে। মনে হয়, দুর্নীতির দায়ে তাকে দণ্ড দিয়ে আদালতই অপরাধ করেছে। দুর্নীতি ও নানা গুরুতর অপরাধে দলের নেত্রী এবং তার পুত্র তারেক আদালতের বিচারে দণ্ডিত হওয়ায় বিএনপি এমন ভূমিকা গ্রহণ করেছে, যেন তারা জন্মাবধি একটি নির্যাতিত দল। বিএনপি নেতারা অনবরত মায়াকান্না কেঁদে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তাদের ধারণা, দেশের মানুষ তাদের শাসনামলের সব ইতিহাস ভুলে গেছে।

বিএনপি শুধু মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অনুসারী নয়, বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামরিক শাসনেরও উত্তরাধিকারী। দলটি চালিত হয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে আওয়ামী লীগের শাহ কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। জাতীয় প্রধান কবি শামসুর রাহমানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। হুমায়ুন আজাদকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সব শীর্ষ নেতাকে গ্রেনেড হামলায় হত্যা করার বর্বর চেষ্টা হয়েছে। শতাধিক নিরীহ মানুষ হতাহত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতাও কি সরকারি চক্রান্তে নিহত হয়েছেন? খালেদা জিয়ার গায়ে কি একটি ফুলের টোকাও পড়েছে? খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাভাইয়ের মতো সন্ত্রাসীরা উত্তরবঙ্গে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। হাসিনা সরকারের আমলে সর্বপ্রকার সন্ত্রাস (বিএনপির সন্ত্রাসসহ) দমন করা হয়েছে। বিএনপির আমলে ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার পানি, সাগর সীমানা নির্ধারণ, স্থলসীমানা নির্ধারণসহ একটি দাবিও আদায় করা যায়নি। হাসিনা সরকারের আমলে অনেক বড় দাবি আদায় হয়েছে। সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

তারপরও ড. কামাল হোসেনের মতো ‘গণতন্ত্রের সোল এজেন্ট’ কী করে বিএনপির সাম্প্রতিক অতীতের স্বৈরাচারী শাসন, দুর্নীতি ও তারেক রহমানের মতো দুর্বৃত্তের কাণ্ডকারখানার কথা ভুলে গিয়ে তার ভোট থিওরির গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলাল, তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। বুড়ো বয়সে ভিমরতি না ধরলে এমন কাণ্ড কেউ করতে পারে না। যে কামাল হোসেন দু’দিন আগে বলেছিলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি আর এ দেশে থাকবেন না;’ সেই কামাল হোসেন এখন তারেক রহমানের হয়ে বিএনপির লিডারশিপে প্রক্সি দিচ্ছেন।

ড. কামাল হোসেন যদি দেশের প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের চরিত্রবান, অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের ব্যক্তিদের গণফোরামে জমায়েত করে বা নতুন দল গঠন করে দেশে তার কথিত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে যেতেন, নির্বাচনে অংশ নিতেন, তাহলে তাকে বাহবা দিতাম। তিনি পরাজিত হলেও বলতাম, তিনি দেশে আরও ভালো গণতন্ত্র ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জয়-পরাজয় তুচ্ছ করে সংগ্রাম চালাচ্ছেন; তা না করে তিনি যে কাজটি করেছেন, তা একটি গ্রাম্যগল্পের মতো। গৃহস্থের বাড়িতে অশান্তি চলছে, সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে- এই অজুহাতে কিছু চোর-ডাকাত নিয়ে হামলা চালাল।

ড. কামাল হোসেন ভালোভাবেই জানেন, তিনি যাদের নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন, তাদের মধ্যে স্বাধীনতার শত্রু আছে, একাত্তরের ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীরা আছে, পঁচাত্তরের বিশ্বাসঘাতকরা আছে, জিয়া ও এরশাদ আমলের স্বৈরাচারের সহযোগীরা আছে। ইনফেনটাইল অ্যাডভেঞ্চারিস্ট দলের হতাশ ও ব্যর্থ বিপ্লবীরা আছে। এরাই এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থী। ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তার দলেরও মুষ্টিমেয় নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঐক্যফ্রন্ট যদি অসম্ভবকে সম্ভব করে নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে পরবর্তী সরকার গঠন করবে কারা? মুখ্যত বিএনপি-জামায়াতই নয় কি? ড. কামাল এই সরকার দ্বারা দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান? এটা তো একাত্তরের পরাজিত শত্রুদেরই ডেকে এনে আবার ক্ষমতায় বসানো হবে। বুঝতে দেশের কারোরই বাকি নেই, ড. কামাল হোসেন শেষ বয়সে দেশে আরও উন্নত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে নামেননি। তিনি তার ব্যক্তিগত রাগ ও হতাশার দরুন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ ও প্রতিহিংসা সাধনের জন্য রাজনীতিতে নেমেছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনও সফল হয় না। কামাল হোসেনেরও হবে না। তার জন্য হয়তো রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাওয়ার এক ট্র্যাজিক পরিণতি অপেক্ষা করছে।

দেশে গণতন্ত্র নেই- এ কথা সত্য নয়। আওয়ামী শাসনেই দেশে গণতন্ত্র থাকে। তবে এই গণতন্ত্রকে আরও উন্নত গণতন্ত্রে পরিণত করা দরকার। সে জন্য আওয়ামী লীগের মহাজোটের ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জয়ী হওয়া দরকার। দেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প সুস্থ গণতান্ত্রিক দল গড়ে ওঠা আবশ্যক। অতীতের দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও গণশত্রুদের জোটকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা দ্বারা গণতন্ত্র নয়, বন্যতন্ত্র বা জঙ্গলতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, দেশে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চলছে। এককালের নিষ্ঠুর নিপীড়করা এখন নির্যাতিত সেজে সাধারণ ভোটদাতাদের কাছে ভোট চাচ্ছে। এই কৌশল এবার সফল হবে না। কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন যে কপটকান্না, এটা দেশের মানুষ এখন ভালোই জানে। ঐক্যফ্রন্টে ভিকটিম সিনড্রোম দেখা দেওয়ার আসল কারণও তাদের কাছে গোপন নেই।

লন্ডন, ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার, ২০১৮


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১২:০৫
    আছরবিকাল ১৬:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:১১
    এশা রাত ১৯:৪১
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!