বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

খালেদার মুক্তি, হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচন নয়: বিএনপি

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও তফসিল ঘোষণার আগে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জনসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আমাদের শেষ কথা- অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে এবং তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

“জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং নির্বাচনের সময়ে সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমাদের নেতা-কর্মীদের কাছে আবেদন, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হোন। আন্দোলন ছাড়া, দেশনেত্রী মুক্ত হওয়া ছাড়া, মাদার অব ডেমোক্রেসির মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্ত হবে না এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আমি জনগণের কাছে ফরিয়াদ করতে চাই, দেশনেত্রী আজ গণতন্ত্রের জন্য কারাগারে রয়েছেন। স্বামী হারিয়েছেন, পুত্র হারিয়েছেন, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন এক পুত্র নির্বাসিত। তার কী এটা প্রাপ্য এই জাতির কাছে?

“আজকে আপনাদেরকে বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে- আমাদের মাতা গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রীকে আমরা আর কারাগারের অন্তরালে দেখতে চাই না। সরকারকে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করুন, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সব দায় দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।”

নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আসুন এখন আর কোনো বিভেদ নয়, গণতন্ত্রকে রক্ষা করবার জন্য, দেশকে রক্ষা করবার জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে আহ্বান করে গিয়েছিলেন, আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে বলেছিলেন। সেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
“আমরা স্বাগত জানাই যারা আজকে ঐক্য করছে। আমরা তাদের আহ্বান জানাই, আসুন আরো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি; এই দুঃশাসনকে, এই স্বৈরাচারকে যারা আমাদের বুকের ওপর বসে আছে তাদেরকে পরাজিত করি।”

২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রায়ের আগেই বলা হচ্ছে, ২১ আগস্টের মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। আপনারা কি বিচারকের দায়িত্ব নিয়েছেন? ষড়যন্ত্র করেছেন ঠিক মতো?

“মুফতি হান্নানকে দিয়ে একটা মিথ্যা ১৬৪ করে তারেক রহমান সাহেবকে আসামী করেছেন। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই এই ধরনের ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং দেশের মানুষ এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”

কারাগারে বন্দি বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, মাহবুবুল হক নান্নু, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাসান মামুন, ছাত্র দলের খন্দকার এনামুল হকসহ আটক সকল নেতাদের মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।

একই সঙ্গে জনসভার আগে গতরাতে নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির নিন্দা জানান তিনি।

জনসভা সফল করার জন্য কারাবন্দি খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছার কথা নেতা-কর্মীদের প্রতি জানান বিএনপি মহাসচিব।

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আপনাদের বলতে চাই, নির্বাচনের আগে আপনারা অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষ হয়ে যান, ভালো হয়ে যান।

“এদেশের মানুষ আপনাদের থেকে আশা করে, নির্বাচনের আগে, তফসিল ঘোষণার আগে অথবা পরে এদেশে যারা অর্থ লুট করেছে, ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ারবাজার ডাকাতি করেছে এই সকল ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী।

“প্রজাতন্ত্রের সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী যে যে বিভাগে থাকেন না কেন, তাদের আমরা বলতে চাই, এই সকল চিহ্নিত ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে না পারে তার ব্যবস্থা আপনাদের গ্রহণ করতে হবে। যারা মালয়েশিয়া, কানাডায় সেকেন্ড হোম করেছে, তাদের নাম আপনারা জানেন, তাদের আপনারা চিহ্নিত করুন।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, “সরকার দেশনেত্রীর মুক্তি আটকিয়ে রেখেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভবপর নয়। একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

“আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে। আমাদের আন্দোলন হবে আমাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য, সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে জন্য।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “গতরাতে বাসা-বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও আপনারা জনসভার জনস্রোত রুখতে পারেননি। এই জনসভা আপনাদের পতন ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
“সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে সাবধান হোন, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ও এরশাদ ছাড়া এদেশের সকল মানুষ চায়। এই এরশাদ গৃহপালিত বিরোধী দল নয়, হিজড়া। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে।

“আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পথে আসুন, গণতন্ত্রের পথে যারা যাবে তাদের বাঁধা দেবেন না।”

সদ্য উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পাওয়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘ভয়-ভীতি করে ক্ষমতায় থাকার নীলনকশায় ওরা ভরসা করতে পারছে না বলে এখন ইভিএমের ওপর ভর করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। আর অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।

“নইলে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য যে সুনামি আসবে তাতে ইভিএমসহ সব কিছু ভেসে যাবে। দেশের জনগণ আজকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।”

দীর্ঘদিন আত্মগোপানে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে এটা আমাদের জন্য বেদনার ও লজ্জ্বার। উনি (শেখ হাসিনা) পারফিউম মেখে সেজেগুজে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবেন- এভাবে দেশ চলতে পারে না।

“শেখ হাসিনাকে বলব, জনগণের আওয়াজ কী আপনি শুনতে পাচ্ছেন না? এই আওয়াজ আপনার পতনের আওয়াজ। এই সরকারের নির্যাতনের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।”

মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, জ্যেষ্ঠ নেতা সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, আমানউল্লাহ আমান, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ফজলুর রহমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কবির রিজভী,মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা জেলার দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, টাঙ্গাইলের শামসুল আলম তোফা, মুন্সিগঞ্জের কামরুজ্জামান রতন বক্তব্য রাখেন।

অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ঢাকা মহানগরের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ছাত্র দলের রাজীব আহসানও বক্তব্য দেন।
জনসভায় সিলেটের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয়, অঙ্গসংগঠন ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফকিরেরপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার হাতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্র রূপ নেয়। দুপুর ২টায় শুরু হয়ে জনসভাটি শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৫টায়।

নেতা-কর্মীরা ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই,’ ‘ আমরা নেত্রী, আমার মা, বন্দি থাকতে দেব না’, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না’, ‘তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে তার বিশাল প্রতিকৃতি সম্বলিত কয়েকটি ডিজিটাল ব্যানার টানানো হয়।

এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তাকে মুক্তি দিয়ে ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থাকরার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নয়া পল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি; সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৯
    যোহরদুপুর ১১:৪৩
    আছরবিকাল ১৫:৪৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:২৬
    এশা রাত ১৮:৫৬
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!