বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

খালেদার ৬ মাস কারাবাস এবং মুক্তির আন্দোলন

বলতে গেলে অর্ধ বছর পার হয়ে গেছে খালেদার কারাবাসের। খালেদা কারাগারে থাকাতে দলের অবস্থাও নাজুক। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিএনপির ভরাডুবি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখলেও দলের জন্য কোনো সন্তোষজনক বার্তা নিয়ে আসতে পারেনি এই জয়। বাকি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপিকে। অভিভাবকহীন বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। অপরদিকে খালেদার কারাবাসে খুব বেশি চিন্তিত নন তার রাজনৈতিক কর্মীরা। বলতে গেলে ধুঁকে ধুঁকে চলছে বিএনপির কার্যকলাপ। অনেক নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে দিচ্ছেন। মনোনিবেশ করছে অন্য কাজে অথবা যোগ দিচ্ছে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে। দেশের অন্য এক রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়া এক নেতাকর্মী বলেন যে বিএনপি এখন দুর্নীতিগ্রস্থ ও বিলুপ্তপ্রায় একটি দল। দলের ভিতর চলছে এখন নানা কারণ নিয়ে অন্তঃকোন্দল। এমনকি কেউ খালেদার মুক্তি নিয়েও খুব মাথা ঘামাচ্ছে না।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বারবার বলছেন যে খালেদার মুক্তির পরই তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু এই আশ্বাস অনেকটা মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। নানা অজুহাতে ধামাচাপা পড়ছে খালেদার মুক্তির আন্দোলন। এই আন্দোলনে সাড়া জাগাতে পারেনি বিএনপি। অনেকটা ব্যর্থ রাজনৈতিক দলের তালিকার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এই বিএনপি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ নিম্ন আদালতের রায়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের মুখোমুখি হন খালেদা জিয়া। গত মে মাসে আপিল বিভাগের আদেশে তার জামিন হলেও ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দায়ের করা অন্যান্য মামলায় তিনি গ্রেফতার আছেন। এই গ্রেফতারের জন্যই তাকে ভুলতে বসেছে তার দলের নেতা কর্মীরা। খালেদার মুক্তির আন্দোলন করার কথা ছিল তিনি গ্রেফতার হওয়ার পরই কিন্তু খালেদার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে কেউ নড়েচড়ে বসছেন না।

দেখতে দেখতে জাতীয় নির্বাচনও আসন্ন। নেতাকর্মীদের কথা ছিল নির্বাচনের আগেই খালেদাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা তারা করবেন। কিন্তু তাদের অবস্থা এখন ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’। খালেদাকে ছাড়াই এই ভঙ্গুর বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!