সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার, সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, এনআইসিভিডি

বড়দের ঘুমের পাশাপাশি শিশুদের ঘুমের ব্যাপারটিও সমান গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ঘুম নিয়ে উদ্বিগ্ন নন এমন মা-বাবা কমই আছেন। ঘুম শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ভালো ঘুম না হওয়া তাদের স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ। কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্ক হলে আপনি আপনার শিশুকে একটি ভালো ঘুম উপহার দিতে পারেন। অনেক শিশু দিনে বেশি ঘুমায় আর রাত প্রায় নির্ঘুম কাটায়। এসব শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের বিড়ম্বনা একটু বেশিই। কারণ তাদের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়েরও প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। মূলত নবজাতক শিশুদেরই এই সমস্যাটি বেশি হয়।

কারণ শিশু দীর্ঘদিন মাতৃগর্ভে থাকার কারণে পৃথিবীর আলোতে এসে দিন-রাত বুঝতে পারে না। তা ছাড়া শিশুর মগজের যে অংশ দিন ও রাত বুঝতে পারে, তা পরিণত হতেও সময় লাগে। আর এ কারণেই মূলত নির্ঘুম রাত কাটায় নবজাতক। এভাবে চলে শিশুর বেশ কয়েকটা মাস। সব শিশুই প্রয়োজনমতো ঘুমিয়ে নেয়। তাই সে যতক্ষণ ঘুমাতে চায়, ঘুমাতে দিন। শরীর খারাপ থাকলে, বিশেষ করে শিশুর পেটে ব্যথা হলে শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। শিশু বয়সের পেটের ব্যথা বা ইনফেনটাইল কলিকের শিকার বাচ্চারা পেটে ব্যথার কারণে সারারাত কান্নাকাটি করতে পারে।

যাদের সন্তান রাতে না ঘুমিয়ে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটায়, তাদের বিড়ম্বনা সবচেয়ে বেশি। কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে শিশু দিন ও রাতের পার্থক্য দ্রুত বুঝতে পেরে দিনে জেগে থেকে রাতে ঘুমাতে শুরু করে। ঘরে উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখুন দিনের বেলায়। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলুন, বাচ্চার সঙ্গেও কথোপকথন চালান। মিউজিক ও টিভিও চালাতে পারেন। দিনের বেলা অতিথি এলে শিশুকে ঘুম থেকে তুলতে সংকোচ করবেন না। দিনের বেলায় শিশুকে একেবারে নির্ঘুম রাখতে হবে তা নয়। শিশু ২ থেকে ৪ বার এক-দেড় ঘণ্টার ঘুম দিতে পারে। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার পর শিশু যেন না ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খেলা, কথা বলা ও মিউজিক এ সময় চালিয়ে যেতে হবে। বাচ্চা যেন দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে পায়ে আলত টোকা দিন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুছে দিলে শিশু ফ্রেশ থাকবে, এতে ঘুমাবেও কম। সন্ধ্যা থেকে শিশুকে জাগিয়ে রাখলেও রাত ৮-৯টার পর থেকেই শিশুর ঘুমের আয়োজন শুরু করে দিন। ঘরের সব বাতি নিভিয়ে দিন। ঘুমের আগে শিশুকে সর্বশেষ রাত ১০টার দিকে খাওয়াতে চেষ্টা করুন। এরপর শিশু না ঘুমালেও তাকে বিছানায় নিয়ে যান, রাতে ঘুমানোর জন্য ছড়া বা গান শোনাতে পারেন। তবে টিভির ধারে-কাছেও নেবেন না। কোলে নিয়ে বা দোলনায় দোল দিয়ে শিশুকে তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়ানো যায়। তবে সতর্ক থাকতে হবে ছয় মাস পর্যন্ত। কারণ শিশুর ঘুমের প্রকার ও সময় নির্দিষ্ট হতে ছয় মাস লেগে যায়। ঘুমের এসব পদ্ধতি অবলম্বনের সময় খুব কঠোর হওয়া যাবে না।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!