শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

গাজীপুরে কারখানায় অগ্নিসংযোগ, বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার কর্মবিরতি দিয়ে বিক্ষোভ, কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের গুলি ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে এদিন গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, ভোগড়া ও আশপাশের এলাকার কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকাল ৭টা থেকে গাজীপুরের টঙ্গী, গাজীপুরা, হোতাপাড়া, কোনাবাড়ি ও মৌচাক এলাকায় ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের সহকারী কমিশনার থোয়াই অং প্রু মারমা জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থাকে থেকে ওই সোয়া ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা ওই মহাসড়কে অবস্থান নেয়ায় গাজীপুরা থেকে উভয়দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে সকাল সাড়ে ১১টায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, একই দাবিতে সকালে টঙ্গীর বিসিক এলাকার ১৫-২০টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একসঙ্গে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। সকালে তারা লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দিতে আহ্বান করে।

এ সময় টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকার নর্দান গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ না দিয়ে বরং আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে বিসিক পানির ট্যাংকি পর্যন্ত নিয়ে যায়। দুপক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে টিকতে না পেরে একপর্যায়ে নর্দানের শ্রমিকরা তাদের কারখানায় ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। বহিরাগত শ্রমিকরা নর্দানে হামলা চালাতে গেলে সেখানকার শ্রমিকরা কারখানার ছাদ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বাইরে গরম পানি ছুড়তে থাকে।

পরে তারা বিকল্প পথে নর্দান কারখানা থেকে বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় উত্তেজিত বহিরাগত শ্রমিকরা নর্দানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সেখানে দমকল বাহিনীর গাড়ি যেতেও বাধা দেয় উত্তেজিত শ্রমিকরা।

এর আগে পাশেই প্যাট্টিয়ট ইকো অ্যাপারেলস নামের একটি নতুন কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বহিরাগত শ্রমিকরা। কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুরের পর সেখানে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

দমকল বাহিনীর কর্মীরা যেতে না পারায় কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে শিল্প পুলিশ গিয়ে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. এমদাদুল হক জানান, বুধবার সকালে মহানগরীর গাজীপুরা এলাকার মণ্ডল গ্রুপের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে আশপাশের কারখানার সামনে গিয়ে শ্রমিকদের তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোপা গার্মেন্টের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে গাজীপুরা এলাকায় পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। এতে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে প্রায় একই সময়ে সিটি কর্পোরেশনের সাইনবোর্ড, নাওজোড়, ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিভিন্ন করাখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!