মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

চাটমোহরে কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে পোস্টার

স্টাফ রিপোর্টার : অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের অপসারণ চেয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছেন একই কলেজের সহকারী শিক্ষকরা।

আজ শুক্রবার (২৪ মে) সকালে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানো হয়। এতে কলেজের ৫১ জন শিক্ষক অংশ গ্রহন করেন।

পোস্টার ও লিফলেটে উল্লেখিত অভিযোগগুলো হলো অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কাম্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রতারণার মাধ্যমে তিনি চাটমোহর ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

কলেজটি সরকারি ঘোষণার পর গভর্নিং বডিকে না জানিয়ে ব্যাক ডেটে রেজুলেশন টেম্পারিং করে জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত ২২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেন তিনি।

নিজের স্ত্রী, বোন, শ্যালক, শ্যালিকা, চাচাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই-বোনদের নিয়োগ দিয়ে মেধাবীদের বঞ্চিত করেছেন।

কলেজ মার্কেটের ২৮টি দোকানের জামানতের প্রায় ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। কলেজের শতবর্ষী গাছ কেটে পাচারের পাশাপাশি ফুলবাগান বিস্তার ও পরিচর্যার নামে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন।

অধ্যক্ষ ভর্তি, পরীক্ষার ফি ও ফরম পূরণ বাবদ সরকার নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত আদায় করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞান গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক দ্রব্যাদি ক্রয় না করেও তিন লাখ ৫৮ হাজার আত্মসাত করেছেন।

প্রশংসাপত্র বাবদ বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে জনপ্রতি ৩৪০ টাকা হারে আদায় পূর্বক লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন।

শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের নামে জনপ্রতি ১৪০ টাকা হারে আদায় করে তা আত্মসাত করেছেন। অনার্স শিক্ষার্থীদের সেমিনার ফি বাবদ জনপ্রতি ৪০০ টাকা হারে প্রতিবছর আদায় করে আত্মসাত করেই চলেছেন।

অনার্স ও ডিগ্রি পাশ কোর্সের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ফি বাবদ জনপ্রতি ১৫০ টাকা হারে আদায় করে আত্মসাত ও প্রতিবছর কলেজ লাইব্রেরির বই কেনার নামে মিথ্যা ভাউচার দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা করে আত্মসাত করেছেন এই অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া চাটমোহরের সর্ববৃহৎ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজি করে অধ্যক্ষ বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে গত কয়েক বছরে নিজ নামে ও স্বজনদের নামে জমি, ভবন, মার্কেটসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে অপসারণ করতে শিক্ষকরা সকল স্তরের মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল মোস্তফা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কলেজটি জাতীয়করণের দ্বারপ্রান্তে এসেও তাঁর কারণে ভেস্তে যেতে চলেছে।
অধ্যক্ষ আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করছেন। শেষ সময়ে এসে তার (অধ্যক্ষ) অনিয়ম ঢাকতে হাইকোর্টে গিয়ে রিট করেছেন যা মোটেই কাম্য নয়। এতে শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান হুমকির সম্মুখীন।

তাঁর নানা ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণে লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানো কার্যক্রম চালাচ্ছি। তাঁর অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলন অব্যহত থাকবে।

এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর আগেও তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৫০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:১১
    যোহরদুপুর ১১:৪২
    আছরবিকাল ১৫:৩৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৪
    এশা রাত ১৮:৪৪
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!