বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

ছুটি নেই- সবদিনই কাজ করতে হয় নগরবাড়ি ঘাট শ্রমিকদের!

আরিফ খাঁন, বেড়া প্রতিনিধি : শ্রম আইন লঙ্ঘন করেই সপ্তাহের সাতদিন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নগরবাড়ি নৌবন্দর ঘাট শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ বুজে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। একাধিকবার মৌখিকভাবে বলার পরেও মেলেনি প্রতিকার। সার, সিমেন্ট, ক্লিংকার, কয়লা, গমসহ পণ্যসামগ্রী বোঝাই খালাশের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ভুগছেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

পাবনা বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের অবস্থিত নগরবাড়ি নৌ-বন্দর থেকে ১৯৬৪ সালে আরিচা রুটের ফেরিচলাচল শুরু হলে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাতি লাভ করে নগরবাড়ি।

আশির দশকের শেষ দিক থেকে এই রুটে তিনতলা রো রো ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ফেরিঘাট সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিরা জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানী করা এ কয়লার কার্গোসহ প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি কার্গো জাহাজ ভিড়ে নগরবাড়ী নৌবন্দরে।

১৫-২০ হাজার টন রাসায়নিক সার, সিমেন্ট, ক্লিংকার, কয়লা, গমসহ পণ্যসামগ্রী জাহাজ লোড-আনলোডের কাজ করা হয়। প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার শ্রমিক কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধা পর্যন্ত এখানে কাজ করেন।

ভরা মৌসুমে আরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন এই বন্দরে।

ঘাট শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়লা উঠা নামানোর কাজ করলেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না। এতে কয়লার গুড়ো শ্বাস-প্রশ্বাসে ঢুকে পড়ছে শ্রমিকদের শরীরে। ফলে তারা ক্যান্সারসহ যক্ষা রোগের ঝুঁকি বহন করছেন।

তারা অভিযোগ করেন, শ্রম আইনে সাপ্তাহিক ছুটির বিধান থাকলেও তা মোটেও তোয়াক্কা করছেন না ঘাট কর্তৃপক্ষ। ফলে এই নৌবন্দরে শ্রমিকরা সাপ্তাহিক ছুটির অভাবে স্বাভাবিক জীবন ক্রমেই হারাতে বসেছেন। তাই এ বিষয়ে সুষ্ঠ সমাধানের আশায় তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিনে নৌ-বন্দরে গিয়ে দেখা মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। বন্দরে অবকাঠামো না থাকায় মালামাল ওঠা নামানোর জন্য কাঠের সিঁড়িই ভরসা। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এদিকে পাবনা জেলায় শুক্রবার ঔষধের দোকান ও খাবার হোটেল ছাড়া প্রায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক বন্দ রাখা হয়। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষ তাদের লাভের আশায় বন্ধ রাখছে না নৌ বন্দরের কার্যকম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা কোন মানুষের কাতারেই পরি না। আমাদের কোন নিজস্ব জীবন বলতে কিছু নাই। সপ্তাহে সাতদিন আর মাসে ত্রিশ দিনই আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পরিবার পরিজনকে দেওয়ার মতো আমাদের সময় হয় না। শুধু কলুর বলদের মতো খেটেই মরি।

তারা বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দাবী করলে ঘাটে আসতে নিষেধ করে কর্তৃপক্ষ।
বন্দরে কাজ করা হেলাল, ফজলুল হক, দ্বীন ইসলাম, লিটনসহ অনন্য শ্রমিকরা আরো জানায়, কাজ হারানোর ভয়ে আমরা কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না তবে মৌখিকভাবে অনেক বার বলা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করলে আমাদের বাড়তি কোন টাকাও দেয় না।

তারা বলেন, আমরা সপ্তাহে অন্তত একদিন ছুটি চাই। যাতে করে সারা সপ্তাহ কাজের পর পরিবার পরিজন নিয়ে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতে পারি।

এব্যাপারে সিমেন্ট আনলোড করা শ্রমিক সরদার আলম বলেন, ফজলু মিয়া চেয়ারম্যান বেঁচে থাকা কালিন ১৫-২০ বছর আগে নৌ-বন্দরে শুক্রবার ছুটি থাকত এখন সে নিয়ম উঠে গেছে।

এ ব্যপারে শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রম পরিদর্শক সাধারন) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যপারে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি তবে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল্লাহ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্রমিকরা ছুটির কথা বলেছে। কিন্তু বন্দরে জাহাজ পৌছানোর পরে মালামাল নামানোর নির্দিষ্ট একটা সময় থাকে।

যথা সময়ের মধ্যে না নামালে জাহাজ ভাড়ার জরিমানা দিতে হয়। এছাড়াও ডিলারদের চাপে শুক্রবারেও বন্দর চালু রাখতে হয়।

যদি চিটাগং জাহাজ কর্তৃপক্ষ সিমেন্ট, সারসহ অনন্য মালামালের ডিলারগণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়টি তাদের আমলে নেয় তাহলেই শুক্রবারে নৌবন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা সম্ভব হবে। তবে ছুটির বিষয়টি নিয়ে আমি সবার সাথে কথা বলব।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:০৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৩০
    যোহরদুপুর ১১:৫১
    আছরবিকাল ১৫:৩৭
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৩
    এশা রাত ১৮:৪৩
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!