সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

জনমত জরিপে মোদি কেন এগিয়ে?

প্রধানত তিনটি কারণে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ রাহুল গান্ধীর ইউপিএ থেকে এগিয়ে রয়েছে লোকসভা ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলে। প্রথমত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে উচ্চবর্ণের মধ্যে গরিবদের জন্য চাকরি-শিক্ষায় ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা।

দ্বিতীয়ত, ফেব্রুয়ারি থেকে কৃষকের মাথাপিছু মাসিক ২ হাজার রুপি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া। তৃতীয়ত, পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হানা দিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া।

মার্চের শেষ সপ্তাহে সমীক্ষা সংস্থা সিএসডিএস-লোকনীতি ও জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু, হিন্দি দৈনিক ভাস্কর এবং কংগ্রেস নেতা পরিচালিত তিরঙ্গা টিভির যৌথ জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়েছে, এ তিনটি প্রধান সিদ্ধান্তের আগে মোদি বনাম রাহুল লড়াই একেবারে হাড্ডাহাড্ডি ছিল।

কিন্তু ১ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নেওয়া এ তিনটি সিদ্ধান্ত মোদিকে এগিয়ে দিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ ভোটার মোদিকেই প্রধানমন্ত্রীরূপে পছন্দ করছেন। ২০১৮ সালের মে মাসে এ সংস্থাগুলো যৌথ জরিপে দেখেছিল মোদিকে পছন্দ করছেন ৩৬ শতাংশ ভোটার।
অর্থাৎ এবার ৯ শতাংশ বেশি ভোটার পছন্দ করছেন। ২০১৪ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। তবে এ জরিপে আরও বিষয় উঠে এসেছে ওই তিনটি বিষয় বাদ দিলে। তা হলো কর্মসংস্থান। সবাই যে ওই তিনটি বিষয়ে ভোট দেবেন তা বলেননি। এক পঞ্চমাংশ ভোটার বলেছেন, কর্মসংস্থান ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক ষষ্ঠাংশর মতে, উন্নয়ন প্রধান বিষয়। দুই শতাংশ মানুষ নিরাপত্তাকে ইস্যু এবং তিন শতাংশ সংরক্ষণকে বললেও জরিপকারীদের মনে হয়েছে, ভোটারের অবচেতনে মোদির ওই তিনটি প্রধান ইস্যু প্রচ ভাবে প্রভাবিত করছে। পাঁচজন ভোটারের মধ্যে চারজন বালাকোট বিমান হানার কথা শুনেছেন এবং এরাই মোদিকে প্রধানমন্ত্রী চাইছেন।

এরাই সেই ৪৬ শতাংশ। কিন্তু যারা বিমান হানার কথা শোনেননি, তার মধ্যে ৩৬ শতাংশ মোদিকে প্রধানমন্ত্রী চাইছেন। সমীক্ষায় এও উঠে এসেছে, উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে মোদির জনপ্রিয়তা কম।
যে ৫৭ শতাংশ সংরক্ষণের কথা শুনেছেন, তার মধ্যে ৪৭ শতাংশ মোদিকে প্রধানমন্ত্রী চান। যারা সংরক্ষণের কথা শোনেননি, তার মধ্যে ৩৭ শতাংশ মোদিকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান। যেসব কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে গেছেন তার ৫৭ শতাংশ মোদিকেই পছন্দ করছেন। রাহুল গান্ধী রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কেলেঙ্কারির যে প্রচার করেছেন তার বিশেষ প্রভাব নেই ভোটারদের মধ্যে।

তেমনি সম্প্রতি রাহুল গান্ধী সব গরিবের জন্য ন্যূনতম আয় যোজনা ঘোষণা করেছেন তা এখনো ভোটারের মধ্যে পৌঁছায়নি। যারা মনে করছেন, রাফায়েল নিয়ে গোলমাল রয়েছে তার মধ্যে ৩৭ শতাংশ মোদিকেই ফের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান।

সুমিত্রা মহাজনের ‘না’ : বিদায়ী লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর আসনে দাঁড়াচ্ছেন না। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। সুমিত্রা মহাজন খোলা চিঠিতে প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন এ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে না?’ সুমিত্রা এ মাসেই ৭৬ বছরে পা দেবেন।

বিজেপি স্থির করেছে, দলের নেতারা বয়স ৭৫ পার করলে তাদের আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা হবে না। সে হিসেবে এ বছর বেশ কয়কজন প্রবীণকে লোকসভা নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যেমন লালকৃষ্ণ আদভানি (৯১), মুরলী মনোহর যোশী (৮৫), কারাজ মিশ্র (৭৭) ও বিসি খান্দুরি (৮৪)। তবে এ নিয়ম যে সবার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে তা নয়।

সুমিত্রা মহাজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কি ভোটে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পার্টি তাকে টিকিট দেয়নি! তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম দল বয়সের হিসাব করছে। আমি ভাবলাম দল হয়তো আমার জন্যই প্রার্থী ঘোষণায় দোনোমোনো করছে, সেজন্য আমি আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম।’ তিনি আহত হয়েছেন কিনা- এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুমিত্রা মহাজন বলেন, ‘আমার আর কিছু বলার নেই।’ নির্বাচনের শেষ ধাপে অর্থাৎ ১৯ মে এ আসনে ভোট করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪৮
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১৪
    যোহরদুপুর ১১:৫৫
    আছরবিকাল ১৬:৩৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩৬
    এশা রাত ২০:০৬

পাবনা এলাকার সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি

© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!