বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

জাবি ছাত্রী হলে জন্ম নেয়া সেই সন্তানের পিতার বাড়ি পাবনা!

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাবি ছাত্রী- ইনসেটে রনি মোল্লা ও নবজাতক।

বার্তাকক্ষ : শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে গোপনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন জাবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী।

এ সময় ভয়ে সন্তানকে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে নিজেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রুমমেটকে অনুরোধ করেন ওই ছাত্রী। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হলে ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরই মধ্যে কান্নার শব্দ শুনে ছাত্রী হলের ট্রাঙ্ক থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর নবজাতকটিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তাজউদ্দিন সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে গোপনে সন্তান জন্ম দেয়া সেই ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ডের খোঁজ পাওয়া গেছে। ছাত্রীর বয়ফ্রেন্ডের নাম রনি মোল্লা। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার বাড়ি পাবনায়।


রনি মোল্লা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে রনি মোল্লা পড়াশোনা করেছেন পাবনার শহীদ সরকারি বুলবুল কলেজে। একই কলেজে পড়াশোনা করেছেন গোপনে সন্তান জন্ম দেয়া সেই ছাত্রীও। তাদের দুজনের বাড়িই পাবনায়।

একই জেলায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনই হলে থাকার সুযোগে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় তাদের মধ্যে।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছাত্রীর প্রেমিক হিসেবে রনি মোল্লাকে চিহ্নিত করতে থাকেন বিভিন্নজন। ব্যাপক সমালোচনার মুখে রোববার দুপুরে ‘শুধুই জাহাঙ্গীরনগর’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি ক্লোজড ফেসবুক গ্রুপে রনি মোল্লা স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেন, ‘ওই ছাত্রীর সাথে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘নবজাতক প্রসবকারী ছাত্রীর সাথে রনি মোল্লার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল বলে আমাদের কাছে ছাত্রীটির বড় বোনও দাবি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এটা ওই ছাত্রীর বড় বোনের বরাত দিয়েই বলছি। কিন্তু, তারা সত্যিই বিবাহিত কিনা তা আমাদের তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।’

তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে রনি মোল্লার। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ছাত্রী।


রনি মোল্লা ও নবজাতক

এরপরও বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ নিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে রনির একাধিকবার বাগবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের সম্পর্কের অবনতিও হয়েছে।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রনি মোল্লা জানিয়েছেন, ‘আমার সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ওই সন্তানের বাবা আমি। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটেছে। এ নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না।’

এদিকে, সত্যতা জানতে রনি মোল্লার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। আর এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকায় নবজাতক প্রসবকারীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে, ওই ছাত্রীর একাধিক সহপাঠী জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর সন্তানসম্ভবার কথা তারা কখনই জানতেন না। এমনকি রুমমেটের কাছেও তিনি কখনও বিষয়টি বলেননি।

বিবাহিত হয়ে থাকলে গর্ভধারণ নিয়ে গোপনীয়তা ও প্রসবের পর ওই ছাত্রী নবজাতককে কেন ‘হত্যা’র উদ্দেশে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছিলেন, তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রীর রুমমেট ও আশেপাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তার প্রসব বেদনার কথা জানতে পারেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে জানালে নার্স এসে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজে নিতে বলেন। কিন্তু, এর আগেই সন্তান ভূমিষ্ট হলেও কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে রাখেন তিনি।

এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে এনাম মেডিকেলে নেয়ার পর তার কক্ষে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পান অন্য শিক্ষার্থীরা। খোঁজাখুজি করে কক্ষে থাকা ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই ছাত্রী

পরে নবজাতককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেল পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

নবজাতকের মৃত্যু সম্পর্কে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘অবহেলার কারণেই নবজাতকটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেগন্যান্সির সময় যেভাবে কেয়ার নেয়ার দরকার ছিল, তার কিছুই করা হয়নি। এরপর প্রসবের পর তাকে ট্রাঙ্কবন্দি করে রেখেছে। এসব কারণেই হয়তো বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

নবজাতক ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় অপরাধ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য গোপন করাটা অপরাধ। এই ঘটনা তদন্তে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাবেয়া খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৩:৪১
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:১২
    যোহরদুপুর ১২:০০
    আছরবিকাল ১৬:৪০
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৪৮
    এশা রাত ২০:১৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!