মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

জিয়া পরিবারকে ছেড়ে যাচ্ছে বিএনপি

বিএনপি একটি দল। একে দল না বলে অবশ্য বলা চলে, একটি কর্পোরেট হাউজ, যার মালিক ছিলেন জিয়া পরিবারের ব্যানারে গডমাদার খালেদা জিয়া এবং সন্ত্রাসী তারেক গং। রাজতন্ত্রের আদলে দলের চেয়ারের দখল নিতে মুখিয়ে ছিলেন জিয়ার অন্য বংশধরেরাও। দলের অন্য সবাই ছিলেন এদের স্টাফ অফিসারের মতো। যতক্ষণ মালিকের সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করতে পারেন চাকরিটা থাকে, নতুবা বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতি। মুখে মুখে ‘গণতন্ত্রে’র নাম জপলেও দলে মা-ছেলের আদেশই শেষ কথা।

এই স্টাফ অফিসারদের মধ্যে আবার ‘ইওর অবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট’ জাতীয় কিছু ব্যক্তি ছিলেন ‘হাউজের’ মালিকদের অতি কাছের। ফুট-ফরমায়েশ খাটা ‘তৈলজীবী’ ও ‘পদলেহী’ এ নিম্নমান ও নিম্নস্তরের লোকগুলোই আবার বড় বড় পদাধিকারী- যেমন স্থায়ী কমিটির সদস্য, সহ-সভাপতি, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এবং এরাই অঙ্গদলের নেতাদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। জিয়া পরিবারের হুকুম তামিল করাই যেন উঁচু থেকে নিচুস্তরের নেতাকর্মীদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল।

তবে আশার কথা হচ্ছে, এসবই এখন দুঃসহ অতীত। খালেদার কারাবাস ও তারেকের বিদেশে পলায়নের ফলে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরাই এখন দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ অবশ্য তারেকের প্রতিই। তাদের অভিমত, সন্ত্রাসী তারেকের কারণেই বিএনপি এখন বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও উগ্র মতবাদের দল হিসেবে পরিচিত।

ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে প্রায় সব সিনিয়র নেতার সাথেই বেয়াদবি করেছেন এই তারেক। এমনকি অনেকের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছিলেন বেয়াদব তারেক। আর সিনিয়র নেতাদের তুই-তুকারি করা ছিল তার কাছে নিত্যদিনের ব্যাপার।
তারেকের জামায়াত ঘনিষ্ঠতাও ছিল ওপেন সিক্রেট। বিএনপি আমলে শিবিরের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তারেক ‘ছাত্রদল ও শিবিরকে ‘একই বৃন্তে দু’টি ফুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা দেশেবিদেশে তুমুলভাবে সমালোচিত হয়। ভ্রান্ত মতবাদ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াত-শিবির বরাবরই ঘৃণিত। সেই জামায়াত-শিবির যখন আরেক সন্ত্রাসী তারেকের আশ্রয়ে ছোবল মারতে শুরু করে, দেশের পাশাপাশি দলের জন্যও তা বিপদজনক। ফলে যা হবার তা-ই হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, দেশের জনগণও এখন বিএনপিকে ঘৃণা করে। তারেক গং এর কুকর্মে সব হারানো বিএনপির হাইকমান্ড থেকে তৃনমূল এখন ‘ভিক্ষা চাই না, কুকুর সামলাই’ এর আদলে ‘ক্ষমতা চাই না, তারেক হটাও’ স্লোগান তুলেছেন। বিএনপির ‘বিষাক্ত ফল তারেককে’ হটিয়ে কোন ‘মিষ্টি ফল’ আসবে কিনা, সে প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যায়।
কেননা, ‘আমগাছে জাম হয়না’ একথা তো সাধারণেও জানে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৪
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৬
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২৮
    এশা রাত ১৯:৫৮
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!