সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

জিয়া পরিবারের কফিনে শেষ পেরেক

শেষ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে জিয়া পরিবারের অধ্যায়। বাংলাদেশের বুক থেকে নামতে যাচ্ছে এক জগদ্দল পাথর। বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ “ক্যু” প্রচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ এনে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা সেনা, বিমান বাহিনীর অফিসারের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন হাত।

প্রচলিত আছে, প্রতিদিন ডিনার চলাকালেই তিনি অসংখ্য ফাঁসির আদেশ অনুমোদন করতেন। বিদেশ যাওয়ার সময় বিমানের সিঁড়িতে উঠতে উঠতেও ফাঁসির হুকুমে সই করায় অভ্যস্ত ছিলেন জিয়া। মূলত, দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে আনতে যা যা করণীয়, তার সবই করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল “মীরজাফর জুনিয়র” নামে খ্যাত জিয়ার।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে “বাংলাদেশ বেতার” এর নাম পরিবর্তন করে পাকিস্তানের আদলে “রেডিও বাংলাদেশ” করা হয়। জিয়া ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন দেশে থাকা পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। পাকিস্তানের প্রধান দালাল গোলাম আযমকে একরকম জামাই আদর করেই দেশে ফিরিয়ে আনেন জিয়া। পাকিস্তানপন্থী সেনা অফিসারদেরকেও পুনর্বাসিত করেন। অপরদিকে, মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ এনে একের পর ফাঁসিতে ঝোলান। এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি তাঁদেরকে।

সামরিক শাসক জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বিদীর্ণ করেন বাংলাদেশের বুক। সংবিধানের প্রধান চার স্তম্ভ থেকে সরে যেতে থাকে বাংলাদেশ, অনুকরণ করতে থাকে পশ্চাৎপদ, ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানকে।

১৯৭৮ সালে কট্টরপন্থী, মধ্যমপন্থী, উদারপন্থী, দলছুট, সুবিধাবাদী ও ক্ষমতালোভী কিছু লোককে নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এক দলে এতরকম লোকের সমাবেশ এক বিরল ঘটনা। রসিকজনেরা অবশ্য বিএনপিকে ‘খাজা বাবার ড্যাগ’ নামে আখ্যায়িত করতেই পছন্দ করেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দল গঠনও ইতিহাসে নজিরবিহীন।

ক্ষমতায় থেকে সাফল্য অর্জন করতে না পারলেও “স্যুট-ব্যুট-চশমা” পরিহিত জিয়া “খাল কাটার ফটোশ্যুট” এ বেশ সফল হন। বিশ্বের ইতিহাসে এরকম “স্যুটেড-ব্যুটেড শ্রমিক” আর আছেন কিনা, তা গবেষণার ব্যাপার হতেই পারে।

“রক্ত হাতে, চশমা চোখে খুনী” হিসেবে কুখ্যাত জিয়া সামলাতে পারেননি নিজের দলের বিদ্রোহও। “ষড়যন্ত্রের পাকা খেলোয়াড়” জিয়া দলের কোন্দল মেটাতে গিয়ে খুন হন নৃশংসভাবে। এ যেন ইতিহাসেরই দায়শোধ।

জিয়া যেভাবে নিজের দল সামলাতে পারেননি, তেমনি পারেননি তার স্ত্রী-সন্তানদেরকেও সামলাতে। জিয়া জীবিতাবস্থায়ই তার স্বাক্ষর নকল করে নিজের ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডের আভাস দেন তারেক।

জিয়ার মৃত্যুর কিছুদিন পরে বিএনপির চেয়ারপার্সন হন “অশিক্ষিত” খালেদা জিয়া। এখনকার সময়ের হিসেবে যার শিক্ষাগত যোগ্যতা জেএসসি, তিনি দেশ কেমন চালাবেন, তা সহজেই অনুমেয়। হয়েছেও তাই। জনগণের ভোটে নয়, বিদেশী প্রভু ও দেশবিরোধী শক্তির সহায়তায় ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। সে আমলে উন্নয়ন হয়েছে, তবে তা বিএনপির মন্ত্রী-এমপি, নেতাকর্মীদের পকেটের। দেশে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি, বরং দেশকে পিছিয়ে দিতেই সচেষ্ট ছিলো খালেদা সরকার। বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ না নেয়া, মোবাইল মার্কেটকে উন্মুক্ত না করা ছিল সেই সরকারের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত।

পরের মেয়াদে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে বিএনপি। ভয়াবহ জঙ্গিবাদ, লাগামহীন দুর্নীতি, উন্নয়নহীনতা, সীমাহীন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় দেশ চলে যায় ব্যর্থ রাষ্ট্রের কাতারে।
“দুর্নীতির বরপুত্র” খ্যাত তারেক জিয়ার অসংখ্য কুকর্মে খাদের কিনারে চলে যায় বিএনপি।

সাম্প্রতিককালে ভাঙনের সুর বেজেছে বিএনপিতে। জিয়া পরিবারের অপকর্মের দায় আর নিতে চাচ্ছে না নেতাকর্মী-সমর্থক কেউই। তাদেরই প্রচ্ছন্ন সমর্থনে “প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া” ও “নির্বাসিত, দাগী আসামী” তারেকবিহীন বাংলাদেশের পথেই হাঁটছে বিএনপি।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!