সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন

জ্ঞান ফিরেছে রাবেয়ার, এখনও অচেতন রোকেয়া

বার্তাকক্ষ : ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রাবেয়া জেগে উঠেছে, মাকে চিনতে পেরে কোলে উঠতে চেয়েছে সে।

তবে তার বোন রোকেয়া এখনও অচেতন। গত ২ আগস্ট টানা ৩৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে এই দুই বোনের জোড়া মাথা আলাদা করেন বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক।

শনিবার (১০ আগস্ট) তিন বছর বয়সী এই দুই বোনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সিএমএইচে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা বলেন, শিশু দুটির জোড়া মাথা আলাদা করতে ৪৯টির মতো জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এগুলো ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত চিকিৎসকরা সফল এবং আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দুই শিশুর মা তাসলিমা খাতুন। তিনি চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘রাবেয়া আম্মু বলে ডেকেছে, কোলে নিতে বলেছে।’

পাবনার চাটমোহরের শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমার সন্তান রাবেয়া ও রোকেয়ার জন্ম ২০১৬ সালের জুলাইয়ে।

তারা দুই মেয়ের পরিস্থিতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছিলেন। এরপরই দুই শিশুর জোড়া মাথা আলাদা করতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এক পর্যায়ে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত। দুই বোনের চিকিৎসায় সমন্বয় করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ হাবিবে মিল্লাতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডা. সামন্ত লাল সেনও।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারা রাবেয়া-রোকেয়াকে নতুন জীবন দেওয়ার কঠিন চেষ্টায় হাত দেন। আর এই চেষ্টায় তাদের সঙ্গী হয়েছেন হাঙ্গেরির একদল চিকিৎসক।

সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান জানান, জোড়া মাথার শিশুদের আলাদা করার জন্য বিশ্বে এখন পর্যন্ত অস্ত্রোপচার হয়েছে ১৭টি। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ জোড়া শিশু এখনও বেঁচে আছে।

রাবেয়া-রোকেয়াকে আলাদা করার পর তাদের ত্বক ও টিস্যু দ্রুত বাড়াতে ‘ইমপ্ল্যান্টিং এক্সপান্ডার’ নামের নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম।

আইএসপিআর জানায়, রাবেয়া-রোকেয়া সিএমএইচের পোস্ট অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিটে রয়েছে। তাদের আলাদাকরণের ৮ দিন শেষ হয়েছে শনিবার। অপারেশনের পর কিছু ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা স্থিতিশীল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সিএমএইচের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী, হাঙ্গেরির অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপলের প্লাস্টিক সার্জন গ্রেগ পাটাকি, নিউরো সার্জন এনড্রুস চকে, পেডিয়াট্রিকস ইনটেনসিভিস্ট ডা. মার্সেলসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের সংশ্নিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:০৬
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:২৯
    যোহরদুপুর ১১:৫০
    আছরবিকাল ১৫:৩৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১২
    এশা রাত ১৮:৪২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!