রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১১ অপরাহ্ন

জয়ের ছন্দে ফেরার লড়াই আজ

স্থাপত্যের গরিমায়, সাংস্কৃতিক বর্ণাঢ্যতায়, প্রকৃতির লাবণ্যতায় কার্ডিফের গাজুড়ে ব্রিটিশ বসনের চিহ্ন। তার পরও ওয়েলস তো আর ইংল্যান্ড নয়। আলাদা দেশ, আলাদা পার্লামেন্ট- ইংরেজি বলার ভঙ্গিটাও তাদের কিছুটা আলাদা। উঁচুতল ফ্ল্যাটবাড়ির পাশেই যেন ছোট্ট কাঠের বাড়ি। ইংল্যান্ডের কোলে বসেও কিছুটা যেন অভিমানী ওয়েলস। সুযোগ পেলে তারাও যেন ইংল্যান্ডকে দেখিয়ে দিতে চায় ! নীরবে সমর্থন করে যায় ইংলিশ প্রতিপক্ষদের। আজকের ম্যাচেও কি তাই কার্ডিফের সমর্থন থাকবে টাইগারদের পাশে! অতীতে তো কার্ডিফের এই সোফিয়া গার্ডেন থেকেই ফুল তুলেছে বাংলাদেশ। দুটি ওয়ানডের দুটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ।

তবে আজ কেন নয়? গেল দুটি বিশ্বকাপের দুটিতেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে যে টাইগাররা এবার তাহলে হ্যাটট্রিক কেন নয়?

কার্ডিফের আবহাওয়া বার্তা, বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে ‘মেডিকেল বুলেটিন’ ছাপিয়ে গতকাল বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রিভিউয়ে এসব মিথ নিয়েই আলোচনা বেশি ছিল। আজকের ম্যাচে ধারে ও ভারে ইংল্যান্ড যে বেশ এগিয়ে তা গত দুই বছরের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সরল অঙ্কের মতোই প্রমাণ করে দেওয়া যায়। কিন্তু ওই যে মিথ, ওই যে একটা বিশ্বাস- যে কার্ডিফে কখনই হারে না বাংলাদেশ, বিশ্বকাপে টাইগারদের হারাতে পারে না ইংল্যান্ড। এই বিশ্বাসগুলো নিয়েই আজ শুরু হচ্ছে মাশরাফিদের তৃতীয় ম্যাচ। যেখানে জেসন রয়, বেয়ারস্টো, জো রুট, বেন স্টোকসদের চওড়া ব্যাট অপেক্ষা করে আছে তিনশ’ ছাপিয়ে আরও উঁচুতে ইনিংস তোলার। এখানকার সাংবাদিকরা এই বলে যে ওভারপ্রতি ছয় রান তোলার ইংলিশ কৌশল এখন পুরনো, ছয় থেকে সাত তোলার মিশনে এখন ইংল্যান্ড! পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪৮ রানের পিছু নিয়ে ৩৩৪ রান তোলা তো আর চাট্টিখানি কথা নয় ! চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের পর ইংলিশদের ক্রীড়ামনোজগতে যখন ক্রিকেট প্রবেশ করেছে, তারপর থেকেই জোর প্রচারণাও চলছে যে এই বিশ্বকাপটা ইংল্যান্ডই নেবে। ইংলিশদের এই আহদ্মাদ মাশরাফিও নাড়া দিতে চাননি। ‘হ্যাঁ, আমরা মানছি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা দল। আর আমরা সেই দলের সঙ্গেই খেলতে নামছি। পাকিস্তানের কাছে হেরেই তারা চাপে রয়েছে এটা মনে করা ঠিক হবে না। আবার আমরাও যে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ভেঙে পড়েছি সেটাও ঠিক না। খেলা হবে নতুন করে।’

এই নতুন খেলায় কে হবেন আজ মাশরাফির বাজি? ইংলিশ অধিনায়ক মরগান অবশ্য বলে দিয়েছেন আজকের ম্যাচে আর্চার, ওকসের সঙ্গে আরও এক পেসার খেলাবেন। মাশরাফি অবশ্য বলতে পারেননি তিনি আজ রুবেল হোসেনকে খেলাবেন কি না। কেননা গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর নায়কই ছিলেন রুবেল। এখনও প্রেসবক্সে থাকা টেলিভিশনে আইসিসি বিশ্বকাপ প্রমোতে রুবেলের ওই স্পেলটি দেখানো হয়। তাছাড়া দলে একজন ১৪০ কিলোমিটার গতির পেসারও দরকার। মাশরাফি, মুস্তাফিজ কিংবা সাইফউদ্দিনের কেউই এই মুহূর্তে ওই গতি তুলতে পারছেন না। একশ ত্রিশ গতির বোলিং ইংলিশরা তাদের নেট বোলারদেরই খেলে থাকেন। সেখানে একাদশে একজন সলিড পেসার না থাকলে কি চলবে? ব্যাপারটি উঠেছিল টিম মিটিংয়ে। আজ হয়তো রুবেলকে দেখা যাবে, কিন্তু কার বদলে সেটা ফাঁস হয়নি। মাশরাফি অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই মাঠে গত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং তার আগেও তিনি খেলে এটা বুঝেছেন যে এখানে স্পিনাররা সুবিধা পাবে। যদি সেটাই হয় তাহলে মিরাজ একাদশে নিশ্চিত। মোসাদ্দেক কিংবা মুস্তাফিজের কেউ আজ বসে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সোফিয়া গার্ডেনের একদিক বাউন্ডারি বেশ ছোট। টিম মিটিংয়ে এটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে এই মাঠেই আফগানিস্তান আর শ্রীলংকার ম্যাচটি অল্প রানের হয়েছিল। তাই হুজুগে তিনশ’ তিনশ’ করে তার পেছনে ছোটার পক্ষে নন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশ্বকাপে যে পাঁচটি ম্যাচ জেতার অলিখিত টার্গেট ধরে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে ইংল্যান্ড আছে ফিফটি ফিফটি। হারলেও ক্ষতি নেই, তবে জিততে পারলে সেটাই হবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য টার্নিং পয়েন্ট। এমন একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচের জন্য যতটা চার্জ দিতে হয় ততটা ঠিক দিতে পারেননি দলের অনেকেই। বিশেষ করে পঞ্চপাণ্ডবের চারজনই এই মুহূর্তে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি হতে পারছেন না। দুই ম্যাচে তামিম তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। বিশেষ করে আউটের ধরন তাকে অস্বস্তিতে রেখেছে। আগের ম্যাচে রান আউট মিস করার পর মুশফিক খানিকটা বিব্রত। মাশরাফি তার বোলিং নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন। আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আগের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যার সেঞ্চুরি ইতিহাস গড়েছিল, সেই রিয়াদও তার সেরাটা এখনও দিতে পারেননি। দরকার ছিল ম্যাচের আগের দিন মাঠে এসে পুরোদমে অনুশীলন করার।

গতকাল অঝোর বৃষ্টির মধ্যে তাদের সেই ইচ্ছেগুলো ভিজে গেছে। ‘আমাদের অনেকেই এখনও তাদের সেরাটা দিতে পারেনি। আমি নিজেও আছি সে তালিকায়। দরকার ছিল মাঠে এসে কিছুটা টপআপ করে নিজেদের তৈরি করা। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগেও সেটা পারিনি, আজও পারলাম না।’ মনের মধ্যে একটা অতৃপ্তি নিয়েই গতকাল মাঠে এসেছিলেন মাশরাফি শুধুই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে। তামিম, সাকিবরাও এদিন হোটেল থেকে বের হননি।

তবে একজন আছেন ব্যতিক্রম। তিনি অবশ্যই মুশফিকুর রহিম। হোটেলে তিনি বসে থাকতে পারেননি, ইনডোরেই এদিন ঘণ্টা দেড়েক একাগ্রে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। ভেতরে জমে থাকা সমস্ত খারাপ লাগা তিনি বের করে দিয়েছিলেন তার প্রতিটি শটের সঙ্গেই ! আজ মুক্ত মনে, সাহসী বুকে আবারও একটি লড়াইয়ে নামবেন তিনি, নামবে তার দল। সৌভাগ্যের কার্ডিফের ইতিহাস আরও উজ্জ্বল করে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড মিথকে আরও পোক্ত করতেই নামবে টাইগাররা। কার্ডিফের নীরব সমর্থন থাকবে তাদের সঙ্গে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৭
    যোহরদুপুর ১১:৫১
    আছরবিকাল ১৬:১৪
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৫
    এশা রাত ১৯:২৫
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!