শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০১:১৬ অপরাহ্ন

টিভি ভাষণেও ট্রাম্পের অভিবাসীভীতি

জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম টিভি ভাষণেও অভিবাসন ভীতি ছড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফের দাবি করেছেন মেক্সিকো সীমান্তে নিজের প্রস্তাবিত দেয়াল নির্মাণ তহবিল। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিনিদের রক্তপাত’ বন্ধের একমাত্র সমাধান দেয়াল নির্মাণ।

তবে সরকার অচলাবস্থার (শাটডাউন) অবসানে নতুন কোনো সমাধান দিতে পারেননি তিনি। নিজের সেই চিরচেনা স্বভাবসুলভ কণ্ঠে ও ভঙ্গিতে আমেরিকার সব সমস্যার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেন। বলেন, অভিবাসনের কারণে সীমান্তে ‘মানবিক সংকট’ সৃষ্টি হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ‘বিশাল পরিমাণে অবৈধ মাদক’ আসছে। অভিবাসীদের আনা মাদকের কারণে ‘হাজার হাজার মৃত্যু’ ঘটছে। সীমান্তের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে মানবিক সংকট চলছে। ‘হৃদয় ও আত্মার সংকট’ তৈরি হয়েছে। সরকার অচলাবস্থার জন্য তোপ দাগেন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের প্রতি।

এ ভাষণের তৎক্ষণাৎ কড়া প্রতিবাদ জানায় ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটি বলেছে, মার্কিন জনগণকে শক্ত কোনো তথ্যভিত্তিক দাবি নয়, ‘অমূলক ভয়’ দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।

মার্কিন সরকারের একাংশের অচলাবস্থার ১৮তম দিনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ভাষণ দেন ট্রাম্প। ওভাল অফিস থেকে দেয়া ৯ মিনিটের এ ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের সব বড় বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত হয়। ভাষণে ট্রাম্প দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন বলে গুঞ্জন থাকলেও সে পথে হাঁটেননি ট্রাম্প।

তবে বক্তব্যের প্রতিটি অংশে অভিবাসীদের টার্গেট করেন এবং দেয়াল নির্মাণের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।

বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসী নীতির ফলে অপরাধী চক্র ও চরমপন্থীদের আমদানি ঘটছে। দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া মাদক-হেরোইনের ৯০ শতাংশই মেক্সিকো থেকে আসে। অভিবাসীদের ‘শিকারে’ পরিণত হচ্ছে মার্কিন নারী ও শিশুরা।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ডেমোক্র্যাটদের কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের অচলাবস্থা এখনও চলছে। নতুন করে উত্তর আমেরিকান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে সেখান থেকে দেয়াল নির্মাণের অর্থ উঠে আসবে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পের এ ধারণাকে খারিজ করে দিয়েছেন। এছাড়া চুক্তিটি এখনও অনুমোদিত হয়নি। ডেমোক্রেটরা এখন সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের বিরোধিতা করলেও এক যুগ আগে তারাই এর পক্ষে ছিল বলেও দাবি করেন।

বিবিসি বলেছে, ২০০৬ সালে সীমান্তের ৭০০ মাইলজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের একটি প্রস্তাবে চাক শুমার, বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন ও জো বাইডেনের সায় ছিল। ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে ইস্পাতের দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেসের কাছে মোট ৫৭০ কোটি ডলার চেয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে যে কোনো মূল্যে এ দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন তিনি। তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, তারা সাধারণ মানুষের করের টাকায় দেয়াল নির্মাণের পক্ষপাতী নন।

ভাষণের পরপরই দেয়া এক বিবৃতিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতার শীর্ষ দুই নেতা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেট সংখ্যালঘিষ্ঠ নেতা চাক শুমার বলেন, ‘দেয়াল নির্মাণের অর্থ পেতে ট্রাম্প মার্কিন জনগণকে জিম্মি করছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এ অচলাবস্থার কারণে লাখ লাখ সরকারি কর্মী বেকার অবস্থায় বসে আছে। ট্রাম্পের ভাষণের পর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি শিগগিরই অচলাবস্থা নিরসনে ব্যবস্থা নিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!