সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

ট্রেন দুর্ঘটনা- নিহত ১৬ জনের লাশ হস্তান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশিথার দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের সবার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতরা ভর্তি রয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। এদিকে আট ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু হলেও চলছে লাইন মেরামতের কাজ। দুর্ঘটনায় রেলের পক্ষ থেকে ৪টি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেল ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেককে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার ভোররাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি মন্দবাগ রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় একই লাইনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তুর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ঢুকে পড়ে। এতে দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এসময় চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের ৩টি বগি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে তুর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের বগি ছাড়া অক্ষত থাকে সবগুলো বগি।

দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেচে ফেরা এক যাত্রী বলেন, ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ ধাক্কা লাগার কারণে বুজতে পারলাম কিছু একটা হইছে।

আরেকজন বলেন, আমরা অক্ষত অবস্থায় ছিলাম। তবে সিলেটগামী ট্রেনের ৩ থেকে ৪ টা বগি দুমরে মুছরে গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বেশ কয়েকজনকে নেয়া হয় আশপাশের হাসপাতালে। পরে গুরুতর আহতদের পাঠানো হয় কুমিল্লা ও ঢাকা মেডিকেলে। তাদের চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে ৫টি মেডিকেল দল।

একজন বলেন, হঠাৎ বিকট আওয়াজ হওয়ার পর দেখি ট্রেনের বগি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুর রহমান বলেন, গুরুত্বর আহত এমন অনেক রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের অনেককে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, আখাউড়া, কসবা এবং কুমিল্লা থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রেলওয়ে বিভাগ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালায় পুলিশ-বিজিবিও। এরপর দুর্ঘটনাস্থলে লাকসাম ও আখাউড়া থেকে যায় দুটি রিলিফ ট্রেন। বিকেল চারটার পর শেষ হয় উদ্ধার কাজ।

ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে রেলওয়ে বিভাগ তিনটি, রেলপুলিশ একটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেয় রেল মন্ত্রণালয়। এছাড়া নিহতদের মরদেহ দাফনে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয় জেলা প্রশাসন।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৫:১০
    সূর্যোদয়ভোর ০৬:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৪
    আছরবিকাল ১৫:৩৮
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:১৪
    এশা রাত ১৮:৪৪
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!