রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ডাইনিং বেহাল : পরিবেশন হচ্ছে নিম্নমানের খাবার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের ভেতরের পরিবেশেও অপরিচ্ছন্ন।

ফলে বাধ্য হয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আশপাশে বিভিন্ন দোকানে অথবা নিজেদের রান্না করে খেতে হচ্ছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীদের যেমন গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, অন্যদিকে রান্না করে খাওয়ায় অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ ও সময়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ডাইনিংগুলোতে নিুমানের চালের ভাত দেয়া হয়। প্রতিদিনের খাবারে ম্যানুতে থাকে একই রকম আইটেম। দুপুর ও রাতে একই ধরনের মাছ, মাংস এবং ডিম সরবরাহ করা হয়। এর পরিমাণও খুবই অল্প। খাবার জন্য ডাইনিংয়ে ঢুকলেই নাকে আসে উৎকট গন্ধ।

অপরিচ্ছন্ন টেবিল ও খাবারের ওপর মাছি উড়ে। খাবারের টেবিলগুলো পরিষ্কার করা হয় দুর্গন্ধযুক্ত অপরিচ্ছন্ন-স্যাঁতসেঁতে ন্যাকড়া দিয়ে। এরপরেও যদি কেউ উৎসুক হয়ে রান্নাঘর দেখতে যায়, তবে চোখে পড়বে বেহাল দশা। চারপাশে বর্জ্য-ময়লা ছড়ানো-ছিটানো, তরকারী খোসায় ভরপুর প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে এর আগে খাবারের দাম বাড়ানো হয়। তারপর খাবারের মানের ব্যাপারে কোনো নজর দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের মতে, এই মূল্য সাধ্যের মধ্যে থাকলেও খাবারের মান এতই খারাপ যে, অনেক শিক্ষার্থী ডাইনিংয়ের খাবার খেতেই পারেন না।

তার ওপর ডাইনিংয়ের খাবারে প্রায়ই পোকা, পাথর কিংবা চুল পাওয়ার যায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফলে তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে হলের বাইরে বিভিন্ন খাবারের দোকানে কিংবা হলে বিদ্যুতে রান্না করে খেতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন বলেন, ‘আমি হলে ওঠার পর কিছুদিন ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছি। এখানকার খাবারের মান খুবই খারাপ। হলটি একাডেমিক ভবনগুলোর কাছে হওয়াতে অন্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরাও এখানে আসে।

ফলে অতিরিক্ত ডেলিগেটের চাপে যেমন- তেমনভাবে রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।’ মেয়েদের হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয় তারা। রহমতুন্নেছা, খালেদা জিয়া ও মন্নুজান হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা এ ধরনের মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়া হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিংয়ে নিুমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। ফলে হলের অধিকাংশ আবাসিক শিক্ষার্থী রুমে রান্না করে খায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবার নিুমানের বিষয়টি স্বীকার করে শাহ্ মখদুম হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষসহ কর্তৃপক্ষ যদি ডাইনিংয়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখেন, তবে কম খরচের মধ্যেই অধিক মানসম্মত না হলেও শিক্ষার্র্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশন সম্ভব হবে।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!