রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

তারেকের যাবজ্জীবন সাজা : বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিণতি

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন- বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু। অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

হামলার ১৪ বছর পর বুধবার দুপুরে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুরুদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। যাদেরকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১৮ জন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত বিএনপির নেতারা। বর্তমানে দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে লন্ডনে পলাতক তারেক। তার উপর নতুন করে গ্রেনেড হামলার দায়ে যাবজ্জীবন হওয়ায় রাজনীতিতে তার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে।

তারেকের যাবজ্জীবন ও খালেদার কারাবাসের কারণে বিএনপি এখন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই চাচ্ছেন দলের নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলকে বসাতে। অপরদিকে, রিজভী ও রিজভীপ্ন্থী নেতারা চান তারেকের স্ত্রী জোবাইদাকে বিএনপির নেতৃত্বে বসাতে। এ নিয়ে ফখরুল ও রিজভীপন্থী নেতা কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

ফখরুলপ্ন্থী এক নেতা জানান, ‘জিয়া পরিবারের দুর্নীতি ও নানা অপকর্মের কারণে দেশে-বিদেশে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে’। আর সিনিয়র নেতাদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও অবমূল্যায়নের কারণে সিনিয়র নেতারা আগে থেকেই তারেককে দেখতে পারত না। তারেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় তাই দলের অধিকাংশ নেতাই চাচ্ছেন তারেকের পরিবর্তে উক্ত পদে ফখরুলকে বসাতে এবং ফখরুলের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে বলেও জানান এ নেতা।

রিজভীপন্থী নেতারা বলছেন, ‘বিএনপির নেতৃত্ব জিয়া পরিবারের সদস্য থেকেই হতে হবে। খালেদা জেলে আর তারেকও রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন না। তাই তারা তারেকের স্ত্রী জোবাইদাকে দলের নেতৃত্বে আনতে আগ্রহী’। জোবাইদা ছাড়া অন্য কারও নেতৃত্ব মেনে নিবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

গোপন সুত্রে জানা যায়, জোবাইদাকে নেতৃত্বে আনার পেছনে রিজভীর অন্য কারণ রয়েছে। জোবাইদাকে দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো দল পরিচালনা করতে পারবেন বলেই জোবাইদাকে আনতে চান রিজভী। কারণ, জোবাইদা তার কথাতেই উঠাবসা করেন।

তবে অধিকাংশ সিনিয়র নেতাই এর বিরোধিতা করেছেন। তারা জোবাইদাকে নেতৃত্বে আনতে চান না। কারণ, জোবাইদার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা আছে। কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে তারা আর দলের নেতৃত্বে বসাতে আগ্রহী নয়। এ নিয়ে রিজভী ও ফখরুলপন্থী নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

তারেকের যাবজ্জীবন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কি বিএনপির ভবিষ্যৎ- দ্বন্দ্ব আর বিভক্ত দলে পরিণতি?


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!