শুক্রবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৮, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

দেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ চাটমোহরের শাহী মসজিদ

নিউজ ডেস্ক : ৩টি গম্বুজ সমৃদ্ধ চাটমোহর শাহী মসজিদ- মোঘল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। মোঘল আমলের অধিকাংশ স্থাপনার মতো এ মসজিদেও লাল জাফরী ইট ব্যবহৃত হয়েছে। (জাফরী ইট বলা হয় কারণ এই ইটগুলো বর্তমান সময়ের ইটের মত মোটা হত না এই ইটগুলো চিকন চিকন হয় বলেই জাফরী বলা হয়) ভেতরাংশে সূক্ষ্ণ কারুকাজ ও জ্যামিতিক নকশা দারুণ নান্দনিক সৌন্দর্য তৈরি করেছে।

মসজিদের দেওয়াল প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি চওড়া। ফার্সি ভাষায় লেখা মসজিদের কষ্টি পাথরের শিলালিপিটি বর্তমানে রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে সংরক্ষিত। মসজিদের ভেতর ৩টি কাতার দাঁড়াতে পারে।

সম্রাট আকবরের পাঁচহাজার সৈন্যের সেনাপতি মাসুম খাঁ কাবলি ১৫৮১ সালে এমসজিদটি নির্মাণ করেন। পুরান নথিপত্রে চাটমোহর মসজিদকে মাসুম খাঁর মসজিদ নামেই পাওয়া যায়।

১৯৮০ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করেন ও সংরক্ষিত ইমারত হিসেবে ঘোষণা করেন। মসজিদের প্রবেশপথে ৭ তলা সুউচ্চ নির্মাণাধীন প্রবেশদ্বারটি মূল কাঠামোর সাথে মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংরক্ষিত ইমারত এলাকায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র বহিঃপ্রকাশ।

মসজিদের সামনে উত্তর-পশ্চিম কর্নার ও পশ্চিম দিকের দুই-তৃতীয়াংশ বেদখল হয়ে গেছে। দখলকৃত ভবনগুলোও বেশ পুরানো। কাগজপত্রের মারপ্যাঁচে সম্ভবত আর উদ্ধার হবে না। আর হলেও কঠিন হবে। মসজিদটি ৪৩৭ বছর বয়স্ক ও দেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।

মাসুম খাঁ কাবলি (মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা)

মাসুম খাঁ কাবলি ১৫৫৫ সালে জন্মান। তিনি খোরাসানের কাকশাল গোত্রের ছিলেন। ১৫৭৫ সালে ২০ বছর বয়সে সম্রাট আকবরের সৈন্য দলে যোগ দেন। যুবক মাসুম খাঁ কালা পাহাড় নামে শত্রু সেনাপতিকে যুদ্ধে পরাজিত করে স্বীকৃতি স্বরূপ পাঁচহাজার সৈন্যের সেনাপতি পদে দায়িত্ব পান। সম্রাট আকবর দ্বীন-ই-ইলাহি নামে নতুন ধর্ম ঘোষণা করায় কাকশাল গোত্র ও বাংলার মুসলমান ভুঁইয়ারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।

১৫৭৯ সালে মাসুম খাঁ বারো ভূঁইয়াদের সঙ্গে একাত্নতা ঘোষণা করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বার ভূঁইয়াদের সাথে যোগ দেন। কিন্তু সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি ও গভর্নর শাহববাজ খাঁনের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ১৫৯৯ সালে ৪৪ বছর বয়সে সম্রাটের ফৌজি বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করেন। তার পুরো নাম ছিল সৈয়দ আবুল ফতে মোহাম্মদ মাসুম খাঁ। এই মসজিদটি সম্রাট আকবরের অধীনতা অস্বীকার করে চাটমোহরে স্বাধীন ক্ষমতা পরিচালনার সময় নির্মিত।

কীভাবে যাবেন :

সবচাইতে ভালো হয়ে আপনি যদি কোনো একটি ভ্রমণ গ্রুপের সাথে যোগ দিতে পারেন তাহলে আপনি ঝামেলা ছাড়াই দেখে আসতে পারবেন পুরো পাবনা শহর।

অথবা ঢাকা থেকে শ্যামলী, পাবনা এক্সপ্রেস ইত্যাদি বাস পাবনায় যায়। সেগুলোর যেকোনো একটিতে চড়ে পাবনা শহরে পৌঁছে যাবেন।

পাবনা শহর থেকে যেকোনো লোকাল বাহনে চড়ে চাটমোহর চলে যাবেন। (লোকমুখে বলা হয় আগে এ স্থানে চাটাইয়ের উপর রেখে মোহর বিক্রি করা হত তাই এই স্থানের নাম চাটমোহর) সেখানে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই আপনাকে দেখিয়ে দেবে চাটমোহর শাহী মসজিদ।

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!