রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

দোল উৎসবে মাতোয়ারা ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া

দোলপূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে মাতোয়ারা কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়ি। বাউল সাধু-বৈষ্ণবদের মেলা বসেছে লালনধামে। ধর্ম-বর্ণ জাতপাত ভুলে তারা গাইছেন মানুষের জয়গান। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনের দোল উৎসব বা লালন স্মরণোৎসব। বুধবার বিকেলে সাধুসঙ্গ শুরু করেন মাজারে আসা লালন অনুসারী ও তার ভক্তরা। সন্ধ্যায় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও তার অনেক আগেই মানুষের মিছিল আসতে শুরু করে এই বাউল তীর্থে। সাঁইজির টানে এ ধামে বাউলেরা ছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীর ভিড় লেগেছে।

মাজার ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে ছোট ছোট মজমা। যেখানে একতারায় সুর তুলছেন প্রবীণ বাউলরা। তেমনই একজন ফরিদপুরের নিজাম উদ্দিন। একতারা হাতে গান ধরেন ‘চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ হয়’, লালন ফকিরের গাওয়া অন্যতম একটি জনপ্রিয় গানে সুর তোলেন তিনি। মুহূর্তেই জড়ো হয়ে যায় লোকজন। নিজাম উদ্দিনের মতো অসংখ্য বাউল, সাধুরা মাজারে এসে লালনের গুণকীর্তন করছেন। তাকে স্মরণ করছেন গানে গানে।

‘মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই কুল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, সত্য বল সুপথে চল, এলাহি আলামিন গো আলা বাদশা আলমপনা তুমি’, ‘বাড়ির পাশে আরশীনগর’- এ রকম অসংখ্য লালনসঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় এখন মাতোয়ারা বাউলধাম।

এ ছাড়া লালন মাজারের আশপাশে ও মরা কালী নদীর তীর ধরে বাউলেরা ছোট ছোট আস্তানা গেড়ে সাঁইজিকে স্মরণ করেছেন তার গাওয়া গান গেয়ে। বাউল-ফকিরদের সঙ্গে সুর মেলাতে ভুল করছেন না ভক্তরাও। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ সাঁইজির সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন এ স্মরণোৎসবে। আউল-বাউল, সাধু-বৈষ্ণব আর ফকির-দিওয়ানাদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে সাঁইজিধাম। ধামের পাশে বিশাল মাঠের খোলা প্রান্তরে গুরু-শিষ্যের মিলন মেলায় মনের মানুষের সন্ধানে আকুল ভক্তদের চলছে নাচেগানে দিনরাত ভাবের খেলা। ভাব আরাধ্যের তীর্থভূমি ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি, তাই সাঁইজি লালন ফকিরের স্মরণোৎসবে এসে বাউল সাধু গুরুরা অপার সাঁইজিকে স্মরণ করছেন গানে গানে।

আখড়াবাড়ির আঙিনা ছাড়াও খণ্ড খণ্ড আস্তানায় বসেছেন প্রবীণ গুরু, ভক্ত-শিষ্যরা। ভাবগান আর বাউল আচারের যজ্ঞ পালন ছাড়াও বাউল পথ ও মতের দীক্ষাও নিচ্ছেন অনেকে। স্মরণোৎসব বা দোল উৎসব মানেই বাউল ফকিরদের মহাসম্মেলন। এখানে আসা বাউলরা ভাব পরম্পরা বিনিময় করেন আপন মনে, নিজস্ব রীতিতে।

লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে ফাল্গুন মাসের শেষে দোলপূর্ণিমা তিথিতে কালী নদীর তীরে শিষ্যদের নিয়ে রাতভর গান-বাজনা ও তত্ত্ব আলোচনা করতেন, যা কালক্রমে পরিণত হয়েছে লালন স্মরণোৎসবে বা দোল উৎসবে।

ফরিদপুর জেলা থেকে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব বাউল নিজাম শাহ বলেন, তাদের কাছে দোলপূর্ণিমা মানে ভালোবাসার আলো। মানুষের মাঝে ভালোবাসা আর প্রেমের আলো ছড়িয়ে দেওয়ায় আমাদের দোল উৎসবের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এই আলো সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দিতে পারলে দূর হবে সমাজের সব অন্ধকার, কূপমণ্ডূকতা আর হিংসা হানাহানি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাউল ফজল শাহ বলেন, সহজ মানুষ খোঁজা আর ভজার কাজে দীক্ষা নিয়েছি। এই পথেই সারা জীবন কাটাতে চাই। এ পথকেই তারা মুক্তির পথ মনে করেন।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, অনুষ্ঠানকে ঘিরে যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশের ৬ শতাধিক সদস্য কাজ করছেন। এছাড়া নদীতে স্পিড বোটের টহল রয়েছে। আর মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কোনো মাদক থাকবে না আখড়া এলাকায়।

লালন একাডেমির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, সারাদেশে লাখো মানুষ জড়ো হবে অনুষ্ঠানে। এছাড়া বাউল সাধুদের সব ধরনের আপ্যায়ন করা হবে কমিটির পক্ষ থেকে। আগামীতে আখড়া ঘিরে বিশেষ পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১২
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৩
    যোহরদুপুর ১১:৫৭
    আছরবিকাল ১৬:৩১
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২২
    এশা রাত ১৯:৫২
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!