রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

নতুন জ্বালানি যুগে- ঝুঁকি না সম্ভাবনা?

নতুন জ্বালানি যুগে- ঝুঁকি না সম্ভাবনা?

দেশের বহুল প্রচলিত দৈনিক পত্রিকা সমকাল এর সম্পাদকীয় ও মন্তব্য পাতায় ৪ জানুয়ারি তারিখে খুবই সমসাময়িক সময়ের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। যা নিউজ পাবনা ডটকম পত্রিকার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

।। অজয় দাশগুপ্ত ।।

শওকত ওসমানের গ্যাসের চুলা… মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার- এই শিরোনামে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমকালে উপসম্পাদকীয় লিখেছিলাম। তার শুরুটা ছিল এ রকম- “ঢাকা শহরে প্রথমে রান্নাঘরের চুলায় গ্যাসের সংযোগ পেয়েছিলেন বরেণ্য সাহিত্যিক ও শিক্ষক শওকত ওসমান। এ ‘সাহসিকতার পুরস্কার’ হিসেবে টানা কয়েক বছর তার কাছ থেকে গ্যাসের কোনো বিল নেওয়া হয়নি। এটা প্রায় ৫০ বছর আগের ঘটনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট অঞ্চলে শেল অয়েল কোম্পানি গ্যাস পেয়েছে (এই গ্যাসের মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশি শেল কোম্পানির কাছ থেকে সরকারের মালিকানায় নিয়েছিলেন দূরদর্শী এক সিদ্ধান্তে)। কিন্তু শেলের হাতে মজুদ গ্যাসের কীভাবে ব্যবহার হবে? তখনও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কিংবা ইউরিয়া সারের উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার এ দেশে শুরু হয়নি। এমনটি যে সম্ভব, সেটাও জানা ছিল না। অতএব সরকারের সিদ্ধান্ত, রান্নার জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু কেউ ভয়ে গ্যাস নিতে চায় না- যদি গ্যাসের বিস্ম্ফোরণে ঘরে আগুন ধরে যায়? শহরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য মাইকিং করা হতে থাকে। এর সপক্ষে বড় যুক্তি ছিল যে- এতে দুর্ঘটনার শঙ্কা নেই। লাকড়ি, কেরোসিনের স্টোভ বা বৈদ্যুতিক হিটারের তুলনায় ব্যয় প্রায় নামমাত্র। বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনে গ্যাস পৌঁছে দেবে সরকার। অবশেষে রাজি হলেন কথাসাহিত্যিক ও জনপ্রিয় শিক্ষক শওকত ওসমান সাহেব- সরকার ও গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। জীবনে তিনি অনেক ঝুঁকি নিয়েছেন। বাড়িতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে নিলেন পথিকৃতের ভূমিকা। তার বাড়িতে গ্যাসের চুলায় রান্না করা দেখতে ভিড় জমাল অনেক নারী-পুরুষ। আইয়ুব খানের ‘উন্নয়নের’ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছিল এবং তাতে স্থান পেল শওকত ওসমান সাহেবের রান্নাঘর। এটা দেখানো হতে থাকল সিনেমা হলগুলোতে- চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ঠিক আগে। শওকত ওসমানের পরিবারের সদস্যরা পকেটের টাকা ব্যয় করে টিকিট কিনে দল বেঁধে গেল সিনেমা হলে।”

বিনামূল্যে এ ধরনের গ্যাস সংযোগ পাওয়া এখন সিনেমার গল্প মনে হয় না। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এক সময় ধারণা ছিল, বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভেসে আছে। গ্যাস রফতানির পক্ষে যুক্তিও ছিল টানা ১২ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এম সাইফুর রহমানের। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ২০০০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অন্তত ৫০ বছরের মজুদ নিশ্চিত হোক, তারপর ভেবে দেখা যাবে গ্যাস রফতানি করব কি-না। অনেক রাজনৈতিক বিশ্নেষক মনে করেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী জোটের কাছে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের অন্যতম কারণ গ্যাস রফতানি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে অবনতমস্তক হতে শেখ হাসিনার অসম্মত হওয়া। কিংবা বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বদনাম দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণ প্রদানে অসম্মত হলে নিজেদের টাকাতেই এ সুবৃহৎ প্রকল্প নির্মাণে উদ্যোগী হয়ে যে দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সে সময়ে তিনি ঠিক সে ধরনের অবস্থানই নিয়েছিলেন, যাকে পদ্মাতীরের এক কৃষক অভিহিত করেছিলেন ‘শেখের বেটিসুলভ’ জেদ হিসেবে।

শওকত ওসমান সাহেব বিনামূল্যে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ পেয়েছেন বহুদিন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিবিধ পণ্য উৎপাদনের কারখানা, পোশাক শিল্প, ইটভাটা ও বাড়িতে রান্নার জন্য বিনামূল্যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় না। তবে এটাও অনেকে বলেন, বিশ্ববাজারের তুলনায় অনেক কম দামেই বাংলাদেশে গ্যাস মেলে। কিন্তু গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এ বছরেই (এপ্রিল, ২০১৮ থেকে যা শুরু হবে) যে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে, তার প্রভাবে কি গ্যাস অগ্নিমূল্য হয়ে পড়বে? এ প্রশ্নটিই রেখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর কাছে। বাংলাদেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, ঘরে ঘরে বাতি জ্বলবে, পাখা ঘুরবে, ফ্রিজ-টিভিসহ বহু ধরনের যন্ত্র চলবে বিদ্যুতের অব্যাহত সরবরাহে- এমনটি দু’চার বছর আগেও ভাবা যেত না। কিন্তু এখন এটা যে স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব, তার পেছনে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার অবদান রয়েছে। তাকে আরও জিজ্ঞেস করি, এলএনজি আমদানির জন্য বছরে ৩০০ কোটি ডলার প্রয়োজন পড়বে। এ অর্থ জোগান দিতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কি টান পড়বে?

উত্তরে তিনি শুরু করেন হ্যানাবিল বার্সার রোম জয়ের ঘটনা দিয়ে। এ বীর যোদ্ধা রোম দখল করতে গিয়ে আল্পস পর্বতমালার অলঙ্ঘনীয় বাধার মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, পথ নেই তো পথ বের করে নেব। বাংলাদেশও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধানের জন্য নিজের মতো করেই পথ বের করে নিয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়বে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যাতে ব্যবহারকারীদের জন্য সহনশীল পর্যায়ে থাকে এবং একই সঙ্গে পণ্য উৎপাদন ব্যয় যেন লাফিয়ে বেড়ে না যায়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী সর্বদা নজর রাখেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনোযোগী থাকতে হবে জ্বালানির দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতি। তিনি একটি উদাহরণ দেন এভাবে- বিদ্যুৎ কারখানায় যে গ্যাস ব্যবহার হয় তার মাত্র ৪৫ শতাংশ বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। বাকি যে ৫৫ শতাংশ, যার অনেকটা উপযুক্ত প্রযুক্তি না থাকার কারণে অপচয় হয়, সেটা আমরা বয়লারের জন্য তাপ উৎপাদনে এবং কোল্ডস্টোরেজ বা এ ধরনের প্রকল্পে রেফ্রিজারেশনের জন্য ব্যবহার করতে পারি। এ প্রযুক্তি চালু করা গেলে গ্যাসের মূল্য বাড়লেও শিল্প-বাণিজ্যের উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়বেন না। সিরামিক কারখানার চুল্লিতে প্রচুর গ্যাস প্রয়োজন পড়ে। সেখানের ফার্নেসের ইনসুলেশন যদি মজবুত হয়, তাহলে গ্যাসের ব্যবহার কমে আসবে। সরকারের পরিকল্পনা আছে- একশ’ অর্থনৈতিক জোন স্থাপন। এর মধ্যে গোটা দশেক এ বছরেই যাত্রা শুরু করবে। সেখানে কেউ বিদ্যুৎ কারখানা স্থাপন করবে। তার পাশেই স্থাপিত হবে পোশাক বা সিরামিক শিল্প, যারা বয়লারের জন্য ‘তাপ’ পাবে বিদ্যুৎ কারখানা থেকে। আবার এই কারখানা থেকেই মিলবে রেফ্রিজারেশনের জ্বালানি।

তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য প্রি-পেইড মিটার চালু হলেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার কমবে। উন্নত চুলার কথাও ভাবতে হবে।

কৃষিতে আমরা সেচের জন্য পানি ব্যবহার করি। সেচযন্ত্র চালাতে বিদ্যুৎ বা ডিজেল প্রয়োজন পড়ে। আমরা যদি পানির পরিমিত ব্যবহার করি, তাহলে সেচের ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে সাশ্রয় হবে মহার্ঘ্য সম্পদ পানি। খাল-বিল-হাওর-নদীর মিঠা পানিও কিন্তু অফুরান নয়। সার ব্যবহারে সচেতন হলে সার উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমবে। এটা এক ধরনের চেইন, যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারেও আমরা সচেতন হতে পারি। বাংলাদেশে খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের সবজির ছাল-বাকল দিয়ে ভাজি-ভর্তা চালু আছে। অনেকের কাছেই এখন তা উপাদেয়। আবার বহু বছর ধারণা ছিল- শাকপাতা গরিবের খাবার। ‘শাকে মল, মাছ-মাংসে বল’- ভুল ধারণাভিত্তিক এ প্রবাদ কিন্তু বাংলাদেশেই রয়েছে!

সরকার থেকে যখন জ্বালানি বা অন্য সম্পদের পরিমিত ব্যবহারের কথা বলা হয়, তখন সাধারণের মধ্যে ধারণা হয়- নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এটা করা হচ্ছে। ২০০৭-০৮ সালে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সেনাবাহিনী প্রধান মঈন উ আহমদ ভাত কম খেয়ে বেশি করে আলু খেতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। কোথাও কোথাও প্রদর্শনী হচ্ছিল আলুর তৈরি হরেক রকম উপাদেয় খাবারের। গত বছর বাংলাদেশে অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। অথচ দেশের বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে আছে। আমাদের চালের যা ঘাটতি, তার অন্তত তিন গুণ আলু মজুদ ছিল এবং তার দামও ছিল বাজারে ধেই ধেই করে বেড়ে ওঠা চালের দামের মাত্র চার ভাগের এক ভাগ। কিন্তু আলুর দম যে পাতে তেমন পড়েনি!

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তিনটি বড় কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে রামপাল, মাতারবাড়ী ও পায়রা বন্দর এলাকায়। প্রতিটিতেই ব্যবহার হবে আমদানি করা কয়লা। অথচ আমাদের দিনাজপুর ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর কয়লার মজুদ রয়েছে। বড়পুকুরিয়ার কয়লা দিয়ে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদনও হচ্ছে। সরকার কি দেশীয় কয়লা খনি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কাজ বন্ধ রাখছে? এমন প্রশ্ন রাখি তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, দিনাজপুরে কয়লার মজুদ রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। সেখানের জমিও উর্বর। আমাদের সভ্যতা কৃষির সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। আমরা নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি। সে সুবিধা যেন হাতছাড়া না হয়, তার প্রতি অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে, যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয়। এ জন্য দুটি বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে- অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসম্পন্ন কয়লা আমদানি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেও একই দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে।

আমাদের উন্নতি অবশ্যই করতে হবে এবং এ জন্য সাহসী নেতৃত্ব চাই। বাংলাদেশের জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তি আছে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, মানুষের শক্তির ওপর ভরসা রাখি আমরা। নইলে সাত-আট বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ানো যেত না। ২ জানুয়ারি প্রথম আলো লিখেছে, ‘২০১৮ সালে সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বেশি হবে। এলএনজি বা তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির কথা চলছে অর্ধযুগ ধরে। কিন্তু এ বছরেই কেবল তা বাংলাদেশে আমদানি হবে।’ শেখ হাসিনার সরকার যখন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেয়, তখন অনেক সমালোচনা হয়েছিল। ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানিরও সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অনেক দেশ এলএনজি আমদানি করেই চলছে। এখন তারা উন্নত দেশের তালিকায়। গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে না পারলে আমাদের রফতানি আয় কি ২০০৮-০৯ অর্থবছরের সাড়ে ১৫শ’ কোটি ডলার থেকে চলতি অর্থবছরে প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানো সম্ভব হতো? আমাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। খাদ্যের জোগান বাড়ছে। মাছ-সবজি উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোয় যদি সর্বনাশ হয়ে থাকে, তাহলে এসব সাফল্য কীভাবে এলো? তিনি বলেন, আমাদের শিল্প-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিঘ্নহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ চায়। একই সঙ্গে চায় ‘কোয়ালিটি বিদ্যুৎ’। ভোল্টেজ যেন ওঠানামা না করে। বিদ্যুতের অভাবে যেন কারখানা বন্ধ রাখতে না হয়। আমাদের ভবন নির্মাণেও উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। কারখানায় যদি সূর্যালোক বেশি বেশি করে প্রবেশ করে, তাহলে দিনের বেলা বিদ্যুতের ব্যবহার কম হবে।

বাংলাদেশে সমুদ্রসীমা এখন বহুদূর বিস্তৃত। ২০১৪ সালের ৯ জুলাই ভারতের দি টেলিগ্রাফ লিখেছিল, জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কারণে ভারত বাংলাদেশের কাছে বঙ্গোপসাগরের যে এলাকা হারিয়েছে, তার আয়তন পশ্চিমবঙ্গের আয়তনের চেয়েও বেশি। মিয়ানমারের সঙ্গেও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশ জয়ী হয়ে নিজের সমুদ্রসীমা বাড়িয়ে নিয়েছে। এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলছে। কিন্তু ৫ কিংবা এমনকি ১০ বছরেও সেখান থেকে জ্বালানি মিলবে, তেমন সম্ভাবনা কিন্তু কেউ দেখছেন না। দেশের অভ্যন্তরস্থ স্থলভাগেও প্রচুর গ্যাস মিলবে, এমন সম্ভাবনাও খুব একটা নেই। অতএব, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যস্ত ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন, নিজেদের কারখানার বিদ্যুৎ (সঙ্গে আছে ভারত থেকে সীমিত পরিমাণ আমদানি) এবং নিজেদের উৎপাদিত গ্যাসের পাশাপাশি নির্ভরতা শুরু হলো এলএনজি বা তরলিকৃত গ্যাসের ওপর। এ গ্যাসের ক্ষমতা বা কার্যকারিতা বাংলাদেশের সমতুল্য; কিন্তু দাম পড়বে বেশি। এতে ঝুঁকি আছে, অপার সম্ভাবনাও আছে। বাংলাদেশ কীভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলে, সেটাই দেখার বিষয়।

সাংবাদিক
ajoydg@gmail.com


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৭
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৮
    যোহরদুপুর ১২:০১
    আছরবিকাল ১৬:৩৩
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:২৩
    এশা রাত ১৯:৫৩
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!