বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

নিমন্ত্রণে বেশভূষা

বলা হয়ে থাকে শীত হলো উৎসবের ঋতু। বছর শেষে কাজের গতির লাগাম টেনে উৎসবের ঘোড়া যেন দৌড়াতে শুরু করে। উৎসবপ্রিয় বাঙালি যেন অপেক্ষায় থাকে এ সময়ের। ঘরোয়া কিংবা অফিস সব মিলিয়ে শীতের শুরু থেকে উৎসব আয়োজন যেন লেগেই থাকে। আর এ উৎসবে আভিজাত্যময় আভা ছড়াতে এগিয়ে আছে সিল্ক্ক। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা হালফ্যাশনের ফ্লোরটাচ গাউন সবকিছুতেই যেন সিল্ক্ক তার আভিজাত্যময় দ্যুতি ছড়াচ্ছে। শাড়ির আভিজাত্যে সিল্ক্কের অবস্থান সবসময়ই উজ্জ্বল। অফিস কিংবা পার্টিতে নিজেকে একটু নান্দনিক আর অভিজাত রূপে উপস্থাপন করতে চাইলে নারীর পছন্দের তালিকায় সিল্ক্ক শাড়ি অন্যতম। গুটিপোকা থেকে উৎপাদিত রেশম থেকে তৈরি হয় সিল্ক্ক।

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এই শাড়িতে নানা নকশার সংযোজন করে ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিচ্ছে সিল্ক্ক নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন শপ। মূলত সিল্ক্ক শাড়ি মানে রাজশাহী সিল্ক্ক মনে করা হলেও বিভিন্ন রকম সিল্ক্ক আছে। মটকা, ধুপিয়ান, সফট সিল্ক্ক, র-সিল্ক্ক, জয় সিল্ক্ক ইত্যাদি। এসব শাড়িতে ভেজিটেবল ডাই, বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট আর হাতের কাজের নকশা বেশি হচ্ছে। সিল্ক্ক এমনিতেই আভিজাত্য আর সে কারণে এতে বাহুল্যের প্রয়োজন হয় না। সিল্ক্কের গুণগত মান আর ওজনের ওপর নির্ভর করে এর দাম। মোল্লা সিল্ক্কের সফিউল ইসলাম জানালেন, ভালো মানের সিল্ক্ক কিনতে হলে আগে দেখতে হবে এর বুনন আর ওজন কেমন, কাজের ধরনটাই বা কেমন। সিল্ক্ক শাড়িগুলো হালকা ধরনের হয় এবং ফেব্রিকটাও অনেক শাইনি। এটি পরতে যেমন আরাম, তেমনি গর্জিয়াস লুক এনে দেয়। সফট সিল্ক্ক শাড়ি ছাড়াও র-সিল্ক্ক, জয় সিল্ক্ক এবং হালকা ও ভারী এন্ডি সিল্ক্কে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক সব শাড়ি। কাজের মাধ্যম হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিচ্ছেন টাইডাই, ব্লক, সিকুইন আর কারচুপির কাজ। ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, সিল্ক্ক ফেব্রিকটি আমারও খুব পছন্দ। শীতের সময় রাতের দাওয়াতের মুড বুঝে সিল্ক্কের পোশাক বেছে নিই। সিল্ক্ক এমনিতেই খুব সাইনি ফেব্রিক। এতে বাড়তি অলঙ্করণের প্রয়োজন পড়ে না। সিল্ক্কে নকশা করতে হয় খুব ভেবে। ভারী নকশার ভিড়ে সিল্ক্ক যেন তার স্বকীয়তা না হারায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সিল্ক্ক নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করছে আড়ং।

আড়ংয়ের সিল্ক্কের শাড়িগুলোয় ব্লক টাইডাইয়ের পাশাপাশি ভারী কাঁথাস্টিচের নকশা প্রাধান্য পাচ্ছে। আড়ংয়ের সিল্ক্কের সালোয়ার-কামিজ আর কটিগুলোয় ভারী সুতার কাজের পাশাপাশি কাটওয়ার্কের নকশাও দেখা যায়। সিল্ক্ক শাড়ি আর ফেব্রিক নিয়ে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউস অনেক দিন থেকে কাজ করছে। এ ছাড়া রাজশাহী সিল্ক্ক নিয়ে কাজ করছে- উষাসিল্ক্ক, দোয়েল সিল্ক্ক, সপুরা সিল্ক্ক। সারা বছর সিল্ক্কের চাহিদা থাকলেও শীতে যেন তা আরও বেড়ে যায়। বাঙালির কাছে উৎসব মানেই সিল্ক্কের প্রতি অন্য রকম আবেদন। ডিজাইনার শাহীন আহমেদ জানান, অঞ্জন’স শীতের সময় ছাড়াও বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে সিল্ক্ক নিয়ে কাজ করে। তিনি বলেন, সিল্ক্ক মূলত খুব অভিজাত ও নান্দনিক ফেব্রিক। অন্য ফেব্রিকের তুলনায় সিল্ক্কের প্রাইস একটু বেশি। আমরা মূলত বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে সিল্ক্ক ফেব্রিককে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করি। সিল্ক্কে নিট এমব্রয়ডারি, সুতা ও সিকুইনের কাজটা বেশি হয়। ছেলেদের জন্য সুতার কাজের সিল্ক্কের পাঞ্জাবি, শার্ট, শেরওয়ানি তৈরি করছি আমরা। ফ্যাশন হাউস চন্দন সিল্ক্ক ফেব্রিকে মেয়েদের জন্য শাড়ির পাশাপাশি নানা রকম কটি, সালোয়ার-কামিজ ও প্যাটার্ন বেস পোশাক তৈরি করছে। ডিজাইনার চন্দনা দেওয়ান বলেন, সিল্ক্ক এত সুন্দর একটা ফেব্রিক; তাই এর উপস্থাপনাটাও সুন্দর হওয়া উচিত। উৎসব বা পার্টির রাতগুলোয় সিল্ক্কের পোশাক মানেই দারুণ একটা আভিজাত্যময় ব্যাপার। সে বিষয়টিকে চিন্তায় রেখে অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে পোশাকের নকশাগুলো করা। এমব্রয়ডারি কাটওয়ার্ক, জারদৌসি আর কারচুপির নকশা ফুটে উঠেছে আমাদের পোশাকের ক্যানভাসে। এন্ডি সিল্ক্কের উজ্জ্বল রঙা শাড়িগুলোয় কয়েক শেড ডার্ক রঙের কাটওয়ার্কের কাজ করা হয়েছে। সিল্ক্ক যে কোনো বয়সের, যে কাউকে খুব সহজে মানিয়ে যায়। এটি খুব সাইনি একটি ফেব্রিক, তাই এতে বাড়তি অলঙ্করণ না করলেও অনায়াসে মানিয়ে যায়।

সাজে অনন্য : সিল্ক্ক জর্জেট আর শিফন শাড়ির সঙ্গে সাজটা কেমন হবে, তা জানালেন বিউটি এক্সপার্ট আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, সাজটা নির্ভর করবে আপনি কী ধরনের পার্টিতে যাবেন তার ওপর। সন্ধ্যার দিকে দাওয়াতের আমন্ত্রণ বেশি থাকে। এ বিষয় মাথায় রেখে আপনার ভাবতে হবে সাজের বিষয়টি। সন্ধ্যায় জমকালো সাজে বেশ মানিয়ে যাবেন আপনি। চোখের সাজে হতে হবে সচেতন। সুন্দর করে চোখ সাজিয়ে নিন। তারপর শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দুই রঙের শ্যাডো দিয়ে চোখটাকে সাজাতে পারেন। ঠোঁটে ব্যবহার করুন মানানসই লিপস্টিক। গাঢ় রঙ মানাবে বেশ। রাতের বেলা গ্লসি লিপস্টিক মানাবে। ন্যুড কালারের বেইস করে নিতে পারেন। মেকআপের আগে প্রাইমার লাগাতে ভুলবেন না যেন। পিংক শেডের বা কিছুটা রেডিস ব্লাশন দিতে পারেন। কানে ভারী ঝোলানো দুল পরলে বেশ ভালো লাগবে। শুধু একরঙা সিল্ক্কের কামিজের সঙ্গে এক লহর বা কয়েক লহরের হার পরলে খুব মানিয়ে যায়। চুলটাকে ছেড়ে রাখলে ভালো লাগবে। গ্রাউনের সঙ্গে চুল স্পাইরাল করলে দেখা ভালো লাগবে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে চুল সামনে টুইস্ট করে ছেড়ে দিতে পারেন। শাড়ির সঙ্গে সামনের চুল পাফ করে পেছনে খোঁপা করলে অনায়াসে মানিয়ে যাবে।

যদি অফিসের কোনো কাজে যান, তবে সাজটা হালকা হলে ভালো লাগবে। হালকা বেইস দিয়ে চোখে কাজল-আইলাইনার-মাশকারা ও ঠোঁটে ম্যাট লিপস্টিক দিতে পারেন। চোখটাকে স্মোকি করলে ভালো লাগবে। সঙ্গে মানানসই কানের দুল, গলায় সোনার চেন বা মুক্তার মালা আর এক হাতে ঘড়ি, অন্য হাতে ব্রেসলেট। বিয়ে কিংবা অন্য কোনো গর্জিয়াস পার্টি হলে ভারী সাজ নিতে পারেন।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!