সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

নির্বাচনের আগে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা মধ্য ডিসেম্বরেই নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। নির্বাচনী তফসিল পুনর্নির্ধারিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তবে ১০ ডিসেম্বরের পর সব ধরনের পরীক্ষার ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন অনুমতির প্রয়োজন। এজন্য আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইসিতে চিঠি পাঠানো হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ঢাকার সরকারি হাইস্কুলগুলোয় ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির লটারি করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। নির্বাচনের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রথমবারের মতো লটারির দিন সব স্কুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। এর আগে ১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেয়া হবে।

এবার ঢাকার ৩৮টি হাইস্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন আছে। এর মধ্যে ১৭ হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ১ হাজার ৯৬০টি আসন রয়েছে। এর বাইরে আরও ৩টি হাইস্কুলে এবার প্রথমবার শিক্ষা কর্যক্রম শুরু করা হবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণের পর এই পরীক্ষা ডিসেম্বরের শেষে নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছিল। কিন্তু সোমবার নির্বাচনের পরিবর্তিত তারিখ ঘোষণার পর পরীক্ষার ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে চায় মন্ত্রণালয়।

মাউশি পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ইসির নির্দেশনা মতো বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তারা ভর্তি পরীক্ষা দেয়। তাই ১০ ডিসেম্বরের আগে পরীক্ষা আনা যাচ্ছিল না। স্বাভাবিক কারণেই পরীক্ষা ১ জানুয়ারি শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে শেষ করতে হবে। কেননা ভর্তির সঙ্গে ক্লাস শুরুর সম্পর্ক আছে। যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে, তাই আগে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ আছে। এই কথাটি উল্লেখ করেই ইসির কাছে অনুমতি চাওয়া হবে।

জানা গেছে, মাউশি এরই মধ্যে ঢাকার ৩৮ হাইস্কুলে ভর্তির বিস্তারিত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। এবারও ভর্তির আবেদন ফি ১৭০ টাকা টেলিটকের মাধ্যমে নেয়া হবে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এবারও স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ৫৯ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে আছে ‘এলাকা’, ‘সরকারি প্রাইমারি স্কুল’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘প্রতিবন্ধী’ ও ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী’ কোটা। আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে টেলিটকের মাধ্যমে। www.dshe.gov.bd এবং www.teletalk.com সাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ঢাকা মহানগর এবং ঢাকার বাইরের প্রায় সাড়ে ৩০০ স্কুলের ভর্তি কার্যক্রম আলাদাভাবে সম্পন্ন হবে।

১৭ হাইস্কুলের এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৬০ আসনে ভর্তি করা হবে। এছাড়া ২য় শ্রেণীতে ৮৪৯টি, ৩য় শ্রেণীতে ২ হাজার ১২৬টি, ৪র্থ শ্রেণীতে ৮২২টি, ৫ম শ্রেণীতে ৮৪৯টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ৩ হাজার ৫৫৭টি, ৭ম শ্রেণীতে ৭৩৮টি, ৮ম শ্রেণীতে ৯৯৭টি এবং ৯ম শ্রেণীতে ৪৬৮টি আসন রয়েছে। এবার নবনির্মিত হাজী এমএ গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শহীদ মনু মিঞা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে হেল্প ডেস্ক খোলা হবে।

এ বছরও রাজধানীর সরকারি হাইস্কুলগুলো তিন গ্রুপে ভাগ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৪১টি হাইস্কুলের মধ্যে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপে ১৪টি করে এবং ‘গ’ গ্রুপে ১৩টি হাইস্কুল আছে। এবার রাজধানীর মোট ১৭টি হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বাকি স্কুলগুলোর কোনোটি দ্বিতীয় আবার কোনোটি তৃতীয় বা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম শ্রেণীর ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে। প্রথম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী নেয়া স্কুলগুলোর মধ্যে আছে আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমণ্ডি গভ. ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিডার শাখা, তেজগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুলের ফিডার শাখা, নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!