শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২:১০ অপরাহ্ন

পরাজয় এড়াতে পারেনি ভারত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আবির্ভাবের পর অনেকেই মনে করছেন টেস্টের আভিজাত্য নষ্ট হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।

সিরিজে শেষ টেস্ট ওভালেও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ হয়েছে। জয়ের জন্য সফরকারী ভারতের প্রয়োজন ছিল ৪৬৩ রান। জিততে হলে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলকে রেকর্ড গড়তে হতো। লোকেশ রাহুল এবং ঋষভ পন্তের জোড়া সেঞ্চুরিতে ওভাল টেস্টে ড্রয়ের খুব কাছে চলে গিয়েছিল ভারত।

আর মাত্র ১৩ ওভার খেলতে পারলেই ড্র নিশ্চিত। এমন কঠিন পরিস্থিতে লড়াই করে যাওয়া ভারত শেষ পর্যন্ত ৩৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। অ্যালিস্টার কুবের জীবনের শেষ ম্যাচে ১১৮ রানের জয়ে ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ করে ৪-১ ব্যবধানে।

চতুর্থ ইনিংসে যেখানে ব্যাট করা কঠিন, সেখানে রানের পাহাড়ে চাপা পড়া ভারত সোমবার শেষ বিকালে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করতেই শেখর ধাওয়ান, চেতেশ্বর পুজারা ও অধিনায়ক বিরাট কোহলির উইকেট হারায়।

এমন অবস্থায় দলের হাল ধরেন ওপেনার লোকেশ রাহুল ও আজিঙ্কা রাহানে। চতুর্থ উইকেটে তারা ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেন।

মঙ্গলবার শেষ দিনেও লড়াই অব্যাহত রাখেন রাহুল-রাহানেরা। এই জুটি ১১৮ রান যোগ করতেই মঈন আলীর স্পিনে শিকার রাহানে (৩৭)। পরের ওভারে বেন স্টোকসের শিকার হন ওভাল টেস্টে অভিষেক হওয়া হনুমা। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ফেরেন শূণ্য রানে।

এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ঋষভ পন্তকে সঙ্গে নিয়ে ফের লড়াই শুরু করেন রাহুল। এই জুটিই ভারতকে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখায়। দিনের শেষ সেশন তথা চা বিরতি থেকে ফিরে আদিল রশিদের লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হন রাহুল। ভারতকে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখানো এ ওপেনার ফেরেন ২২৪ বলে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। তার আগে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ২০৪ রান।

মূলত রাহুলের বিদায়ের মধ্য দিয়েই পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের। এরপর আর লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি ক্যারিয়ারে মেইডেন সেঞ্চুরি করা ঋষভ পন্ত। তিন রানের ব্যবধানে ফেরেন তিনি। আদিল রশিদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১৪৬ বলে ১৫ চারও চারটি ছক্কার সাহায্যে ক্যারিয়ার সেরা ১১৪ রান সংগ্রহ করেন ঋষভ পন্ত।

শেষ দিকে রবিন্দ্র জাদেজারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় ৩৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন জেমস অ্যান্ডারসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড: ১ম ইনিংস ৩৩২/১০ (বাটলার ৮৯, কুক ৭১, মঈন ৫০; জাদেজা ৪/৭৯, বুমরাহ ৩/৮৩, ইশান্ত ৩/৬২)। এবং ২য় ইনিংস: ৪২৩/৮ (কুক ১৪৭, রুট ১২৫; হনুমা ৩/৩৭, জাদেজা ৩/১৭৯)।

ভারত: ১ম ইনিংস ২৯২/১০ (জাদেজা ৮৬*, হনুমা ৫৬, কোহলি ৪৯; অ্যান্ডারসন ২/৫৪, স্টোকস ২/৫৬, মঈন ২/৫০)। ২য় ইনিংস: ৩৪৫/১০ (রাহুল ১৪৯, ঋষভ পন্ত ১১৪; অ্যান্ডারসন ৩/৪৫, সেম করন ২/২৩, রশিদ ২/৬৩)।

ফল: ইংল্যান্ড ১১৮ রানে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরজে ইংল্যান্ড ৪-১ জয়ী।

ম্যাচ সেরা: অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড)।

সিরিজ সেরা: সেম করন (ইংল্যান্ড) ও বিরাট কোহলি (ভারত)।


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!