শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল সংস্কারের নামে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার টেন্ডার!

 

বার্তাকক্ষ : রেলওয়ের হাসপাতাল সংস্কারের কথা বলে টেন্ডারের মাধ্যমে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে বিপুল পরিমাণ অংকের অর্থ লোপাটের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাবনার পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের হাসপাতাল সংস্কারের নামে এ টেন্ডার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ঠিকাদাররা জানান, সংস্কার কাজের জন্য বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে, তাতে একটি নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ সম্ভব। এই ঘটনাকে রেল কর্মকর্তাদের অর্থ লোপাটের টেন্ডার বলছেন তারা।

হাসপাতাল সংস্কারের নামে রেল কর্মকর্তাদের অর্থ লোপাটের এ ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঠিকাদাররা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগও করেছেন।

ইতিমধ্যে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ (ডিইএন-২) পাকশী রেলওয়ে কার্যালয়ে হাসপাতাল সংস্কার কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রেলের কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলের রাজশাহীর অফিস এবং পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ এর কার্যালয় হতে স্থানীয় একজন ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে এই টেন্ডার করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ঢাকার জামাল হোসেন নামের এক ঠিকাদার এ ব্যাপারে রেলের মহাপরিচালক, মহাব্যবস্থাক, প্রধান প্রকৌশলী, পাকশীর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এবং বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বরাবরে লিখিত অভিযোগের পর টেন্ডার দাখিল বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এ অভিযোগের কপি হাতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, এই হাসপাতাল সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার যে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে তা অস্বাভাবিক। সংস্কার কাজের জন্য প্রাক্কলিত টাকা দিয়ে একটি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব।

এই অভিযোগে রেলওয়ে প্রশাসনের অর্থ অপচয় রোধ করে তদন্ত করারও দাবি জানান তিনি।

সংস্কারের জন্য মোট ৬১টি খাতের মধ্যে মোটা দাগে কয়েকটি কাজের প্রাক্কলিত অর্থের অংক দেখে স্থানীয় ঠিকাদাররা জানান, এটি রীতিমতো পুকুর চুরির শামিল।

ঠিকাদার আলমগীর হোসেন বলেন, এলাকার দু’’একজন ঠিকাদার সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে রেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে এসব কাজ করে থাকেন।

দরপত্রের কপি যাচাই ও সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালের পুরাতন দেয়ালের প্লাষ্টার করা বাবদ ১৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের এই প্লাষ্টার কাজে ২ লাখ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। রং করার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। রং এর কাজে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।

ছাদ সংস্কার করার জন্য প্রায় ২৫ টন রড ধরা হয়েছে। রডের বর্তমান বাজারমূল্য ১৫-১৬ লাখ টাকা হলেও ধরা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। ছাদের যে অংশে পানি পড়ে, ওই অংশ মেরামত করলেই চলে। রড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঢালাই কাজে ৩৬ লাখ টাকা, টাইলস বাবদ ১২.৫০ লাখ টাকা, গ্রিলের জানালা সংস্কারের জন্য ২৭ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে ১৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে । এছাড়াও বাইরে অন্যান্য ছোটখাটো খাতও অস্বাভাবিক ব্যয় প্রাক্কলিত করা হয়েছে।

ঠিকাদাররা জানান, ষ্টিলের যে জানালা এখন রয়েছে, সেগুলো ৫০ বছরেও কোন ক্ষতি হবে না।
স্থানীয় ঠিকাদাররা আরো জানান, অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে মাটি, বালু ও সিলকোট করতে ১৬ লাখ টাকার ব্যয় বরাদ্দ অস্বাভাবিক।

ছাদ সংস্কারের জন্য ২২ লাখ টাকার রড ব্যবহারের বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছাদের উপরে রড বিছিয়ে আরেকটি ছাদ দেওয়া হবে, যাতে ছাদ দিয়ে পানি না পড়ে।

পানি পড়া বন্ধ করতে ছাদের উপর নতুন আরেকটি ছাদ নির্মাণের কথা তিনি আগে কখনও শোনেননি বলে জানিয়েছেন।

পাকশীর বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলাম জানান, এই কার্যালয় হতে তিনি ২০ লাখ টাকার উপরে কোনো টেন্ডার করতে পারেন না। পশ্চিমাঞ্চল রেলের রাজশাহী প্রধান কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের অনুমোদনে এই টেন্ডারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী জানান, হজ্ব পালনের জন্য তিনি ছুটিতে ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে এই টেন্ডারের আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদাররা পুকুর চুরির এই টেন্ডার অবিলম্বে বাতিল পূর্বক নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলিত করে টেন্ডার আহব্বানের দাবি জানিয়েছেন।- তথ্য সূত্র: উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ

 

 


© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!