শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

পাঠক তৈরি করতে পারছেন না নতুন লেখকরা : সমরেশ

পাঠক তৈরি করতে পারছেন না নতুন লেখকরা : সমরেশ

কলকাতার মোহরকুঞ্জে সপ্তম বাংলাদেশ বইমেলার সমাপনী দিন গত বৃহস্পতিবার ভারতের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার বলেন, আজকে নতুন লেখকদের পাঠক ধরার ক্ষমতা নেই। তাদের একেকটি লেখা হয়তো ভালো, কিন্তু তারপর আর সেভাবে পাঠক তৈরি করতে পারছেন না।

সমরেশ মজুমদার বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও ঢাকার বইমেলা যারা করছেন তারা চাইছেন আরও বই বিক্রি হোক, ভালো পাঠক তৈরি হোক, আরও লেখা তৈরি হোক। তাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু কারা লিখবেন? যারা লিখবেন তাদের নিয়ে আলোচনা হোক। আর এটা না হলে আস্তে আস্তে এই বইমেলাগুলো মিউজিয়াম হয়ে যাবে। একটা সময় বাবা ছেলেকে দেখিয়ে বলবে যে ‘এই বইগুলো হুমায়ূন আহমেদ লিখতেন’। ছেলে বলবে ‘ও আচ্ছা’। বাবা বলবেন ‘জানিস তো ইনি সুনীল গাঙ্গুলী— এর বইগুলো আমি পড়তাম’…। এই দিনটা অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার। তিনি উল্লেখ করেন, একজন-দুজন পাঠক নয়, হাজার হাজার পাঠক— যাদের ওপর নির্ভর করেন সেসব লেখকের বই কেনার আগ্রহই পাঠকদের মেলায় ছুটিয়ে আনে।

অতীতের একটি কথা স্মরণ করে সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘১৯৯৩ বা ’৯৪ সালে ঢাকায় একুশে বইমেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ল বিশাল লাইন। এটা টিকিট কেনার জন্য নয়। একজন আমায় বললেন, হুমায়ূন আহমেদ বইয়ে স্বাক্ষর করছেন। সবাই লাইন দিয়ে তার স্বাক্ষর করা বই কিনবেন। হুমায়ূন তখন আমার অত্যন্ত প্রিয় অনুজ বন্ধু। আমি দেখলাম মানুষ মুগ্ধ হয়ে বই কিনছেন। আমিও লাইন দিয়ে একজনের কাছ থেকে একটা বই নিয়ে হুমায়ূনের দিকে বাড়িয়ে দিলাম তার স্বাক্ষরের জন্য। হুমায়ূন প্রথমটায় আমায় দেখেননি।
স্বাক্ষর করতে গিয়ে আমায় দেখে বিস্মিত হয়ে উঠে আমায় জড়িয়ে ধরেছিলেন। একজন লেখক একটি বইমেলাকে কী ভীষণভাবে জীবন্ত করে তুলেছিলেন, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছিলাম। সেটা এক বছর নয়, পরপর বহু বছর। তবে শুধু একজন লেখকই নয়, ইমদাদুল হক মিলন থেকে আরম্ভ করে অনেক লেখক ধীরে ধীরে বইমেলাকে প্রাণসঞ্চার করেছিলেন। ’ সমাপনী দিনে সমরেশ মজুমদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুত্মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ঢাকার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কথাসাহিত্যিক তবারক হোসেন, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ ইমানুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৩৯
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৭
    যোহরদুপুর ১১:৪৪
    আছরবিকাল ১৫:৫৩
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৩০
    এশা রাত ১৯:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!