রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

পাবনার কাজী মমিনের অভাবনীয় উদ্ভাবন ডিজিটাল গেট ওপেনিং সিস্টেম

বার্তা সংস্থা পিপ, পাবনা : পাবনা শহরের রাধানগর মক্তব মোড়ের ডাকবাংলা পাড়ার কাজী মোঃ জয়নাল আবেদীনের সন্তান সফটওয়ার প্রকৌশলী কাজী মোঃ আজহারুল আবেদীন মমিন অভাবনীয় উদ্ভাবনী ‘চিচিং ফাক’ এর মত ডিজিটাল গেট ওপেনিং সিসটেম তৈরি করেছেন।

যার কারণে গেট রির্মোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে গেট একাই খুলবে এবং একাই বন্ধ করা যাবে। সাশ্রয়ী মুল্যের ডিজিটাল গেট ওপেনিং সিসটেমের কারণে মাসে মাত্র ৫০ টাকার বিদ্যুত খরচে বেচে যাবে দাওয়ান রাখার ঝামেলা।

সর্বপরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে শতভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) কাজী মোঃ আজহারুল আবেদীন মমিন এক সাক্ষাতকারে তুলে ধরেন তার উদ্বাবনীর বিস্তারিত। যা হুবহু নিউজ পাবনার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।-

‘আমি রাধানগর মক্তব মোড়, ডাকবাংলা পাড়া নিবাসী। নিজেদের একটি বাড়ীতে ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আমার বসবাস করি।

আমি ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা করি বাড়ীতে বসেই, আমার একটি অনেক পুরাতন মডেলের প্রাইভেট কার আছে, যা নিজেই ড্রাইভ করি। নিজের ব্যবসায়ীক কাজ কর্ম ছাড়াও যে সময়টুকু পাই, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা, বাজার করা ছাড়াও পরিবারের সবাইকে নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরে বেড়ানো এইসব মিলে দিন ভালই কাটে।

তবে একটি জায়গাতেই আমার খুব বিরক্ত লাগতো যখনই গাড়ী নিয়ে বের হতাম বা ফিরতাম তখন গাড়ী থেকে নেমে আমাকে বাড়ীর গেটটি খুলতে হতো। আর যখন বৃষ্টি হতো এই কাজটি করতে আরও কষ্ট হত।

মনে হতো একটা কথা যদি এমন হতো সেই রুপকথার গল্পের মতো চিচিং ফাঁক বলতাম আর গেটটি খুলে যেত তাহলে কতই না ভাল হতো। কিন্তু সেটা সম্ভব না কারণ আমি কোন যাদুকর নই।

আমি আমার জীবনে অনেক কিছুই তৈরী করেছি শখের বসে বা প্রয়োজনে আবার অনেক কিছু করেছি ব্যবসার প্রয়োজনে যা খুব একটা উল্লেখযোগ্য কিছু নয়।

যদিও বা আমার টেকনিক্যাল কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তারপরও আমি যখন যেটা চেয়েছি তৈরী করে নিয়েছি। ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তিটাকে আমি অর্জন করেছি অনেকটা সৌখিন ভাবেই।

কাজী মোঃ আজহারুল আবেদীন মমিন

টুকিটাকি নিজের ব্যবহার করার জন্য কোন কিছু তৈরী করার ভিতরে যে আনন্দ সেটা আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো। আমি অনেক ভেবে চিন্তে মনস্থির করি ডিজিটাল গেট ওপেনিং সিসটেমও আমি তৈরী করবো, কারণ এছাড়া কোন বিকল্প ছিলো না।

এ রকম কোন ব্যবস্থা বাজারে নেই। এটা করতে প্রথমে আমাকে ভাবতে হয়েছে আমাদের দেশের লোডশেডিং এর কথা এবং আরও কিছু ব্যাপার যেগুলো আমাকে আগেই ভাবতে হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিলো একটি মেকানিক্যাল যেটি আনুমানিক ৪০০/৫০০ কেজির একটি ভারি গেটকে পরিচালনা করবে। সেক্ষেত্রে মেকানিক্যালটি হতে হবে অনেক মজবুত এবং টেকসই। সব মিলিয়ে আমি পরিকল্পনা করতে থাকি, এভাবে চলে আমার ৫/৬ টি মাস।

এক সময় আমি মনস্থির করি কাজটি শুরু করার। এই কাজটি করতে প্রথমে যেটা আমার সব থেকে বড় বাঁধা হয়ে দাড়ায় যে, আমার কোন লেদ ওয়ার্কসপ বা ওয়েল্ডিং মেশিন নেই।

আমার গাড়ীটি মেনটেইন করার সুবাদে বেশ কিছু ওয়ার্কসপ মালিকের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ছিলাম। তাদের মধ্যে একজন হলেন সাদ্দাম ভাই এবং হাসান ভাই। উনাদের সাথে কথা বলে আমার সব কিছু জানার পর উনারা আগ্রহ প্রকাশ করেন কাজটি করে দিতে।

একদিন আমি লোহার ভাংরি পট্রি থেকে আমার প্রয়োজনীয় যা যা দরকার সব কিছু কিনে রাত নয়টার দিকে টেবুনিয়ার একটি ওয়ার্কসপে কাজ শুরু করলাম।

সাদ্দাম ভাই নিজেই লেদ মেশিন অপারেটিং করতে পারতো। তিনিই শুরু করলেন আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী মেকানিক্যালে সব থেকে গুরুত্বপূর্ন অংশটি।

রাত তিন টা পর্যন্ত আমাদের ঐ একটি অংশ তৈরী করতে সময় ব্যয় হয়ে যায় তবে এটি হওয়ার পর আমার উৎসাহ আরও বেড়ে যায় এরপর সাদ্দাম ভাই আর আমাকে সময় দিতে পারে না।

কয়েকদিন অপেক্ষার পর আমি হাসান ভাইয়ের সাহায্য নেই এবং কাজটি আস্তে আস্তে শেষ করি। মেকানিক্যালটির প্রত্যেকটি অংশ একত্রিত করতে প্রয়োজন ছিলো একটি চেসিস। সেটি আমি নিজেই তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেই, আর এই কাজে প্রয়োজন ছিলো একটি ওয়েল্ডিং মেশিন।

প্রতি শুশুবারে সাদ্দাম ভাইয়ের ওয়ার্কসপ থেকে তার মেশিনটি আমি বাসায় নিয়ে আসতাম এবং এভাবেই আমার কাজটি করতে থাকি।

সব শেষে যখন মেশিনটিতে একটি মটর সংযোজন করার সময় হলো অনেকেই আমাকে পরামর্শ দিয়ে ছিলেন ২২০ ভোল্টের ১ হর্স পাওয়ার এর মটর ব্যবহার করতো।

কিন্তু এতে আমার আপত্তি ছিলো, কারণ এই মটরটি ব্যবহার করলে লোডশেডিং প্রিয়ডে একমাত্র ব্যবস্থা হতে পারে জেনারেটর যা আমার নেই। এক্ষেত্রে ১২ ভোল্টের ৫ এ্যাম্পিয়ারের একটি মটর নির্বাচন করি। কারণ আমার মনে হয়ে ছিলো এটিই যথেষ্ঠ।

একটি মটরে যেতো স্পীডে ঘুরে গেটটি তত স্পিডে চলবেনা। এক্ষেত্রে স্পিড কমাতে ব্যবহার করেছি পিনিয়াম গ্রিয়ার। ফলে যতটা স্পিড কমেছে ততটাই শক্তি বৃদ্ধি পায়।

গেটটি খুলতে বা বন্ধ হতে সময় নেয় সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড। এই ১০ সেকেন্ডে একটি মোটর গরম হওয়ার সুযোগ থাকে না সেখানে পুরে যাওয়ার কোন ভয়ই নাই এবং লোডশেডিং মুক্ত করতে একটি নরমাল আই.পি.এস অথবা একটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারীই যথেষ্ট।

মেশিনটি মোটর সংযোজনের পর যখন পাওয়ার স্যুইচ অন করলাম আমার মেকানিক্যালটি টেষ্ট করার জন্য তখন একটু শব্দ হলেও বাকীটা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এবার আমার প্রয়োজন একটি ইলেকট্রনিক্স কন্ট্রোলার। যা পুরো মেকানিক্যালটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি আমার আগেই পরিকল্পনা করা ছিল কিভাবে করতে হবে।

ইলেকট্রনিক্স এর কাজে আমি দীর্ঘদিন অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার যা প্রয়োজন ছিল ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি দিয়ে করতে পেরেছি, সমস্যা হয় নাই। ইলেকট্রনিক্সটি আমার কাছে অনেকটা ভাষার মতই মনে হয়।

আমরা যখন কিছু ভাবি তা অতি সহজেই লিপিবদ্ধ করতে পারি, শুধুমাত্র সীমিত কিছু অক্ষরের সাথে পরিচিত থাকায় যা আমরা কম্বিনেশন করে আমাদের মনের যে কোন কথা আমরা লিখতে পারি। ইলেকট্রনিক্সটিও আমার কাছে সেরকমই মনে হয়। যদিওবা এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত।

গেটটি নিয়ন্ত্রণ করতে আমার প্রয়োজন ছিল একটি ওয়ারল্যাস রিমোট এর যেটি আমি নির্বাচন করি কার লক রিমোট। কারণ আমি এটি গাড়ীতেই ব্যবহার করবো আর অন্যান্য কাজে ক্যাবল রিমোট ব্যবহার হবে।

ওয়ারল্যাস রিমোটটি আমার মাইক্রোকন্ট্রোলার সার্কিটের সংঙ্গে সংযোজন করতে সক্ষম হই। মেকানিক্যালটির সঙ্গে আমার কোন্ট্রোলার সংযোজন হওয়ার পর আমি পুরো মেশিনটি স্থাপন করি গেটটির সঙ্গে এবং আমি দেখি সবকিছু ঠিকঠাক মতই কাজ হচ্ছে।

এই মেশিনটি থাকবে সম্পূর্ণ বাড়ীর বাইরে প্রাচীরের ভিতর সাইডে, সেখানে বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বডি তৈরী করার প্রয়োজন হয়, কিন্তু কোন ওয়ার্কসপের কেউ দিয়ে এই কাজটি করাতে না পারায় আমাকেই শেষ পর্যন্ত করতে হয়।

এতে করে আমার অনেক কষ্ট বেড়ে যায়। কারণ আমার ওয়েল্ডিং করার খুব ভাল অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন আমার ভাল লাগে এই ভেবে যে, আমি আমার ইচ্ছাটাকে পূরণ করতে পেরেছি।

এখন আমি গাড়ী নিয়ে বেড় হই বা ভিতরে ঢুকি আমাকে আর গাড়ী থেকে নামতে হয় না বাড়ীর গেটটি খোলার জন্য। গাড়ীর ভিতরে বসেই রিমোটে টিপ দিলেই গেটটি যখন খোলে বা বন্ধ হয় এটির যে আনন্দ সেটা আমি প্রকাশ করতে পারবো না।

যে চাহিদাটি আমার বাজার পূরন করতে পারেনি সেটি আমি নিজেই পূরণ করতে পেরেছি। যদিও বা এটি এযুগের তুলনাই এমন কিছুই নয় বা নতুন কিছু নয়।

আরও কিছু অপশন গেটিটিতে সংযোজিত হবে যেমন- যখন গেটটি বন্ধ হবে তখন যদি কোন বাচ্চা বা কোন প্রাণী গেটের রেলটির উপরে চলে আসে তখন গেটটি সংক্রিয় ভাবেই দাঁড়িয়ে যাবে।

আবার কোন ভাবে যদি গেটের চাকার নিচে কোন ময়লা আটকে থাকে সেক্ষেত্রেও গেটটি এ্যার্লাম থাকবে।

এছাড়াও এই ডিভাইসটিতে ডাটাবেজ করা যেতে পারে যা দ্বারা কখন কে ঢুকলো বা বের হলো তা রেকর্ড থেকে যাবে। সেক্ষেত্রে একটি বাড়ীর অনেকটাই নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।

আবার বাড়ীর গেটের সামনে কে এসে বেল বাজালো সেটি ঘরে বসেই দেখা যাবে এবং ঘরে বসেই গেটটি খুলে দেওয়া যাবে।’

সফটওয়ার প্রকৌশলী কাজী মোঃ আজহারুল আবেদীন মমিন জানান, এই প্রযুক্তি বাজারজাত করতে পারলে দেশের উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে। তিনি সবার সহায়তা কামনা করেন।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:১৩
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৩৫
    যোহরদুপুর ১২:০২
    আছরবিকাল ১৬:৩৭
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৮:৩০
    এশা রাত ২০:০০
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!