বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

পাবনার কৃষকদের মধ্যে শিম আবাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে

 

বার্তাকক্ষ : পাবনার দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ আর নীলের সমারোহে ছেয়ে গেছে। যতদূর চোখ যায় শুধুই শিমের আবাদ। এলাকার মানুষ নাম দিয়েছে “শিমসাগর”।

জেলার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুর, পারখিদিরপুর, রামচন্দ্রপুর, রামেশ্বরপুর, গোকুলনগর, দরবেশপুর, সড়াবাড়িয়া, বেরুয়ান, নসিরামপুর, কাকমাড়ীয়া, পাচালীপাড়া, লোকনপুর, কচিয়া, গোরুরী, শ্রীকান্তপুর, ধলেশ্বর, ঈশ্বরদী উপজেলার মূলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর, মূলাডুলি, রামেশ্বরপুর, আটঘরিয়াপাড়া, মধ্যপাড়া, বেতবাড়িয়া, কুমারগাড়ি, শেখ পাড়া, পাড়ামোহন, পতিরাজপুর, সোনাইকান্দি, রহিমপুর, নিকরহাটা, বাঘহাছলা, গোয়ালবাথান পর্যন্ত পাবনার শিমসাগর। আবাদে ঝামেলা কম, অন্যান্য ফসল থেকে মুনাফার পরিমাণ বেশি হওয়া এবং দীর্ঘদিন জমিতে রেখে বিক্রি করা যায় বলে কৃষকদের মধ্যে শিম আবাদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পর পর কয়েক বছরের বাম্পার ফলন আর উত্পাদিত শিমের মান ভালো হওয়ায় ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও দাশুরিয়া, আটঘরিয়ার পারখিদিরপুর ও খিদিরপুর বসে দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিমের হাট। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন এখানে।

বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার মণ শিম। বেচাকেনার কারণে সাপ্তাহিক এ হাটগুলো পরিণত হয়েছে শিম বিপণনের দৈনন্দিন হাটে ।

জমির অবস্থান ও আবাদ ক্ষমতা অনুযায়ী বিঘাপ্রতি জমির লিজ নেওয়া হয় পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী উপজেলার মূলাডুলি মধ্যপাড়ার কয়েক কৃষক জানান, একবিঘা জমি আবাদ করে ১০ থেকে ১২ মণ শিম সংগ্রহ করা যায়।

বিঘাপ্রতি জমিতে আবাদে কমবেশি খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এর বিপরীতে প্রতিবিঘার শিম বিক্রি করে নীট মুনাফা আসে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মত।

শিম আবাদের সুবিধা হলো প্রতিদিন গাছ থেকে পেড়ে তা বিক্রি করা যায়। চলতি বছরে শিমসাগর এলাকার ফলনকে স্থানীয় চাষিরা চিহ্নিত করেছেন বাম্পার ফলন হিসেবে। শিমসাগরকে ঘিরেই প্রতিদিন কোটি টাকার শিমের বিপণন চলছে দেশের বৃহত্তম শিমের হাট মূলাডুলি হাটে।

আটঘরিয়ার মাজপাড়ার সারুটিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, নিজের দুই বিঘা জমির উপর চকলেট শিম আবাদ করেছেন। এক সিজনে ১শ মণেরও বেশি শিম পাওয়া যায়।

খিদিরপুর ত্রি-মহন বটতলা মোড়ের দুই ব্যাপারি জানান, এই মোড়ে তারা প্রতিদিন শিম কিনে মূলাডুলি আড়তে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। সেখানে খরচ বাদ দিয়ে ভালো টাকা থাকে।

আটঘরিয়া পৌরসভার আব্দুল মজিদ, আলাউদ্দিন, মাওরা, পচাই, আলাই নাজিম আগাম জাতের শিম আবাদ করে প্রতিদিন চার/পাঁচ মণ করে উত্তোলন করেন। খরচ বাদে বিঘাপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

এক আড়ত্দার জানান, মৌসুম শুরু না হতেই এখনই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক শিম যাচ্ছে সিলেট, চট্টগ্রাম, চৌমোহনি, কুমিল্লার নিমসা, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চগড়, মাওয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক শিম বিক্রি করবে স্থানীয় চাষিরা।

 

 


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!