বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

পাবনায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ খুন- এলাকায় উত্তেজনা, আতঙ্ক

স্বজনদের আহাজারি

 

বিশেষ প্রতিনিধি : আজ সোমবার (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন নিহত হয়েছেন।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন ভাড়ারা ইউনিয়নের আরঙ্গবাদ খয়েরবাগান গ্রামের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল মালেক (৫০) ও মৃত গহের আলী খানের ছেলে লস্কর আলী খান (৬৫)। তারা পরস্পর চাচাত ভাই এবং নিহতরা দুজনই সুলতান গ্রুপের বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং সারা পাবনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সন্ধ্যায় এ খুনের সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত পাবনা শহরে লোক সমাগম কমতে থাকে। অনেকেই আতঙ্কে সন্ধ্যার পরপরই বাড়ির পথ ধরেন। দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হতে দেখা গেছে। শহরে রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল কমে গেছে।

বাড়তি খোঁজ নিতে অনেকেই ফোনে পত্রিকা অফিসগুলোতে যোগাযোগ করেছেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা সুলতান আহম্মেদ খানের বিরোধ চলছিল।

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন থেকে বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের সমর্থকেরা বিবাদে জড়ান। এর জের ধরে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে খাঁপাড়া গ্রামে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জালাল উদ্দিন জানান, এলাকার আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুলতান গ্রুপ ও আক্কাস গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে লস্কর খাঁ ও মালেক শেখ নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দুপক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এসময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ও গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় সংঘর্ষে ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এবং আহতদের সবাই পুলিশি ঝামেলা এড়াতে অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। আহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবনে মিজান জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় পদ্মা নদীর চর থেকে শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ এবং সুলতান আহমেদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

নিহত লস্কর আলী খান এক পক্ষের নেতৃত্বদানকারী সুলতান আহমেদের বাবা।

সুলতান আহমেদ বলেন, “২০১৬ সালে যারা আমার বাড়ি পুড়িয়েছে তারাই আজ আমার বাবাকে গুলি করে মেরেছে।”

সুলতানের ভাতিজা রাতুল হাসান বলেন, “সাইদ চেয়ারম্যান নিজে আমার চাচাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ওই সময় দাদা সামনে পড়লে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।”

ভাড়ারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান জানান, আক্কাস গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও সুলতান ও তার লোকজন কখনই আওয়ামী লীগ করেনি। তারা জাসদ করে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন জানান, আক্কাস ভাড়ারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সুলতান কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে যোগদান করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রেজাউল রহিম বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। পাবনা জেলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে এ ঘটনায় যেই দোষী হোক, আমরা তার শাস্তির দাবি জানাই।’

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ বলছে, দুই পক্ষের লোকজনই গা ঢাকা দিয়েছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।

 

 

  • 1K
    Shares


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!