বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

পাবনায় ঈদ কেন্দ্রীক বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঈদ যায় ঈদ আসে কিন্ত বাস ভাড়ার নৈরাজ্য শেষ হয়না। পাবনায় বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন অবস্থা।

ঈদের কয়েকদিন আগে বাস ভাড়া বেড়ে যায় দ্বিগুণ আবার ঈদ শেষে চলে যায় সপ্তাহ তবু ভাড়া কমেনা। একসময় যাত্রীদের ঈদ শেষ হলেও শেষ হয়না বাস মালিকদের ঈদ!

রাজধানী ঢাকায় থাকে পাবনার এমন লাখ লাখ মানুষ পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আসেন আপন ঠিকানায়।

তাদের এই যাওয়া এবং আসার মাঝে ফায়দা লুটে নেয় বাস মালিকরা। যাত্রী সেবার নামে ভাড়া নৈরাজ্য করে তারা এক ঈদেই তুলে নিচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের লক্ষ লক্ষ টাকা। এ যেন দেখার কেউ নেই!

ঢাকা কলেজে পড়ুয়া আতিকুল ইসলাম জানায়, ‘যারা ঢাকায় থাকে অনেকের আর্থিক অবস্থা ভালো। তারা কেউ চাকুরী করে কেউ ভালো ব্যাবসা করে। হয়তো তাদের বাড়তি ভাড়া দিতে তেমন সমস্যা হয় না কিন্তু একজন স্টুডেন্ট এই বাড়তি ভাড়া দিতে সমস্যা বোধ করে। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ঢাকায় লেখাপড়া করে। তাদেরও যাতায়াত করতে হচ্ছে এই ভাড়া নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই।

প্রতি ঈদেই এই একই আবস্থা হয় এটা দূঃখ জনক। ঈদ কেন্দ্রীক বেশি ভাড়া নিতে পারে তবে ডাবল ভাড়াটা অসহনীয় মনে হয়। এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেওয়া জরুরি।’

পাবনা থেকে ঢাকাগামী পাবনা এক্সপ্রেস, শ্যামলী পরিবহন, সরকার ট্রাভেলস, সি লাইন, নাইট স্টার, মহানগরসহ পাবনার প্রায় প্রতিটি বাস কাউন্টারেই বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

তবে পাবনায় ভাড়া নৈরাজ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সরকার ট্রাভেলস। এ বিষয়ে সরকার ট্রাভেলসের একজন যাত্রী পাবনা জেলা প্রশাসন ভিত্তিক ফেসবুক পেজ ‘সিটিজেন ভয়েস’এ এর প্রতিকার চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন- সরকার ট্রাভেলস তার দ্বিগুন দামে কেনা সিট তিন জায়গাতে তিন রকম যাত্রীর কাছে বিক্র‌ি কর‌েছে, এবং তাকে তার টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

তার স্ট্যাটাসটি নিউজ পাবনার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘পাবনা মোটর মালিক সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।

আমি ঈদের আগে গত ০৮/০৮/২০১৯ ইং তারিখে ঢাকা ফেরার জন্য ১৭/০৮/২০১৯ ইং রাত ১১ টার পাবনা টু নারায়ণগঞ্জ এর সরকার ট্রাভেলস এর পাবনা কাউন্টার থেকে তিন সিটের একটা টিকিট করি।

যার নরমাল ভাড়া ৪৫০ টাকা তো আমার ফেরার খুবই প্রয়োজনীয়তার কারণে ৮০০ টাকা দিয়ে আমি টিকিট করি। তিনটা টিকিট ২৪০০ টাকা দিয়ে করতে হয়।

কারন আমরা সাধারন জনগন তারা যে নিয়ম করবে আমাদের তাই মানতে বাধ্য থাকতে হয় । আর আমরা এদের কাছে জিম্মি এখন আমার কথা হল ঈদের ভাড়া বেশি নেবে এটাই আমাদের কাছে এখন স্বাভাবিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু ঈদের ভাড়া বেশি নেওয়ার পরেও সাধারন পাবলিককে কেন এভাবে হয়রানি করছে এটা হচ্ছে আমার মূল বিষয়। তো কাল রাতে আমার ফ্যামিলি নিয়ে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম আমার ছোট দুইটা বাচ্চা ‌। আমার মেয়ে বাচ্চার বয়স মাত্র দশ মাস ছেলের বয়স ৪ চার বছর।

আমার গাড়ি পাবনা থেকে ছাড়ার সময় ছিল রাত ১১ টা। গঙ্গারামপুর থেকে উঠার সময় ছিল ১১:৪৫ আমার সাথে আরও ১ জন যাত্রী ছিল যার একই গাড়িতে টিকিট করা ছিল কিন্তু গাড়ি আমার সামনে দিয়েই চলে যায় আমি সিগন্যাল দেওয়ার পরেও গাড়ি থামে না।

পরে জানতে পারি গাড়ির সিট ডাবল বিক্রি করা হয়েছে গাড়ির মালিক নিজে বিক্রি করছে এবং আমার গাড়ির টিকিট ও গাড়ির মালিক নিজে বিক্রি করছে ৮০০ টাকা করে। কিন্তু টিকিটে কোন টাকা উল্লেখ করে নাই।

গঙ্গারামপুর থেকে মোট চারটা সিট বিক্রি করা হয়েছে এই চারটাই ডাবল বিক্রি করেছে। পড়ে অনেক কথা কাটাকাটির পরে অন্য একটা গাড়ির মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের।

সেখানে গিয়ে দেখি আরো প্রায় সাত থেকে আট জনের টিকিট এরকম ডাবল বিক্রি করছে। তাহলে সিট গুলোর ভাড়া পড়লো পার সিটে ১৬০০ টাকা।

সিরাজগঞ্জ রোড থেকে আমারে তিনটা সিট এর পরিবর্তে দুইটা সিট ম্যানেজ করে দিল আর আরও একজন যে ছিল তারে ইঞ্জিন কাভারে বসায়ে নিয়ে আসা হলো। তাহলে আমার তিনটা সিট এর পরিবর্তে দুইটা সিট দেওয়া হল আর বাকি একটা সিটের ৮০০ টাকা আমারে দিতে অসম্মতি প্রকাশ করল।

এগুলো আমাদের পাবনার সরকার ট্রাভেলস এর সার্ভিস এবং তাদের অবৈধ বিজনেস। আশাকরি মোটরযান কর্মকর্তারা বিষয়টা ভালোভাবে দেখবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।’

এ ছাড়াও সরকার ট্রাভেলস গত ৯ আগস্টে ১৬ আগস্টের ২টা ঢাকা টু নারায়নগঞ্জের টিকিটের দাম রাখে ১৬০০টাকা। সেই টিকিটের উপরও কোন টাকার অংক লেখা নেই। বিষয়গুলি রহস্যজনক।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক সুলতান মাহমুদের ওই টিকিট দিয়েছিলেন সরকার ট্রাভেলস এর টিকিট কাউন্টারের সিরাজ মন্ডল।

সরকার ট্রাভেলস এর টিকিটে বড় বড় করে লেখা আছে ‘উন্নত সেবার নিশ্চয়তায় সরকার ট্রাভেলস।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে এক টিকিট ৩ জায়গায় বিক্রি করা ও ঈদে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা কি উন্নত সেবার নিশ্চয়তা? আর এই নৈরাজ্য চলবে কতদিন?


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:২৮
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৪৬
    যোহরদুপুর ১১:৫২
    আছরবিকাল ১৬:১৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:৫৯
    এশা রাত ১৯:২৯
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!