বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

পাবনায় এখনও প্রার্থীজট জটিলতায় জামায়াত-বিএনপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার জামায়াত- বিএনপি এখনো নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি।

প্রার্থী তালিকা, প্রচার-প্রচারনার জন্য কমিটি গঠনসহ কোন কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

পাবনার একটি আসন ছাড়া বাকি ৪টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

বাতিল হওয়া প্রার্থী হলেন পাবনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাসাদুল ইসলাম হীরা। অবশ্য তিনি মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করেছেন।

কমিশনে আপিলের শুনানি হবে। এই শুনানিতে কি ফলাফল আসবে তার ওপর নির্ভর করছে পাবনা-৩ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রনয়ন।

এদিকে পাবনা-১,৪ ও ৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলাম, রয়েছে বিএনপির প্রার্থীও।

এই আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দিতায় নেমেছেন বিএনপি- জামায়াত তথা ঐক্যফ্রন্টের হেভিওয়েট প্রার্থীরা।

ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন তারা এবং সবগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত জোটের বা ফ্রন্টের কোন কোন প্রার্থীরা চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন তা ঠিক করতে পারেনি পাবনা বিএনপি- জামায়াতের নীতি নির্ধারকরা। এ নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের ব্যাপক কৌতুহল।

পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) ও পাবনা-৫ (সদর) আসন দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ নেতার দখলে ছিল।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আসন দুটিতে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছিলেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

কিন্তু পাবনা-৫ আসনে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী বর্তমানে কারা অন্তরীন শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরামে যোগ দিয়ে পাবনা-১ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

পাবনা-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম সরদার। এ আসন থেকে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডলও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

অপরদিকে পাবনা-১ আসনে বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল বাসেত খান, পাবনা-৫ আসনে (সদর) জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসাইন দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আবার পাবনা-১ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমানও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এতে করে পাবনা-১,৪ ও ৫ তিনটি আসনই জামায়াতের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবশ্য জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বলেন, এই জেলার তিনটি আসনে তাঁদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তাঁরা আশা করছেন, তিনটি আসনেই বিএনপি জোট থেকে তাঁদের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিবে।

আর পাবনা জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, পাবনা-৫ আসন বিএনপিরই ছিল। আগে জোটের কারণে জামায়াতকে ছাড় দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কোনো আসনই এখনো পর্যন্ত জামায়াতকে দেওয়া হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র জানায়, ৯ ডিসেম্বরের আগে ৩০০ আসনে বিএনপি তার একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাবনার কোন আসনে দলের মূল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া বা বিকল্প প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাকে রাখা যায় তা ঠিক করা হচ্ছে।

তবে পাবনায় জামায়াত-বিএনপির এই প্রার্থীজট জটিলতায় কে হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

উল্লেখ্য: নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুয়ায়ী আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগেই কে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী তা চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।

 

 

  • 412
    Shares


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ…

© All rights reserved 2018 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!