রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১০:১৭ অপরাহ্ন

পাবনায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার- ৩

স্টাফ রিপোর্টার : পাবনায় মুন্নাফ হোসেন নামে এক কিশোরের মাথার চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- স্কুল কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওহিদুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস‌্য মনিরুজ্জামান। এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে সালিশের মাধ‌্যমে তারা মুন্নাফকে এ শাস্তি দেন।

এর আগে এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মুন্নাফের বাবা মঞ্জু শেখ বাদী হয়ে সদর থানায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে একই গ্রামের মুন্নাফ হোসেন নামের এক কিশোর। পরে ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মুন্নাফ পালিয়ে যায়।

ঘটনার দু’দিন পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুল মাঠে সালিশ বৈঠক করেন স্কুল কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওহিদুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামানসহ গ্রাম প্রধানরা। সালিশের রায় অনুযায়ী মুন্নাফকে বেত্রাঘাত করেন তার বাবা মঞ্জু শেখ। এরপর অন‌্যরা মুন্নাফের মাথার চুল কেটে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে স্কুলমাঠে ঘোরান। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মামলা নথিভূক্ত করে।

মুন্নাফের বাবা মঞ্জু শেখ জানান, তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রাম‌ প্রধানদের উপরে কথা বলার ক্ষমতা তার নেই। তাই তিনি প্রথমে চুপ করেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি মামলা করেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ছেলেটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ছোট একটা ভুলের জন্য এত বড় শাস্তি হবে ভাবতে পারিনি।’

মুন্নাফের মা বলেন, ‘ছেলে একটা ভুল করেছিল। শাস্তি পাইছে। ছেলের বাবাই তাকে শাসন করছে। আমাদের আর কিছু বলার নাই। ’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্কুলের সহকারী শিক্ষক আজমত আলী বলেন, ‘মূলত গ্রামের প্রধানরা মিলে এই সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। এখানে স্কুলের কারো কিছু বলার ছিল না। তবে সালিশের রায়টি ছিল মধ্যযুগীয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এমনটি করা ঠিক হয়নি। ’

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সালিশ বা মারধর এসব ঘটনার সাথে স্কুলের শিক্ষকরা কেউ জড়িত না। মূলত বিচারটা করছে গ্রামের প্রধানরা।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, তারা আইন হাতে তুলে নিয়ে ঠিক কাজ করেননি। তারা পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। সালিশ করার এখতিয়ার তো তাদের নেই। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরে অভিযুক্ত প্রধান তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


    পাবনায় নামাজের সময়সূচি
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ০৪:৪০
    সূর্যোদয়ভোর ০৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১১:৪৩
    আছরবিকাল ১৫:৫২
    মাগরিবসন্ধ্যা ১৭:২৯
    এশা রাত ১৮:৫৯
© All rights reserved 2019 newspabna.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: Content is protected !!